সর্বশেষ সংবাদ
পাবনায় খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাসহ তার বাবা ও স্ত্রীর পাঁচ বছর করে কারাদন্ড জোরেশোরে চলছে রোপা-আমন রোপনের কাজ একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটির আট প্রকল্প অনুমোদন রাজশাহী নগরীতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের স্টিয়ারিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ‘রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে গুজবে কান দিবেন না’ সাপাহারে বীর মুক্তিযোদ্ধা বছির উদ্দিনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন শেখার স্বাধীনতা ও মানসিক বিকাশের দিকে নজর দিলে শিশুরা আবার আনন্দের সাথে স্কুলমুখী হবে জিআই খ্যাত রাজশাহীর পানপাতার দাম কম, অর্থনৈতিক সংকটে কৃষক-শ্রমিকরা প্রবাসী কার্ডধারীদের ভূমিসেবা সহজ ও দ্রুত করার নির্দেশ দিলেন ভূমিমন্ত্রী পবায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ পরিবারের মধ্যে ঢেউটিন ও গৃহনির্মাণের অর্থ বিতরণ

গরু চুরির অপবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখলেন চেয়ারম্যান!

Paris
Update : মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

এফএনএস : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় গরু চুরির অভিযাগ তুলে ইউনিয়ন মুক্তিযাদ্ধা কমান্ডার আকবর আলী ওরফে ধনী (৮১) বীর মুক্তিযাদ্ধাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে চেয়ারম্যান বাড়ির টর্চার সেল নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। চেয়াম্যান নিজ বাড়িতে তৈরি টর্চার সেলে মুক্তিযোদ্ধাকে নির্যাতনের পর আবার আরেক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন সেই আলোচিত চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন। এর আগেও এক যুবককে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

গত সোমবার দুপুরে চেয়ারম্যান মহির উদ্দিনের তৈরী টর্চার সেলে চেয়ারের সাথে বেঁধে রাখার বিষয়টি নির্যাতিত মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী (ধনী) নিশ্চিত করেছেন। গত রোববাব বীর মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ পেয়ে হাতীবান্ধা থানা পুলিশের ওসি তদন্ত রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এর আগে গত শনিবার সকালে উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের জাওরানী এলাকায় চেয়ারম্যানের নিজ বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটেছে। নির্যাতনের শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী (ধনী) উপজেলার উত্তর জাওরানী গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া সে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। রোববাব সকালে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আকবর আলী (ধনী) ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহির উদ্দিনর বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

জানা গেছে, ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা গরু চুরির অভিযোগ তুলে বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী ধনীকে নিজ বাড়ি থেকে ইউপি চেয়ারম্যান ও চৌকিদার তাকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর চেয়ারম্যান ও চৌকিদার ওই মুক্তিযোদ্ধাকে চেয়ারের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হলে মুক্তিযোদ্ধার বাঁধন খুলে দেওয়া হয়। স্থানীয়রা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী ধনীকে চেয়ারের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। পরে লোকজন ভিড় করলে তার হাতের বাঁধন খুলে দেওয়া হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী ধনী জানান, ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা গরু চুরির অভিযোগ তুলে চেয়ারম্যান ও চৌকিদার জোরপূর্বক আমাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে রাখে।

আমি অসুস্থ এজমা রোগী তার পরেও আমাকে দড়ি দিয়ে তারা বেঁধে রাখেন। এরপর আমি লজ্জায় মাথা নিচু করে বসে থাকি। এ সময় দুই চোখ আমার পানি ঝরতে থাকে। দেশ স্বাধীন করে এই প্রতিদান পেলাম আমি। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এর সঠিক বিচার চাই। স্থানীয়রা বলছেন, ছেলে অপরাধ করলে তার শাস্তি হবে। ছেলের অপরাধে কেন তার বাবা অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হলো। একজন চেয়ারম্যান কিভাবে বাবার বয়সী একজন কে গরু চুরির অভিযোগ তুলে বেঁধে রাখেন। এর বিচার হওয়া উচিত। এ বিষয়ে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন বলেন, মুক্তিযাদ্ধাকে বেঁধে রাখা কিংবা কোন প্রকার মারধর করা হয়নি। তার ছেলে গরু চুরির সাথে জড়িত আছেন তাই তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে এসে আমার বৈঠক খানায় বসানো হয়েছে।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এরশাদুল আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থল ওসি তদন্তকে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১৬ মে নুরুজ্জামান নামে এক যুবককে চেয়ারম্যানের ওই বাড়ির টর্চার সেলে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের পর ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন চেয়ারম্যান, তার ছেলে জাহাঙ্গীর ও ভাই মনসুর হেলাল। এরপর গত বছর ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের তিনজন গ্রাম পুলিশ মাদকদ্রব্য নিয়ে পুলিশের নিকট আটক হয়।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris