সর্বশেষ সংবাদ
‘রাজশাহীর আবাসন খাতে চরম বিপর্যয়’ মালয়েশিয়া-চীন সফরের অর্জন দেশের মানুষের : প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সামাদ, সম্পাদক আসাদ রাজশাহী কারাগারে বাবার কোলে ওঠার সুযোগ পেলো ফুটফুটে শিশু ইতিহাস গড়লো রুয়েটের ‘টিম বেঙ্গলসাব’ মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস উপলক্ষে রাজশাহীতে র‌্যালি, আলোচনাসভা রাজশাহী নগরীতে ৬৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে পবায় প্রতিবন্ধী-দুঃস্থদের মাঝে সহায়তা বিতরণ করলেন ডিসি রোববার থেকে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হচ্ছে : হাইকমিশনার রাজশাহীর আমের বাজারে জমজমাট বেচাকেনা, ব্যস্ত চাষি-ব্যবসায়ীরা

ইতিহাস গড়ে জয় পেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

Paris
Update : সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

এফএনএস : চট্টগ্রামে প্রথম টেস্ট দিয়েই ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণে অভিষেক হয়েছে কাইল মায়ার্সের। ম্যাচটা তার জন্য অভিষেকের হওয়ায় পাহাড়সম চাপ ছিল তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই চাপকে জয় করেই গড়লেন ইতিহাস। বাংলাদেশের বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে জয়ের জন্য ৩৯৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে অভিষেক ম্যাচেই ডাবল সেঞ্চুরি পূরণ করেছেন। যে অনবদ্য ইনিংস খেলে একাই ম্যাচটাকে নিয়ে গেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতের মুঠোয়। সফরকারীরা জিতেছে ৩ উইকেটে। অভিষেক টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করার কীর্তি বিশ্ব ক্রিকেটে বিরল। ক্যারিবীয় এই ব্যাটসম্যান ৬ষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে এমন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ২০০৩ সালের পর প্রথমবার কোনও ব্যাটসম্যান এই কীর্তি গড়লেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের লরেন্স রোওয়ের পর দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন তিনি। কিন্তু শনিবার ম্যাচের চতুর্থ দিন পরিস্থিতিটা মোটেও তাদের হয়ে কথা বলছিল না। আগের দিন শেষ সেশনে ৫৯ রান তুলতেই তারা হারিয়ে ফেলেছিল ৩ উইকেট। এখান থেকে অবিশ্বাস্য এক লড়াইয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছেন মায়ার্স। অভিষেক হওয়া আরেক ব্যাটসম্যান এনক্রুমা বোনারকে সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে গড়েছেন ২১৬ রানের অসাধারণ জুটি। আর এই জুটিই সফরকারীদের জয়ের পথটা সুগম করেছে শেষ পর্যন্ত। বোনার ৮৬ রানে সাজঘরে ফিরলেও মায়ার্স উইকেট আঁকড়ে পড়ে ছিলেন পুরোটা সময়। স্পিনবান্ধব উইকেটে অন্য ব্যাটসম্যানরা যেখানে অতিরিক্ত সাবধানতা থেকে বাজে বলও সমীহ করে খেলেছেন, মায়ার্স সেখানে খেলেছেন হাত খুলে! তাতে অবশ্য তিনি সফল হয়েছেন।

তবে ভাগ্যদেবীও সঙ্গী ছিল। কারণ মায়ার্স-বোনারের বড় জুটিতে কৃতিত্ব ছিল বাংলাদেশি ফিল্ডারদেরই। দুইবার জীবন পেয়েছেন মায়ার্স। ৪৯ রানে স্লিপে দেওয়া তার ক্যাচ মিস করেছেন শান্ত। এরপর এলবিডাব্লিউতে আউট হলেও রিভিউ নেননি মুমিনুল। একই ভুল হয়েছে বোনারের বেলাতেও, তার বেলায়ও রিভিউ নেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। পরে রিপ্লেতে দেখা গেছে, লেগস্টাম্প উপড়ে ফেলত বলটি। এতোকিছুর পরও এই দুই ব্যাটসম্যান নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সংকল্পবদ্ধ ছিলেন। ৩৭ রানে অপরাজিত থেকে শেষ দিন খেলতে নেমেছিলেন মায়ার্স। শুরু থেকে বাংলাদেশের বোলিং লাইনআপকে এলোমেলো করে দিয়েছেন। দিনের প্রথম ঘণ্টায় তুলে নেন ফিফটি।

৮৯ বলে ফিফটি পেয়েছিলেন। তিন অঙ্কে যেতে খেলেন আরও ৮৯ বল। মোস্তাফিজের বলে স্লিপ কর্ডনের ওপর দিয়ে বল সীমানার বাইরে পাঠিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা মায়ার্সকে পুরো ইনিংসে আর থামানো যায়নি। দলকে জয়ের বন্দরে ভিড়িয়ে নিজে অপরাজিত থাকেন ২১০ রানে। তার এমন ইনিংসের পর চট্টগ্রামে রচিত হলো ‘মায়ার্স কাব্য’। নাঈম হাসানের বল অফ সাইডে ঠেলে ১ রান নিয়ে বিশ্বের ৬ষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে ইতিহাসের অংশ হয়ে যান তিনি। সবমিলিয়ে প্রায় চার সেশন ব্যাটিং করে ৩১০ বল মোকাবেলা করেছেন অভিষিক্ত এই ব্যাটসম্যান।

২০ চার ও ৭ ছক্কায় মায়ার্স তার ২১০ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন। মায়ার্সের আগে অভিষেকে পাঁচ ব্যাটসম্যান ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকালেও তাদের কারোরই চতুর্থ ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি ছিল না। মায়ার্স এই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছেন। শেষবার বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেকে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন জ্যাক রুডলফ। ২০০৩ সালে চট্টগ্রামেই ২২২ রান করেছিলেন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান। এর আগে অভিষেকে ডাবলের স্বাদ পেয়েছেন টিপ ফস্টার (২৮৭), লরেন্স রোয়ে (২১৪), ম্যাথু সিনক্লেয়ার (২১৪) ও ব্রেন্ডন কুরুপ্পু (২০১)।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris