স্টাফ রিপোর্টার : একবেলা নয়, সারাদিন অটোরিকশা চালানো, গন্তব্যে ভাড়া বৃদ্ধিসহ কয়েকদফা দাবিতে রাজশাহী শহরে বিক্ষোভ করেছে চালকরা। গতকাল রবিবার সকাল থেকে নগরীতে অঘোষিত ধর্মঘট পালন করেন তারা। গতকাল সকাল থেকে দুপুর অবদি নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। এসময় তারা বিভিন্ন যানবাহনে ভাঙচুর চালায় বলেও অভিযোগ আছে। পরে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপুরের দিকে নগর পিতা খায়রুজ্জামান লিটন আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অটোরিকশার ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিলে ধর্মঘট তুলে নিয়ে তারা পুনরায় অটোরিকশা চালানো শুরু করে।
এদিকে হঠাৎ অঘোষিত অটোরিকশা ধর্মঘটের কারণে অনেকটাই দুর্ভোগে পড়েন নগরী ছাড়াও শহরের উপকন্ঠের যাত্রীরা। বাধ্য হয়েই যাত্রীদেরকে রিকশা, ভ্যান, সিএনজি ও মাহিন্দ্রায় চলাচল করতে হয়েছে। ধর্মঘটের এই সুযোগে রিকশাচালকরা যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেছে বলেও জানান ভুক্তভোগীরা। দশ টাকার ভাড়া বিশ টাকা, বিশ টাকার ভাড়া চল্লিশ টাকা। আর ত্রিশ টাকার ভাড়া সত্তর থেকে আশি টাকা পর্যন্ত নিয়েছে রিক্সাচালকরা বলে জানান যাত্রী সাধারণ। রেলগেট থেকে কোর্ট যাবার জন্য রিক্সা খুজছিলেন নওহাটা থেকে সিএনজি যোগে নগরীতে আসা ইকবাল। তিনি কোর্ট যাবার জন্য রিক্সা ভাড়া করতে গিয়ে হতচকিয়ে যান।
কোর্টের ভাড়া তার কাছে চাওয়া হয় আশি টাকা! অবশেষে তিনি সত্তর টাকায় যান নিজের গন্তব্য স্থানে। অন্যদিকে, রেলগেট থেকে সাহেব বাজারের ভাড়া যাত্রীদের কাছে চাওয়া হয় ত্রিশ টাকা। শিরোইল কলোনী নিবাসি সুজন ভদ্রা যাবার জন্য স্টেশন মোড় থেকে রিক্সা ভাড়া করার জন্য একটি রিক্সা থামালে রিক্সাচালক ঐ যাত্রীর কাছে ভাড়া চেয়ে বসেন চল্লিশ টাকা। এমন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই গতকাল যাত্রীরা নিজেদের গন্তব্যস্থানে গেছেন। আবার কেউ কেউ অর্থ বাঁচানোর জন্য গন্তব্যস্থানে যেতে ভাড়া করেছিলেন পায়ে চালানো ভ্যান। একটি ভ্যানে বেশ কয়েকজন বসে গেছেন নিজেদের গন্তব্যস্থানে।
অন্যদিকে, রাজশাহীর বাইরে থেকে আসা বাসযাত্রীরা নিজেদের ব্যাগ, ল্যাগেজ ও পরিবার নিয়ে ভাড়া করেছিলেন ভ্যান, সিএনজি, মাহিন্দ্রা সহ অন্যান্য থ্রী হুইলার বাহনগুলোকে। ধর্মঘটের এই সুযোগে সমস্ত নগরীজুড়ে দাঁপিয়ে বেড়িয়েছে ভ্যান সিএনজি আর মাহিন্দ্রাসহ শহরের বাইরে চলাচলকারী অন্যান্য বাহনগুলো। নগরীতে দ্রুতগতিতে চলাচলরত সিএনজি আর মাহিন্দ্রার জন্য রিক্সা ও ভ্যান চালকদের পড়তে হয়েছে যথেষ্ট বিপাকে। রিক্সাচালক রহিম, উজ্জল ও হাসিবুর বলেন, শহরের ভেতরকার রাস্তা দিয়ে সিএনজি আর মাহিন্দ্রা যেভাবে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়েছে তাতে করে আমরা অনেকটাই শঙ্কিত ছিলাম সম্ভাব্য দূর্ঘটনা নিয়ে।
গতকাল সকাল থেকে নগরীর অটোরিক্সা স্ট্যান্ডগুলো ছিল পুরোটাই ফাঁকা আর কোলামুক্ত। তবে, অটো না থাকলেও রিক্সা, ভ্যান আর সিএনজিতে গিজগিজ করছিল নগরীর বেশ কয়েকটি মোড়। এরমধ্যে অন্যতম হলো, রেলগেট, ভদ্রা মোড়, লক্ষিপুর, তালাইমারি, সাহেব বাজারসহ আরো একাধিক বড় বড় মোড়গুলো। পূর্বঘোষিত কোন প্রকার পদক্ষেপ ছাড়াই হঠাৎ করে এই ধরনের ধর্মঘটের আহ্বান নগরীতে চলাচলকারীরা পড়েছিলেন যথেষ্ট। কেউ কেউ অটোরিক্সার জন্য দাড়িয়ে থেকেছেন পঁচিশ-ত্রিশ মিনিট ধরেও। কিন্তু তাতেও কোন অটো না পেয়ে বিষয়টি অন্যদের মুখ থেকে শোনার পর কেউ কেউ পায়ে হেটেও পারি দিয়েছিন গন্তব্য স্থানে। আর, আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যস্থলে গেছেন রিক্সা যোগে। বিষয়টি নাগরিক সেবার প্রতিকুল একটি বিষয় হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে বলেও মন্তব্য অনেকের।
উল্লেখ্য যে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকে রাজশাহী মহানগর ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতির স্বাক্ষরিত একটি নতুন ভাড়া তালিকা যাত্রীদের উপর অনৈতিক ভাবে চাঁপিয়ে দেওয়া হয়। যেখানে এক কিলোমিটারের মধ্যে সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয় পাঁচ টাকা। আর প্রতিটি রুটে পূর্বের ভাড়ার সাথে অতিরিক্ত হিসেবে যোগ করা হয় তিন থেকে পাঁচ টাকা করে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক চালকরা এক কিলোমিটারের মধ্যেও যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করেন আট টাকা করে। যেটি নিয়ে ঐসময় যাত্রীসাধারণের মধ্যে ক্ষোপের সৃষ্টি হয়।
এবং সাধারণ যাত্রীরা রাসিকের মাননীয় মেয়র মহোদয়ের নিকট একাধিকবার আপত্তি জানান। যার প্রেক্ষিতে মেয়র মহোদয় বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে সার্বিক দিক বিবেচনায় পরবর্তীতে একটি সিদ্ধান্ত নেবার কথা সকলকে জানাই। আগামী ১৫ ফ্রেব্রুয়ারি নতুন ভাড়া সংক্রান্ত একটি চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানান রাসিক কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, সাধারণ যাত্রীরা তাদের চাওয়া পাওয়া সম্পর্কে বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া যেনো আমাদের উপর চাঁপিয়ে না দেওয়া হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সজাগ থাকলে সকলেই উপকৃত হবেন।