বৃহস্পতিবার

২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
ঈদের পরদিনই পরিচ্ছন্ন নগরী পাবেন রাজশাহী মহানগরবাসী : রাসিক প্রশাসক নগরীর দুই হত্যা মামলায় ৯ জন গ্রেপ্তার, তালিকা হচ্ছে কিশোর গ্যাং সদস্যদের নাচোলে পাল্টে যাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবার চিত্র পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তি উদ্যোগে সরকারি খাল খননে নতুন নির্দেশনা দিলো ভূমি মন্ত্রণালয় আরএমপি কমিশনার-রাসিক প্রশাসকের মধ্যে শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক বিনিময় সরকার জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর : এমপি মিলন ক্ষুধা মেটাতে সন্তান বিক্রি করছেন আফগানরা সেবা প্রদান করা করুণা নয়, রাষ্ট্রের দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী মোহনপুরে সপ্তাহব্যাপী ‘ভূমি সেবা মেলা’র শুভ উদ্বোধন

যে গ্রামে মানুষের ভালোবাসায় আবাস গড়েছে শামুকখোলের দল

Paris
Update : রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৩

শাহীন আলম, দুর্গাপুর
রাজশাহীর দুর্গাপুর পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের প্রায় সব মাঠের ধানখেতে এখন দেখা মিলবে পাখিদের দল। দূর থেকে দেখতে সাদা বকের মতো মনে হলেও লম্বা সরু দুটি পা নিয়ে ওড়াউড়ি করা পাখিটির নাম শামুকখোল। খেত থেকে অদ্ভুত গঠনের লম্বা দুটি ঠোঁট দিয়ে শামুক খুঁজে বেড়ায় এরা। দীর্ঘ এক যুগ ধরে এই পাখির দেখা মিলছে রাজশাহীর দুর্গাপুর পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামে। স্থানীয় আনসার আলী নামের এক ব্যক্তির বাঁশঝাড়ে আবাস গড়েছে শামুকখোলের দল। গ্রামের লোকজন ভালোবাসায় আগলে রেখেছে পাখিগুলো। দেবীপুর গ্রামে শামুকখোল পাখি ধরা ও মারা নিষিদ্ধ। পাখির কলকাকলিতেই ঘুম ভাঙে এই গ্রামের মানুষের। খুব সকালে দল বেঁধে খাবারের সন্ধানে মাঠে মাঠে বেরিয়ে যায় পাখিগুলো। গ্রামের লোকজন জানান, এখন বোরো মৌসুম। বেশির ভাগ সময়ই ধানখেতে চরে শামুকখোল। সারা দিন ঘুরেফিরে, খেয়েদেয়ে সন্ধ্যার আগেই পাখিগুলো ফিরে আসে—আশ্রয় নেয় গ্রামের বাঁশঝাড়, শিমুল ও কড়ইগাছের ডালে। গ্রামের লোকজনও পরম মমতায় নিরাপদ আশ্রয় করে দিয়েছে এদের। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষজন পাখিগুলো দেখলেই গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়িয়ে থাকে। গ্রামে নেই কোনো পাখি শিকারি, নেই ¯’ানীয়দের শ্যেন দৃষ্টি। অনুকূল পরিবেশ পেয়ে প্রতিবছর বারবারই ফিরে আসে পাখির দল, থাকে একটানা প্রায় ছয় থেকে আট মাস।
দেবীপুর গ্রামের কামারুজ্জামান আলেক বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে ধানখেতে গেলেই দেখা মেলে শামুকখোল পাখির। দেখতেও ভালো লাগে। প্রথমে দেখতে বকের মতো মনে হলেও পরে আমরা খেয়াল করি পাখিগুলো বকের চেয়ে একটু বড়। আর পাখিগুলো কালো আর ধূসর রঙের। আলেক বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে এই গ্রামে পাখিগুলো দেখতে পাই। তবে আগের চেয়ে এ পাখির সংখ্যা এখন একটু কম দেখা যায়। আমরা গ্রামবাসী মিলে এই শিকারিদের বাধা দিই। এর ফলে পাখিগুলো নির্ভয়ে, নিশ্চিন্তে এখানে বসবাস করছে।থ
একই গ্রামের কৃষক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এই পাখিগুলো ধানখেতে থাকা শামুক আর পোকা খেয়ে থাকে। এর ফলে আমাদের খেতেরও উপকার হয়। এ ছাড়া পাখির বর্জ্যে সারের মতো কাজ করে। তাই কৃষকেরা জমিতে পড়লে এ পাখি তাড়ায় না। কারণ ধানখেত পোকামাকড় থেকে রক্ষা পাচেছ আর পাখির বর্জ্যে সারও হচেছ।থ উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আয়নাল হক বলেন, ‘শামুকখোল পাখি দলবদ্ধ এবং খাবারের প্রাচুর্য থাকলে অল্প জায়গায় গাদাগাদি করে থাকতে পছন্দ করে। এই পাখির ঠোঁট অনেকটাই জাঁতাকলের মতো কাজ করায় শক্ত শামুকগুলো তারা অনায়াসে গিলে ফেলতে পারে। ফসলের জন্য পাখিটি উপকারী।থ


আরোও অন্যান্য খবর
Paris