চারঘাট প্রতিনিধি
জায়গাটির নাম খুদির বটতলা। খুদি নামে এক ব্যক্তি প্রায় শতবর্ষ আগে গাছটি লাগিয়েছিলেন। তাঁর নাম অনুসারেই রাজশাহীর চারঘাট-বাঘা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের এই জায়গাটি খুদির বটতলা হিসাবে পরিচিত। বর্তমান সময়ের কেউ খুদি নামের সেই ব্যক্তিকে চেনেন না কিংবা জানেন না। কিন্তু তাঁর লাগানো বটগাছটিকে কাটতে দেবেন না সেখানকার গ্রামবাসী। শতবর্ষী গাছটি ঘিরে স্থানীয়দের অনেক স্মৃতি। গাছটি তাঁদের ঠিকানা হয়ে উঠেছে। তাঁরা ঠিকানাহীন হতে চান না। কিন্তু গাছটি কাটার জন্য দরপত্র করা হয়েছে। ঠিকাদার গাছ কাটতে চান। এজন্য শেষমেশ শত শত গ্রামবাসী রবিবার মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছিলেন। চারঘাট উপজেলার খুদির বটতলা মোড়ে গাছের সামনেই ওই মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এই গাছ তাঁরা কোনোভাবেই কাটতে দেবেন না। কেউ গাছ কাটতে এলে তাঁরা সামনে গিয়ে দাঁড়াবেন। আগে তাঁদের শরীরে পড়বে কুড়ালের কোপ। এরপর গাছে। তাঁরা মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে বটগাছ নিয়ে অনেক স্মৃতিচারণামূলক কথাও বলেন।
জানা যায়, শতবর্ষী বটগাছটি রাজশাহী গণপূর্ত অধিদফতরের মাটিতে আছে। সম্প্রতি গাছটির পশ্চিম পাশের মার্কেটের মালিক সোহেল রানা বটগাছটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে জানিয়ে তিনিসহ স্থানীয় কিছু ব্যক্তি গাছটি কেটে অপসারণের জন্য ইউএনও’র কাছে আবেদন করেন। আবেদনটি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়। জেলা প্রশাসক গণপূর্ত বিভাগের সাথে সমন্বয় করে গাছটির বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করেন। গঠিত কমিটি সরেজমিন তদন্ত করে গত ২৯ নভেম্বর উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে গাছটি মাত্র ১৭ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি করেন। আজিবার রহমান নামের এক ইটভাটা মালিক গাছটি কিনেছেন। প্রশাসন তিনদিনের মধ্যে তাকে গাছটি কেটে অপসারণ করতে বলেছেন। এরপর শতবর্ষী এই গাছটি কাটতে গেলে স্থানীয় গ্রামবাসীর বাঁধার মুখে পড়েছেন ওই ক্রেতা। গ্রামবাসী দাবি করেছেন, গাছটি কাটার বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না। তাঁদের কাছে কেউ গাছটির বিষয়ে জানার প্রয়োজনও মনে করেননি। সেজন্য পরবর্তীতে গ্রামের ১০০ জন বাসিন্দা গণস্বাক্ষর করে বিভিন্ন দপ্তরে গাছটিকে বাঁচানোর জন্য আবেদন করেছেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ গাছটিকে বাঁচানোর পক্ষে এতে সই দিয়েছেন। পরে রবিবার সকালে গ্রামবাসী গাছটিকে না কাটার দাবিতে মানববন্ধন করলেন।
মানববন্ধনে স্থানীয় গ্রামবাসী পলাশ উদ্দিন বলেন, সোহেল রানার মার্কেটের সামনে বটগাছ। গাছটি অপসারণ করলে সরকারি জায়গাটি ব্যবহার করে তিনি মার্কেটের পরিধি বাড়াতে পারবেন। সেজন্য প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে গাছটি কাটাতে রাজি করিয়েছেন। কোনো ব্যক্তির জমিতে গাছের ডাল গেলে সেগুলো অপসারণ করতে পারেন। পুরো গাছটি কাটা যাবেনা। আরেক গ্রামবাসী উজ্জল হোসেন বলেন, শতবর্ষী এই গাছটি আমাদের অস্তিত্ব। গাছটির নামেই সবাই আমাদের গ্রামকে চেনেন। ড্রেনের কাজের সময় গাছটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে ভেঙে পড়ার মত অবস্থা তৈরি হয়নি। গাছটিকে বাঁচাতে আমরা সবকিছু করবো। সরকারের উচিত না কেটে গাছটিকে বা়ঁচাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
স্থানীয় শলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, এলাকাবাসীর দাবির সাথে আমিও একমত। শত শত মানুষ চাচ্ছে গাছটি যেনো না কাটা হয়। শতবর্ষী বট গাছটিকে বাঁচিয়ে রাখা এখন আমাদর দায়িত্ব। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সোহরাব হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের গঠিত কমিটি তদন্ত করে গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ পেয়েছে। এরপর বন বিভাগ ও কমিটির উপস্থিতিতে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে গাছটি বিক্রি করা হয়েছে। এখন করণীয় কিছু নেই।