স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানা এলাকায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে পথরোধ করে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির একটি ভিডিও শুক্রবার (২২ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্যোশাল মিডিয়াতে ভিডিওটি দেখামত্র রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মানিত কমিশনার ফয়েজুল কবির রাজপাড়া থানা পুলিশকে এই কিশোর গ্যাং এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।
উল্লেখ্য যে কয়েকদিন পূর্বে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কোর্ট একাডেমীর নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া রাফিদ হোসেন রাফির সাথে একজন ছেলের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখ মোঃ রাফিদ হোসেন রাফি (১৩) তার স্কুল থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে বিকেল ৩ টার পরে রাজপাড়া থানার এলাকার ফুড অফিসের সামনে পৌঁছলে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন কিশোর পূর্বশত্রুতার জের ধরে তার পথরোধ করে। পরে তারা দলবদ্ধভাবে শক্তির মহড়া ও দাপট প্রদর্শন করে ভুক্তভোগীকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিলা-ফোলা জখম করে। এ সময় ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং সেখানে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় ব্যক্তি মোঃ আব্দুর রশিদ (৩৫) এগিয়ে এসে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেন। এসময় অভিযুক্তরা ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও প্রদান করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্ণিত ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা রাজপাড়া থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে রাজপাড়া থানা পুলিশ পরবর্তীতে ১। মোঃ জহুরুল ইসলাম @ সোহান (১৯), পিতা-মোঃ সুমন হোসেন, সাং-বুলনপুর গোয়ালপাড়া, থানা-রাজপাড়া, মহানগর রাজশাহী; ২। মোঃ সোহাগ হোসেন (১৯), পিতা-মোঃ সাবের আলী; ৩। মোঃ সানজিদ (১৮), পিতা-শাহাজাদা; ৪। মোঃ আবির (১৮), পিতা-অজ্ঞাত এবং ৫। মোঃ অনিক (১৯), পিতা-অজ্ঞাত, ২নং হতে ৫নং পর্যন্ত সকলের সাং-বুলনপুর ঘোষপাড়া, থানা-রাজপাড়া, মহানগর রাজশাহীর বিরুদ্ধে রাজপাড়া থানার মামলা নং-২৬, তারিখ-২২ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) আইন, ২০১৯ এর ৪/৫ ধারায় মামলা রুজু করে।
মামলার ১নং আসামি জহুরুল ইসলাম @ সোহান এবং ২নং আসামি সোহাগ হোসেনকে আজ ২২ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে তাদের নিজ নিজ বসতবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অবশিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।