শুক্রবার

২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহীতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আঞ্চলিক পর্যায়ের সমাপনী অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের স্বদেশ প্রেম চর্চার পাশাপাশি ইতিহাস জানা জরুরি : তথ্যমন্ত্রী দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ায় সেনা সদস্যরা ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছে : সেনাপ্রধান ঈদের পরদিনই পরিচ্ছন্ন নগরী পাবেন রাজশাহী মহানগরবাসী : রাসিক প্রশাসক নগরীর দুই হত্যা মামলায় ৯ জন গ্রেপ্তার, তালিকা হচ্ছে কিশোর গ্যাং সদস্যদের নাচোলে পাল্টে যাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবার চিত্র পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তি উদ্যোগে সরকারি খাল খননে নতুন নির্দেশনা দিলো ভূমি মন্ত্রণালয় আরএমপি কমিশনার-রাসিক প্রশাসকের মধ্যে শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক বিনিময় সরকার জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর : এমপি মিলন

‘৭ বছর থেকে ৬৫টি শূন্য পদ নিয়ে চলছে পরিবার পরিকল্পনার কার্যক্রম’

Paris
Update : বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০২২

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
গত ৭ বছর থেকে ৬৫টি শূন্য পদ নিয়ে খুঁড়িয়ে চলছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়। গতবছর ডিসেম্বরে শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত ৯ মাসেও মৌখিক রেজাল্ট প্রকাশ করতে পারেনি জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। ফলে যোগ দিতে পারেনি ৬৫ জন জনবল। এতে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জেলার ৩৪টি ইউনিয়নের সেবাগ্রহীতারা। জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সভাপতি জেলা প্রশাসক। নিয়োগের সব প্রক্রিয়া শেষ করে ডিসি অফিসে জমা আছে। তিনি চাইলেই যে কোন মুহূর্তে মৌখিক পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে শূন্য পদগুলি পূরণ করতে পারবেন। অফিসিয়ালি সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করা আছে। এর আগে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর লিখিত পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। সেই রাতেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ৩২৫ জনের মেধা তালিকা প্রকাশ করে জেলা পরিকল্পনা কার্যালয়।

জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৩৪টি ইউনিয়নে প্রায় ৭ বছর থেকে ৬৫টি পদ শূন্য রয়েছে। শুধু তাই নয়, ৫টি উপজেলায় ২০ পরিদর্শক থাকার কথা সেখানে মাত্র রয়েছে ৩ জন। এতে চরম ব্যাহত হচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা সেবা। জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাকিন জানান, সর্বশেষ ২০১৫ সালে জনবল নিয়োগ হয়। এর পরে আর কোন জনবল নিয়োগ হয়নি জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে। ১৯৯৬ সালের জরিপ অনুযায়ি একজন কল্যাণ সহকারী ৯০০টি পরিবারে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু জনবল সংকটের কারনে বর্তমানে তা ১৫০০-১৭০০ পরিবারে দায়িত্ব পালন করতে হয়। তিনি আরও জানান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে কর্মরত পরিবার কল্যাণ সহকারীদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। এর বাইরে জনবলের ঘাটতি থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। যা পালন করা অসম্ভব। এতে শূন্য পদে সংশ্লিষ্ট এরিয়াগুলোর পরিবার কল্যাণ সেবা থেকে পুরোটায় বঞ্চিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিবার পরিকল্পনা সহকারী, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, পরিবার কল্যাণ সহকারী ও আয়া মোট ৪টি পদে ৬৫ জনকে নিয়োগ দেওয়ার লক্ষ্যে ২০২১ সালের ২২ জুলাই থেকে ২৬ জুলাই আবেদন আহ্বান করা হয়। সেখানে পরিকল্পনা সহকারী ও পরিদর্শকের ৪টি পদে শুধু পুরুষরা আবেদন করে। কল্যাণ সহকারী ৫৯ টি এবং আয়া পদে ২ জন শুধুমাত্র মহিলা প্রার্থীরা আবেদন করতে পারে।
গত ২৪ ডিসেম্বর ৬৫টি পদের বিপরীতে লিখিত পরীক্ষায় ৩২৫ জন চাকুরী প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য তালিকা প্রকাশ করে। পরে ২৭ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজের সভাপতিত্বে ভাইভা অনুষ্ঠিত হয়। ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি।

পরিবার কল্যাণ সহকারী পদে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চাকুরি প্রত্যাশী বলেন, লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা দেয়ার পর আমরা দীর্ঘ ৯ মাস ধরে অপেক্ষায় আছি। এই চাকুরির ফলাফলের উপর নির্ভর করছে আমাদের ভবিষ্যত। এই ফলাফল না পাওয়ার কারনে অন্য কোন কাজেও যোগ দিতে পারছি না। দোটানায় রয়েছে আমরা। কখন ফলাফল দিবে কেউ বলতে পারছে না। আদালতে রীটের কারনে দেরি হওয়ার অযুহাত দেখালেও গত প্রায় ৪ মাস আগেই রীট প্রত্যাহার করা হয়েছে। তৎকালীন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক বর্তমানে নারায়নগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে আছেন মঞ্জুরুল হাফিজ। এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, কল্যাণ সেবা ব্যাহত হচ্ছে, এ জন্যই মূলত ভাইভা ও লিখিত পরীক্ষার মার্কের উপর ভিত্তি করে যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছিল খুব কম সময়ের মধ্যে। এরপর বদলিজনীত কারণে সেটার ব্যাপারে আর আপডেট জানা নেই।

এই নিয়োগ পরীক্ষার সদস্য সচিব ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আব্দুস সালাম জানান, তৎকালীন জেলা প্রশাসক সবকিছু নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গেছেন। বাগেরহাটের এক কল্যাণ সহকারী নিয়োগ বিধি নিয়ে আদালতে একটি রিট ছিল। এজন্যই চূড়ান্তভাবে রেজাল্ট প্রকাশ করতে বিলম্ব হয়। তবে প্রায় চার মাস আগেই রিটটি প্রত্যাহার করে নেয় বাদী। এরপর অধিদপ্তর থেকে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। তিনি আরও জানান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিষয়ে গতমাসেই একটি মিটিং এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক সবকিছু ডিসি অফিসে পাঠানো হয়েছে। শুধু বর্তমান ডিসি চাইলেই যেকোন সময় ফলাফল প্রকাশ করতে পারবেন। এখন অফিসিয়ালি ফলাফল প্রকাশে আর কোন বাধা নেই। জেলা প্রশাসক একেএম গালিভ খাঁন মুঠোফোনে বলেন, পরীক্ষাটি আগের জেলা প্রশাসক দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে হয়েছিল। এনিয়ে সম্ভবত আদালতে একটি রীট আবেদন করা ছিল। তাই ফলাফল ঘোষণা ঝুলে আছে। আদালতের নির্দেশনা মেনে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাথে কথা বলে দ্রুত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris