বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার চূড়ান্ত ডাক দিলেন ৭ ই মার্চ । রেসকোর্স ময়দানে। বললেন-আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না, এদেশের মানুষের অধিকার চাই। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্র্মা, স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণের পর সারা বাঙলায় ছড়িয়ে পড়ল স্বাধীনতার তরঙ্গ। জেগে উঠল বাংলাদেশ। কিন্তু এই সময় স্বাধীনতাকামী বাঙালির পাশে তাদের সেই মহান নেতা নেই। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী। মহান নেতাকে পাশে না পেয়ে বাঙালি সাহস হারায়নি। এক মুজিব সাড়ে সাতকোটি মুজিবে পরিণিত হল। দীর্ঘ নয়মাস যুদ্ধ করে ছিনিয়ে আনলো বাংলার স্বাধীনতার সূর্য। স্বাধীনতার পরে আন্তর্জাতিক চাপে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাঁধ্য হল পাক সরকার। বঙ্গবন্ধু ফিরে এলেন স্বাধীন বাংলায়।-এফএনএস
বাঙালিকে কাছে পেয়ে তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়লেন। পাকিস্তানের কারগারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সেই নিকৃষ্ট পরিকল্পনার কথা জানালেন। বললেন,ধামার সেলের সামনে আমার জন্য কবর খোঁড়া হচ্ছিল। আমি বলেছিলাম, তোমরা আমার লাশটা আমার বাঙ্গালির কাছে দিয়ে দিও। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময় আমি বলে যাব, আমি বাঙ্গালী, বাংলাদেশ আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা”। তবে পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারেনি। সে আন্তর্জাতিক চাপে হোক আর বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্তের কাছ হার মেনে হোক। পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুর কাছে অত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়েছিল। পাকিস্তানীরা ব্যার্থ হলেও স্বাধীন বাংলায় অবস্থানকারী কিছু পাকিস্তানি মনোভাবের বাঙালি নামের কলঙ্কিত বিপথগামী সৈনিকরা সে কাজ করেছিল।
জাতির জনক স্বাধীন বাংলা গড়তে ব্যস্থ। অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। যুদ্ধ বিদ্ধস্ত বাংলাকে সোনার বাংলা গড়তে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর রোডের ৬৭৭ নম্বও বাড়িতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর স্ত্রী বেগম মুজিব , ছেলে শেখ কামাল , শেখ জামাল, শেখ রাসেল , পুত্রবধুরা এবং ভাই শেখ নাসের। তখন ও ভোর হয়নি। আকাশে হালকা হালকা আলো। বাড়িতে গার্ড পরিবর্তনের সময়। ডিউটিতে আছেন বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী এ এফ এম মহিতুল ইসলাম। রাত একটার দিকে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। হঠাৎ করে একটা ফোন এল। ঘুমের মধ্যে ফোন ধরলেন। ফোনের অপর পাশে স্বয়ং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তখন ঘড়িতে পাঁচটা বাজতে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু মহিতুল ইসলাম কে বললেন, পুলিশ কন্ট্রোল রুম এর সাথে যোগাযোগ কর।
এইমাত্র তিনি খবর পেয়েছেন তাঁর ভগ্নিপতি আব্দুর রব শেরনিয়াবাতের বাড়িতে আক্রমণ করা হয়েছে। মহিতুল পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ডায়াল করেন কিন্তু কিছুতেই সংযোগ পান না। তারপর তিনি গণভবন এক্সচেঞ্জ এর সাথে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন। অপর পাশে কেউ একজন ফোন ধরে , কিন্তু কোন কথা বলে না। বঙ্গবন্ধু অস্থির হয়ে মহিতুল ইসলাম কে জিজ্ঞেস করেন যে কেন তিনি পুলিশ এর সাথে যোগাযোগ করেননি! মহিতুল ইসলাম এই দুঃসংবাদ টি জানান।- যে তিনি কোথাও যোগাযোগ করতে পারছেন না। বিরক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু রিসিভারটি মহিতুল ইসলাম এর কাছ থেকে নিয়ে নেন। প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান বলছি , তিনি উচ্চারণ করেন। আর সাথে সাথে মহিতুল ইসলাম এর অফিস এর কাচ ভেঙে যায় গুলিতে। বঙ্গবন্ধু তখন ও বুঝতে পারেন নি যে তাঁকে হত্যা করার মিশন শুরু হয়ে গেছে। একথাও জানতে পারেননি যে এই সকাল তার জীবনের শেষ সকাল। প্রকৃতির সূর্য উঠলেও বাংলার স্বাধীনতার সূর্য উঁকি দিয়ে আবার অস্ত যাচ্ছে। সেই ভোর আবার অন্ধকারে ঢেকে গেল।