গভীর রাতে উত্তর গ্রিসের কাভালা শহরের কাছে গত শনিবার আটজন যাত্রী নিয়ে ইউক্রেনের একটি কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হয়। খবর রয়টার্স। ইউক্রেনভিত্তিক কোম্পানি পরিচালিত আন্তনভ-১২ বিমানটি গত শনিবার সার্বিয়া থেকে জর্ডানে যাওয়ার সময় বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্তের পর হতাহতের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। গ্রিসের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইআরটি জানিয়েছে, এটি ১২ টন ওজনের মালামাল বহন করছিল। একে বিপর্যয় বলে বর্ণনা করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়, ইঞ্জিনের ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পাইলট কাভালা বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু রানওয়েতে আর পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তার আগেই বিধ্বস্ত হয় বিমানটি এবং তাতে আগুন ধরে যায়। কয়েকটি ফুটেজে দেখা গেছে, অবতরণের আগেই বিমানটিতে আগুন ধরে গিয়েছিল এবং মাটিতে আছড়ে পড়ার পর তাতে বিকট বিস্ফোরণ ঘটেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাতটি ফায়ার সার্ভিস ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ক্রমাগত বিস্ফোরণের কারণে তারা বিমান বিধ্বস্তের জায়গায় যেতে পারেনি। রয়টার্স বলছে, বিধ্বস্ত কার্গো বিমানটিতে কী পণ্য ছিল তা স্পষ্ট নয়, তবে বিশেষ বিপর্যয় প্রতিক্রিয়া ইউনিট ঘটনাস্থলে তদন্ত করছে। ফায়ার ব্রিগেডের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমরা বিমানে থাকা পণ্যগুলোকে বিপজ্জনক উপাদান হিসেবে মনে করছি।’ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ইউক্রেন, সার্বিয়া বা জর্ডানের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। -এফএনএস
এদিকে সার্বিয়া জানায়, গ্রিসে ইউক্রেনীয় কোম্পানির একটি কার্গো প্লেন বিধ্বস্তে আট জন ক্রু নিহত হয়েছেন। রোববার(১৭ জলিাই) সার্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী নেবোজসা স্টেফানোভিক বলেন, ‘আন্তোনভ’ এএন-১২ প্লেনটি বাংলাদেশের জন্য সাড়ে ১১ টন অস্ত্র ও মাইন নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় সময় শনিবার রাতে বিধ্বস্ত হয়। শনিবার সার্বিয়া থেকে জর্ডান যাওয়ার পথে বিশাল উড়োজাহাজটি গ্রিসের কাভালা শহরের পালেওচরি গ্রামে ভয়াবহভাবে আছড়ে পড়ে। সার্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, উড়োজাহাজে থাকা সমরাস্ত্রগুলো সার্বিয়ায় তৈরি। সর্বশেষ গন্তব্য ঢাকায় পৌঁছানোর আগে কার্গো উড়োজাহাজটি জর্ডান, সৌদি আরব ও ভারতে যাত্রাবিরতি নেওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আইএসপিআরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ইঞ্জিনের ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পাইলট কাভালা বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু রানওয়েতে আর পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। কার্গো উড়োজাহাজ বিধ্বস্তে নিহত ক্রুদের পরিচয় নিশ্চিত করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কয়েকটি ফুটেজে দেখা গেছে, অবতরণের আগেই আগুন ধরে যায় এবং নামার পরপরই বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরাও বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।
অপরদিকে বাংলা ইনসাইডার থেকে জানা যায়, বিধ্বস্ত প্লেনে ছিল সেনাবাহিনী ও বিজিবির জন্য কেনা মর্টার শেল: আইএসপিআর‘বিপজ্জনক উপাদান’ নিয়ে গ্রিসে প্লেন বিধ্বস্ত গ্রিসের উত্তরাঞ্চলে কাভালা শহরের কাছে পালেচোরি গ্রামে একটি কার্গো প্লেন বিধ্বস্ত হয়ে আটজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (১৬ জুলাই) এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই প্লেনটিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবির জন্য কেনা মর্টার শেল ছিল বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। রোববার (১৭ জুলাই) আইএসপিআরের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।