মচমইল থেকে সংবাদদাতা : শান্তিপূর্ণ ভোটে নিজের বাক্সে নিলেন মাত্র ৪৩ ভোট। আজীবন করেছেন দল। দলের হয়ে তিন বার চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে¡ও থেকেছেন বহু বছর। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেও রেখে গেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক কিছুই পেয়েছেন তিনি। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের তালিকাতেও রয়েছেন সেই মানুষটি। বলছিলাম রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ১১ নং গনিপুর ইউনিয়ন পরিষদের তিন বারের সফল চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ এর কথা।
তিনি গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাঁর প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে অমান্য করে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন। এতে তিনি ভোট পেয়েছেন মাত্র ৪৩টি। যা বাগমারার ইতিহাসে বিরল। এদিকে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করায় তাঁকে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় পদ থেকে বহিস্কার করা হয়। এক সময় যে মানুষটির নেতৃত্বে চলেছে গোটা ইউনিয়ন। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে তাঁর নেতৃত্বেও পড়েছে ভাটা। দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
হেরে গেছে নৌকার প্রার্র্থী এস.এম. এনামুল হক। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নিজেও হারলেন। পাশাপাশি দলীয় প্রার্থীকেও হারালেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়েও তাঁর এমন কর্মকান্ডে বিষ্মত আওয়ামী লীগ। গনিপুর ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ হাজার ৭৫৮টি। ভোট পড়েছে ২৪ হাজার ৪৭৩টি। এরমধ্যে নষ্ট ভোটের সংখ্যা ২৬১টি। উক্ত নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন ৪জন প্রার্থী।
প্রার্থীদের মধ্যে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করে বিএনপি’র স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুজ্জামান রঞ্জু চশমা প্রতিকে ১২ হাজার ৪৬৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী এস.এম. এনামুল হক পেয়েছেন ১১ হাজার ৮১৪ ভোট। অন্যদিকে জাতীয় পাটির প্রার্থী আফসার সরদার লাঙল প্রতিকে পেয়েছেন ১৫৩ ভোট এবং তিন বারের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন-অর-রশিদ ঘোড়া প্রতিকে পেয়েছেন মাত্র ৪৩ ভোট।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, নির্বাচনের শুরু থেকে তিনি বিএনপি’র স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে অন্তরালে কাজ করে গেছেন। সে কারনে তাঁর সমর্থিত লোকজন বিএনপি’র স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন। এদিকে নৌকার পরাজিত প্রার্থী এস.এম. এনামুল হক বলেন, এবার গনিপুরে নির্বাচনের আগেই নৌকার গণজোয়ার উঠেছিল।
কোন ভাবেই আমার পরাজয় হওয়ার কথা না। পরিকল্পিত ভাবে আমাকে হারানো হয়েছে। সেই সাথে যে কেন্দ্রে আমি অনেক ভোটে পাশ করবো সেই কেন্দ্রে ভোট গণনার আগেই ফেসবুকে দেখছি সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থীর নাম। ভোট গণনার আগেই কিভাবে এই ঘটনা ঘটতে পারে। এটা পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে করা হয়েছে।