সোমবার

১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
উচ্চ রক্তচাপ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশনে ৫ দিন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ক্রীড়াকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে : মিনু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের নেতাদের বৈঠক তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার : মিলন সাংবাদিকসহ জনগণের সহযোগিতা কামনা করলেন আরএমপি কমিশনার মেয়েদের জন্য ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষা ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা যেন লোক দেখানো না হয় : জামায়াত আমির রাজশাহী কোর্ট কলেজে বরণ-বিদায় ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কাজী নজরুল ইসলাম সম্মাননা পেলেন কবি শামীমা নাইস ছোট্ট জান্নাতের মৃত্যু যেনো নাড়িয়ে দিলো প্রতিটি হৃদয়

রাজশাহীর বায়া সেফহোমে ধুমধাম তরে বিয়ে হলো অভিভাবকহীন অন্তরা-শিরিনার

Paris
Update : শনিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার : ‘অভিভাবকহীন এই দুই নারীকে ২০১০ সালে উদ্ধার করেছিল পুলিশ। একই বছর পঞ্চগড় ও রংপুরের আদালত তাঁদের এই সেফহোমে পাঠায়। ‘দীর্ঘ ১১ বছর থেকে তাঁরা সেফহোমে আছে। সংসার জীবনে ফিরলো অভিভাবকহীন অন্তরা ও শিরিনা।’ গতকাল শুক্রবার দুপুরে বায়া সেফ হোমে বিয়ের আসরের মোনাজাত শেষে এসব কথা সাংবাদিকদের বলেন সেফ হোমের ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল। তিনি আরো বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিয়ের ব্যবস্থা করার অনুমতি প্রদান করা হয়। এই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার জন্য রংপুর ও পঞ্চগর আদালতে তাদের জামিন নিতে হয়। শিরিন খাতুনের সঙ্গে ইসমাইল হোসেনের এবং অন্তরা বেগমের সঙ্গে মো. বিপ্লব এঁর সাথে পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছে।

বিয়েতে নিজেরা খুশি বলে জানিয়েছেন তাঁরা। অভিভাবকহীন দুই নারীর বিয়ে দিতে পেরে তিনিও খুশি। বিয়েতে দুই পক্ষের অতিথিসহ প্রায় ৩০০ মানুষকে দাওয়াত করা হয়েছিল। এই বিয়েতে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন রাজশাহী পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লসমী চাকমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ এহসান উদ্দীন ও রাজশাহী সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা. হাসিনা মমতাজ, সহকারী পরিচালক ড. আব্দুল্লা আল ফিরোজ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও দুই বরের পক্ষ থেকে বরযাত্রী এসেছিলেন আরও প্রায় ৪০ জন। সেফহোম সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি প্রতিষ্ঠান।

রাজশাহীর সেফহোমটি পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার বায়া এলাকায় অবস্থিত। শুক্রবার দুপুরে সেফহোমে গিয়ে দেখা গেছে, পবা উপজেলার বায়া সেফহোমে অনেকটা ধূমধামেই বিয়ের আয়োজন হয়েছে অন্তরা ও শিরিনার। অন্তরাকে বিয়ে করেছেন রাজশাহী নগরীর বড়বনগ্রাম দুরুলের মোড় এলাকার মো. বিপ্লব (৪২)। আর শিরিনাকে বিয়ে করেছেন পবার পিল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন (৫০)। দুজনেরই স্ত্রী মারা যাওয়ায় পরিবারের সম্মতিতে তাঁরা বিয়ে করলেন। অন্তরা বেগম ফজিলা আর শিরিনা খাতুনের কোন অভিভাবক নেই। রাজশাহীতে দুজনেই ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহিলা ও শিশু-কিশোরী হেফাজতীদের নিরাপদ আবাসনে (সেফ হোম)। দুজনেরই বয়স হয়েছিল ৩৩।

শিরিন খাতুনের বর ইসলাইল হোসেনের বয়স প্রায় ৫০ বছর। তিনি রাজশাহী শহরে অটোরিকশা চালান। গত তিন বছর আগে তার আগের স্ত্রী মারা গেছেন। তার বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার পিল্লাপাড়া গ্রামে। বিয়েতে তার দুই ছেলের বউ জয়া বেগম ও দিলরুবা বেগম ছেলেমেয়ে নিয়ে এসেছিলেন। জয়া বেগম বলেন, শ্বশুরের বিয়ের জন্য এমন ভালো একটা মেয়ে পেয়ে তারা খুশি। একই কথা বললেন দিলরুবা। বিয়ের দেনমোহর ঠিক করা হয় ১ লাখ টাকা। অন্তরা বেগমের বর বিপ্লবের বয়স ৪২ বছর। তার বাড়ি রাজশাহী নগরের বড় বোনগ্রাম দরুলের মোড়ে। তার গরু-ছাগলের ব্যবসা রয়েছে। ১২ বছর আগে তার স্ত্রী মারা গেছেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তারা এসে বাবার পাশে বসে রয়েছে। বিয়ের দেনমোহর ঠিক করা হয় ২ লাখ টাকা। তার মধ্যে নগর ১ হাজার টাকা।

সেফাহোমের উপ-তত্বাবধায়ক লাইজু রাজ্জাকসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী বিয়েবাড়ির সাজে সেজেছেন। লাইজু রাজ্জাক বললেন, মেয়ে দুটা নিজের সংসারে সুখে থাকবে এই তাঁর আনন্দ। সমাজসেবা অধিদপ্তরের রাজশাহী আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বাবুর্চি আকবর হোসেন বললেন, অতিথিদের জন্য তিনি ৪৫ কেজি খাসির মাংশ, ২০ কেজি মাছ,২২ কেজি চালের পোলাউ, পাঁচ কেজি চালের সাদা ভাত রান্না করেছেন।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris