সোমবার

১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
উচ্চ রক্তচাপ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশনে ৫ দিন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ক্রীড়াকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে : মিনু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের নেতাদের বৈঠক তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার : মিলন সাংবাদিকসহ জনগণের সহযোগিতা কামনা করলেন আরএমপি কমিশনার মেয়েদের জন্য ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষা ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা যেন লোক দেখানো না হয় : জামায়াত আমির রাজশাহী কোর্ট কলেজে বরণ-বিদায় ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কাজী নজরুল ইসলাম সম্মাননা পেলেন কবি শামীমা নাইস ছোট্ট জান্নাতের মৃত্যু যেনো নাড়িয়ে দিলো প্রতিটি হৃদয়

রাজশাহীর জিয়া শিশু পার্কের ইভেন্টগুলো অকার্যকর

Paris
Update : শনিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২১

শাহানুর রহমান রানা : ২০০৬ সালে টেন্ডারের মাধ্যমে ডমেষ্টিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেনোলজি সার্ভিসেস নামের একটি প্রতিষ্ঠান শিশু পার্কটি পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। লিজের মেয়াদ অনেক আগেই উর্তীন্ন হবার পরেও পরবর্তীতে নতুন করে আর কোন টেন্ডারের আয়োজন হয়নি আজ অবদি। শিশু পার্ক সূত্র জানায়, সর্বমোট আঠারোটি ইভেন্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে সাতটি ইভেন্ট বছর ধরে মুখ থুবরে পড়ে আছে। এরমধ্যে সবচাইতে মজাদার ‘বাম্পার কার’ ইভেন্টি প্রায় একযুগ ধরে অকেজোবস্থায় জানান দিচ্ছে নিজের অস্তিত্ব।

এছাড়াও বেশ কয়েক বছর ধরে ‘বাম্পার বোর্ড’ ইভেন্টিও সেবাহীন হয়ে পড়ে আছে। নষ্টের তালিকায় নাম আছে ফ্লুইম রাইড, থ্রি-ডি মুভি থিয়েটার, হর্স রাইড, ব্যাটারী কার, বাউলি ক্যাসেলসহ আরো বেশ কয়েকটি ইভেন্ট। ইভেন্টগুলো দীর্ঘ সময় ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় দর্শনার্থী আর বিনোদন পিপাসুরা পড়েছেন বিপাকে। পঁচিশ টাকার বিনিময়ে প্রবেশের পরেও আগতরা পরিপূর্ণতা পাচ্ছেনা বিনোদন সেবা গ্রহণে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস.এম মাসুম পারভেজ কয়েক বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করার পর তার স্ত্রী দায়িত্ব নিয়েছেন পার্ক পরিচালনার। দিন যত অগ্রসর হচ্ছে চালু থাকা ইভেন্টগুলোর কার্যকারিতা ততই নষ্ট আর অকার্যকরের পথে ধাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য নিয়মিত আসা দর্শনার্থীদের।

একদিকে, পার্কে আগত দর্শনার্থীরা বলছেন, প্রবেশমূল্যসহ অধিকাংশ ইভেন্টগুলোর সেবামূল্য তুলনামূলক বেশি। আর অন্যদিকে, শিশুদের জন্য মূল্যবিহীন যে কয়েকটি ইভেন্ট রয়েছে সেগুলো এখন দূর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে দিয়ে যাচ্ছে বিনোদন সেবা। মোটা প্লাস্টিকের স্লিপারগুলোর একাংশ ভেঙ্গে আছে প্রায় বছর ধরে। আর ঢালাই দিয়ে তৈরিকৃত স্লিপারগুলোর বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে যাওয়াতে সেগুলোও এখন ঝুঁকি সম্বলিতবস্থায় ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেক আগেই পার্কটির লিজ দেওয়ার নির্দিষ্ট মেয়াদকাল উতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু, সেবার মানোন্নয়ন এর জন্য এখন পর্যন্ত টেন্ডারের মাধ্যমে শিশু পার্কটি দেয়া হয়নি অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের হাতে! বিষয়টিকে কেই বলছেন অলোকীক আবার কেউবা বলছেন স্বার্থান্বেষী কোন উদ্দেশ্য। কয়েক বছর আগে রাজশাহীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উক্ত পার্কটিতে পূর্ববর্তী ইভেন্টগুলো রেখে নতুন কিছু ইভেন্ট প্রতিস্থাপন করে বিনোদন সেবারমানকে আরো উর্দ্ধমুখি ও নতুনত্ব দেবার একটি প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিলেও সেটি গ্রাহ্য হয়নি বলে জানায় সূত্র।

রাজশাহী শহর ও এর আশেপাশের মানুষদের বিনোদন সেবা নিশ্চিত কল্পে নওদাপাড়ায় তৈরি করা হয়েছিল আধুনিক ‘শহীদ জিয়া শিশুপার্ক’। যাত্রালঘ্নে শিশু পার্কটি ছিল পরিপূর্ণ সেবায় আবর্ত। দিন যত অগ্রসর হয়েছে সেটার বিনোদন সেবার মানেও পড়েছে ভাটা। নতুন কোন ইভেন্ট আজ অবদি সংযোজন তো দূরের কথা; শিশু পার্কটিতে বছরের পর বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা অত্যন্ত আনন্দদায়ক ইভেন্টগুলো মেরামতের কাজটিও করছে না টেন্ডারে নেওয়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি। নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা ইভেন্ট ও যন্ত্রাংশগুলো ক্রয় করা হয়েছিল সরকারি অর্থ দিয়েই। যার কারণে এখানে শুধু বিনোদন সেবাতেই ভাটা পড়েনি, সরকারি অর্থের অপচয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেখানে কর্মরতদের অনেকেই পত্রিকার প্রতিনিধিকে জানান, রাসিক কর্তৃপক্ষের কিছুটা সহোযোগিতা পেলে পার্কটিকে আবারো উৎসবমূখর ও আনন্দদায়ক করে তোলা সম্ভব। কিন্তু, রাসিকের অবহেলা আর অসহোযোগিতায় নতুন নতুন ইভেন্ট সংযোজন তো দূরের কথা বছরের পর বছর নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা ইভেন্টগুলোও মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না মোটা অংকের ব্যয়ের জন্য। প্রথমবস্থায় পার্কটিতে প্রবেশমূল্য কম থাকলেও এখন সেটি বৃদ্ধি পেয়ে দাড়িয়েছে পঁচিশ টাকায়। মাত্র ছয় বছরের একটি শিশু বাচ্চাকেও টিকেট কেটে প্রবেশ করতে হয় শিশু পার্কে।

যেটি নিয়ে অভিযোগ ও বাকবিতন্ডার ঘটনা প্রায়শই ঘটে প্রবেশদ্বারে। বেশ কয়েকটি ইভেন্ট আছে যেগুলো প্রায় একযুগ ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। আর অন্যগুলো প্রায়শই নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে বছরের পর বছর ধরে। যার কারণে, দূরদূরান্ত থেকে আসা বিনোদন পিপাসু ও শিশু-কিশোরদের পরিপূর্ণ বিনোদন সেবা প্রদানের বিষয়টি এখন অবরুদ্ধ অবস্থায় দাড়িয়ে আছে জিয়া শিশু পার্কটির ভেতরে। একাধিক ইভেন্ট নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় ইতিমধ্যেই চাকুরী হারিয়ে আবারো বেকারের খাতায় নাম লিখিয়েছেন অনেকেই।

শিশু-কিশোরদের আনন্দ দেবার জন্য হর্স রাইডারটিতে একসময় গাণের তালে তালে জ্বলতো বিভিন্ন রংয়ের প্রায় কয়েকশ বাতি। সেগুলোও এখন নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। ট্রেন ইভেন্টির সেবাতেও আছে ভোগান্তি। মধ্যবর্তীস্থানে গিয়ে টার্নিং নেবার সময় ট্রেনটি প্রায় ত্রিশ ডিগ্রী এঙ্গেল হয়ে ডান দিকে হেলে পরে। নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা ঝুলন্ত দোলনাগুলোতে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে পরিত্যক্ত গাড়ির টায়ার! এছাড়াও পার্কের অধিকাংশস্থানের রং চটে গিয়ে সেগুলো তার নিজের সৌন্দর্য হারিয়েছে।

প্রতি শুক্রবার ও অন্যান্য সরকারি বন্ধের দিনে পার্কটিতে থাকে উপচে পড়া ভিড়। আর অন্যদিকে, শীতকালীন মৌসুমে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গাড়ি নিয়ে আসা পিকনিক পার্টিরও নেই অভাব। এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের আয়োজনও চলে এই পার্কে। সার্বিকভাবে বলা যায়, পার্কের আয়ের মার্জিন তেমন একটা মন্দ হবার কথা নয়। কিন্তু, তারপরেও সংশ্লিষ্টরা কেনো বিনোদন পিপাসু ও শিশুদের জন্য পূর্ণাঙ্গ বিনোদনের ব্যবস্থার আয়োজনে বছরের পর বছর ধরে কার্পণ্যতা আর সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় ডুবে আছে সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরীর সচেতন মহল ও বিনোদন পিপাসুরা।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris