ভঙ্গুর-ফাঁকা রেলবারে ঝুঁকি!
স্টাফ রিপোর্টার : ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে প্রায় প্রতিনিয়তই দেশের কোথাও না কোথাও ঘটছে অপমৃত্যুর মতো ঘটনা। আর এই অপমৃত্যুর কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রেললাইন বা রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় অসাবধানতা, খামখেয়ালিপনা এবং রেলবারের অনুপস্থিতি। রাজশাহী নগরীর ভদ্রা ক্রসিং, কামারুজ্জামান চত্বর সংলগ্ন রেল ক্রসিং, দরিখরবনা, বহরমপুর ও কোর্ট স্টেশন এলাকার আশেপাশের রেলক্রসিংগুলোতে ট্রেনে কাটা পরে মৃত্যুবরণ করার ইতিহাস নেতাই কম নয়। রেলক্রসিং স্থলে রেলবারের অনুপস্থিতি, সেখানে দায়িত্বরতদের অবহেলা সহ ভঙ্গুর রেলবারই এর অন্যতম কারণ বলে মন্তব্য সচেতন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের।
বেশ কয়েকবছর পূর্বে নগরীর রেলগেটের রেললাইনের দুই প্রান্তে বেশ কয়েক বছর ধরে লাগানো ছিল ভঙ্গুর দুটো রেলবার। বিভিন্নস্থানে জোড়াতালি দিলে কোনরকম রেলবারগুলো সেবাপ্রদান করলেও সামান্য ইজিবাইক ও হালকা বাহনের ধাক্কায় সেগুলো প্রায় প্রতিনিয়তই ভেঙ্গে পড়তো। সেগুলোকে ঝালাই করে কোনরকম আবারো ব্যবহার উপযোগী করতো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে, পত্রপত্রিকায় বিষয়গুলো নিয়ে ছবি আকারে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবার পরে অবশেষে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সেখানেসহ নগরীর বেশ কয়েকটি স্থানে স্থাপন করেছেন নতুন রেলবার। কোথাও কোথাও দুটিরস্থলে বসানো হয়েছে আরে নতুন দুটো মিলে সর্বমোট চারটি।
আবার কোথাওবা স্থাপন করা হয়েছে পুরাতন আর জংধরা রেলবার। কোথাওবা উভয়প্রান্তের দুটো রেলবারের মধ্যস্থানের ব্যবধান এতোটাই বেশি রাখা হয়েছে, যে কেউ ইচ্ছে করলেই ট্রেন আসা মূহুর্তে ঝুঁকি নিয়ে দৌড়ে অতিক্রম করতে পারবেন রেলক্রসিং। এমনই বিপদগামী অবস্থায় ভদ্রাস্থ রেলক্রসিং এর রেলবারগুলো সেবা দিয়ে যাচ্ছে বছর ধরে। জং আর মরিচিকায় আক্রান্ত হয়ে উত্তর আর দক্ষিণের দুটো রেলবারের অবস্থা সচোনীয়। উপরন্ত, পূর্ব ও পশ্চিমপার্শ্বের দুটো রেলবারের মধ্যস্থানের ব্যবধান বেশি থাকায় খুব অনায়াসেই যে কেউ চাইলেই ট্রেন আসা মূহুর্তে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে পারবে।
এমনই অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে গতকাল বিকেল চারটা নাগাদ। রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী একটি আন্তঃনগর ট্রেন উক্ত রেলক্রসিং অতিক্রম করার ঠিক কয়েক সেকেন্ড আগে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের সামনেই দুইজন ঝুঁকি নিয়ে রেলবারের ভঙ্গুর ঐ স্থান দিয়ে অনায়াসেই অতিক্রম করলো রেলক্রসিংটি। এমন ভয়ঙ্কর ও ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার প্রায়শই হয়ে থাকে উক্ত রেলক্রসিং দিয়ে বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
রেলক্রসিং এর দায়িত্বে থাকা এক কর্মচারিকে এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অনেকদিন ধরেই এমন ভঙ্গুর রেলবার এখানে আছে। তবে, আমরা সতর্ক থাকি কোন অপ্রীতিকর দূর্ঘটনায় যেনো কেউ পতিত না হন। তবে, ট্রেন আসার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে উক্ত ফাঁকা ও ভঙ্গুরস্থান দিয়ে পায়ে হেটে পারাপার হবার পাশাপাশি মটরসাইকেলও অতিক্রম করে বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন নগরীর সচেতন মহল।
