রবিবার

১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
মেয়েদের জন্য ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষা ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা যেন লোক দেখানো না হয় : জামায়াত আমির রাজশাহী কোর্ট কলেজে বরণ-বিদায় ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কাজী নজরুল ইসলাম সম্মাননা পেলেন কবি শামীমা নাইস ছোট্ট জান্নাতের মৃত্যু যেনো নাড়িয়ে দিলো প্রতিটি হৃদয় পবার ৬৬৯ পরিবার পেলো ফ্যামিলি কার্ড হাজার কোটি টাকার টার্গেট নিয়ে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু রাজশাহীতে অটোরিক্সা চালক হত্যায় চার জন গ্রেপ্তার, অটোরিক্সা উদ্ধার রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ‘চাঁদাবাজ’ হিসাবে অপপ্রচারের অভিযোগ নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার মূল হোতাসহ ১৫ জন গ্রেফতার

প্রথম দূর্গাপূজার স্থান আজো অবহেলিত

Paris
Update : রবিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২১

শামীম রেজা : এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ডোলের বাজনা। ডং ডং শব্দে মূখরিত হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। সনাতন ধর্মালম্বীদের বাড়ি বাড়ি বিরাজ করতে শুরু করেছে উৎসবের আমেজ। কিছু দিন পরেই হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ দূর্গোৎসব আরম্ভ হবে। মন্দিরে মন্দিরে তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। এবছর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন আর ২টি পৌরসভায় ছোট বড় মিলে ৮৭টি মন্দিরে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি প্রদীপ কুমার সিংহ। অথচ আজো অকহেলিত রয়ে গেছে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ইতিহাস খ্যাত তাহেরপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বী বাঙালিদের প্রথম দূর্গাপূঁজা স্থান। এ স্থানটি এখনো তাদের পূণ্যভূমি হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। সারা বিশ্বের মধ্যে তাহেরপুরই দূর্গাপূঁজার উৎপত্তি স্থল হওয়া সত্বেও জাতীয় ভাবে এ স্থানটি এখনো অবহেলিত।

জানা যায়, মোঘল সম্্রাট আকবরের রাজত্বকালে বাংলার অন্যতম বারো ভূঁইয়ার রাজা কংস নারায়ন রায় মোঘল বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধের প্রাক্কালে ১৪৮০ খ্রীষ্টাব্দে ৮৮৭ বঙ্গাব্দে শরৎকালে বিশ্বের সর্বপ্রথম তৎকালীন নয় লক্ষ টাকা যা বর্তমানের ছয়শত কোটি টাকার সম-পরিমান অর্থ খরচ করে জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে বাঙালী হিন্দুদের মধ্যে রাজ পুরোহিত রমেশ শাস্ত্রীর দ্বারা তাহেরপুরে দূর্গাপূঁজার আয়োজন করেছিলেন। শ্রী শ্রী গোবিন্দ মন্দির ঘিরেই ছিল উৎসবের আয়োজন। এরই ধারাবাহিকতায় অদ্যবধি সারা বিশ্বের সমস্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ব বৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে দূর্গাপূঁজা স্বীকৃত।

দূর্গাপূজার গোড়ার কথা কালক্রমে যাতে হারিয়ে না যায় সে জন্য তাহেরপুরে “রাজা কংস নারায়ন কর্তৃক প্রথম দূর্গাপূঁজা সৃষ্টি, মন্দির ও জায়গা রক্ষনাবেক্ষন ও উন্নয়ন কমিটি” গঠিত হলেও তার কার্যক্রম প্রায় থেমেই গেছে। এই কমিটি দূর্গাপূঁজার উৎপত্তি স্থল তাহেরপুরকে পৃথিবীর সর্বপ্রথম বাঙালি হিন্দুদের শারদীয় উৎসবের পূণ্যস্থান হিসেবে স্বীকৃতি পেতে অতীতে বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারের নিকট আবেদন করে এলেও তা এখনো কার্যকর করা হয়নি। তাহেরপুরে পর্যটকদের তীর্থ স্থান করার দাবীতে ২০০২ সালে তাহেরপুর পৌরসভার প্রয়াত চেয়ারম্যান আলো খন্দকারের সহযোগীতায় উক্ত কমিটির সম্পাদক সঞ্জীব রায় মিন্টু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করেন। কিন্তু পূণ্যভূমি হিসেবে স্বীকৃতি তো দুরের কথা এখানে উন্নত মানের একটি মন্দির সরকারের পক্ষ থকে নির্মিত হয়নি।

তবে স্থানীয় সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক শ্রী শ্রী গোবিন্দ মন্দিরে এক টন ওজনের ব্রঞ্জের প্রতিমা উপহার দিয়েছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের এক নেতা সত্যজিৎ রায় তোতা বলেন, এখানকার রাজবাড়ী গোবিন্দ মন্দিরে কেবল একটি ব্রহৎ শিলা লিপি রয়েছে যাতে পৃথিবীর দূর্গাপূঁজার প্রতিষ্ঠা, স্থান, সন, তারিখ ও অতীত কিছু ইতিহাস রয়েছে। এই শিলা লিপি ছাড়া আর তেমন কিছু নিদর্শন নেই। তাহেরপুরের দূর্গাপূরীতে দেবী দূর্গার মূল বেদী পর্যন্ত এখন নেই। বর্তমানে দূর্গাপূরীর বেদীমূলে কলেজ এবং তার পার্শ্বে তিনশত বছরের সেই প্রাচীন গাছটি নাম না জানার কারনে “অচিন বৃক্ষ” হয়ে কালের স্মৃতি বহন করছে।

তাহেরপুরের ইতিহাসকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে গঠিত তাহেরপুরের কমিটি এবং বাংলাদেশ পূঁজা উদযাপন পরিষদের রাজশাহী মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন্ বলে জানা গেছে। তাহেরপুরের সকল শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা উক্ত কমিটিকে সমর্থন যুগিয়েছেন বার বার। কারন, দূর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে এখানে বহু লোকের কর্ম-সংস্থান হয়। যেমন-মৃৎশিল্পি, পুরোহিত, বাদ্যকার, পূঁজা মন্ডপ নির্মানের সঙ্গে সংশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, পাঁচক প্রভৃতি। রাজশাহীর হাট গুলোর মধ্যে তাহেরপুর অন্যতম। তাহেরপুরী পেঁয়াজের কারনে স্থান হিসেবে দেশে তাহেরপুরের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। বর্তমানে তাহেরপুর একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া সত্বেও সংখ্যা লঘুদের কমপ্লেক্স আকারের একটি উন্নত মন্দিরও সেখানে গড়ে ওঠেনি।

জানা যায়, পাঠান জায়গীরদার তাহের খানের নামানুসারে রাখা তাহেরপুর। এক সময় বাগমারা-দূর্গাপুরের সমন্বয়ে থানার মর্যাদা লাভ করেছিল (বর্তমান পেঁয়াজ হাটা)। কিন্তু তৎকালীন রাজার বিরোধীতা ও প্রশাসনের সুবিধার্থে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালের পর থেকে আবারো তাহেরপুরবাসী থানার দাবী তোলে যা অগ্রাহ্য হয়। থানা না হলেও এখানকার মানুষ ঐতিহ্যগত দিক দিয়ে এখনো গর্বিত। শারদীয় দূর্গোৎসবকে বাঙালী হিন্দুরা সুদূর অতীত থেকেই গ্রহন করে আসছে অন্তরের আকুতি দিয়ে, জ্ঞানের মধ্য দিয়ে মানুষের সঙ্গে মানুষের মেল-বন্ধন ঘটানোর জন্য।

তাদের মতে, দূর্গাদেবীর জন্ম হয় স্বর্গে সমস্ত দেবতাদের মহাতেজ শক্তি নিয়ে মহা পরাক্রমশালী দূর্গম ও মহিসূরকে বধ করার মানষে। দৈত্য, বিঘ্ন, রোগ, পাপ এবং ভয় ও শত্রু হতে রক্ষা করেন তিনিই দূর্গা। তাই সেই দূর্গার স্মরণে প্রথম পূঁজার স্থান তাহেরপুরকে সরকারী ভাবে পূন্যভূমি হিসেবে স্বীকৃতি দেবার দাবী জানিয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃৃন্দ। তারা এটিকে জাতীয় মন্দিরের মর্যাদা এবং ঐতিহাসিক মন্দির হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে সরকারের নিকট দাবী জানিয়েছেন।

শ্রী শ্রী গোবিন্দ মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী চিরঞ্জিত সাহা জানান, দূর্গাপূজার উৎপত্তিস্থল শ্রী শ্রী গোবিন্দ মন্দিরকে জাতীয় মন্দিরের মর্যাদা এবং ঐতিহাসিক মন্দির হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবী জানাচ্ছি। ইতিমধ্যেই তাহেরপুরকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূণ্যভূমি হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য ধর্ম মন্ত্রনালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ স্থানটি কে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে সরকারের নিকট তীর্থস্থান হিসেবে ঘোষনার দাবী জানিয়েছেন। ্ঐতিহাসিক এ স্থানটিকে পূণ্যভূমি হিসেবে ঘোষনা করা হলে এখানে পর্যটন নগরী গড়ে উঠবে। তাই সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তাহেরপুরের সনাতন নেতৃবৃন্দ।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris