রবিবার

১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
মেয়েদের জন্য ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষা ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা যেন লোক দেখানো না হয় : জামায়াত আমির রাজশাহী কোর্ট কলেজে বরণ-বিদায় ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কাজী নজরুল ইসলাম সম্মাননা পেলেন কবি শামীমা নাইস ছোট্ট জান্নাতের মৃত্যু যেনো নাড়িয়ে দিলো প্রতিটি হৃদয় পবার ৬৬৯ পরিবার পেলো ফ্যামিলি কার্ড হাজার কোটি টাকার টার্গেট নিয়ে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু রাজশাহীতে অটোরিক্সা চালক হত্যায় চার জন গ্রেপ্তার, অটোরিক্সা উদ্ধার রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ‘চাঁদাবাজ’ হিসাবে অপপ্রচারের অভিযোগ নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার মূল হোতাসহ ১৫ জন গ্রেফতার

‘স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে ডিভোর্স হলেও বাবা-মায়ের কোন ডিভোর্স হয় না’

Paris
Update : শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। তারা সিদ্ধান্ত নেন একসাথে আর সংসার করবেন না। কিন্তু সংসার জীবনের ইতি টানবেন কিভাবে এ নিয়ে সমস্যা প্রকট হয়। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। করোনাকালীন সময়ে আদালতের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ইতি টানার বিষয়টিও ঝুলে থাকে দীর্ঘ কয়েক মাস। সরকারের তরফ থেকে করোনাকালীন বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হলে আদালতের বিচারিক কার্যক্রম পূণরায় চালু হয়। গত সোমবার স্বামী-স্ত্রী হাজির হন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম এম হুমায়ুন কবীরের আদালতে। কিন্তু ওই দম্পতির এক শিশুকে নিয়ে বিপাকে পড়েন উভয় পক্ষের আইনজীবীরা।

এক পর্যায়ে আদালতের বিচারক ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম এম হুমায়ুন কবীর শিশুটির ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে শিশুর নামে ব্যাংকে ৩ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট করার আদেশ দেন। সেই সাথে সাবালক না হওয়া পর্যন্ত ওই শিশুর নামে করা ফিক্সড ডিপোজিট কেউ যেন ভাঙ্গাতে না পারেন সে জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি দেন আদালত। আদালতের এমন মানবিক যুগান্তকারী আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করেন উভয় পক্ষের আইনজীবীসহ আদালত পাড়ায় উপস্থিত থাকা সকল শ্রেণি পেশার মানুষ। বিজ্ঞ আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবীরের এমন আদেশে দিনভর আলোচনা চলে আদালত পাড়ায়।

আদালতের বিচারিক কার্যক্রম শেষে ওই শিশুকে কোলে নিয়ে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দেন বিচারক হুমায়ুন কবীর। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘আজ আমার আদালতে একটি মামলা নিষ্পত্তি করলাম। কিন্তু এই মাসুম বাচ্চাকে বাবা-মায়ের সাথে রাখতে পারলাম না। অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলাম। শেষ পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ডিভোর্স হলো। বাচ্চাটি তার মায়ের কাছে থাকলো। তবে বাচ্চার বেটার্মেন্টের জন্য তিন লক্ষ টাকার একটি ঋউজ এর ব্যবস্থা করলাম। যে টাকা বাচ্চার বাবা প্রদান করলেন। ঋউজ এর নিরাপত্তার জন্য ব্যাংক বরাবর একটি প্রত্যায়নপত্র ইস্যু করলাম। বাচ্চাটি সাবালক না হওয়া পর্যন্ত ঐ ঋউজ কেউ ভাঙ্গাতে পারবেনা।’ স্ট্যাটাসের শেষে তিনি লিখেছেন, ‘স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে ডিভোর্স হলেও বাবা-মায়ের কোন ডিভোর্স হয় না।’


আরোও অন্যান্য খবর
Paris