আশরাফুল নয়ন, প্রতিনিধি : নওগাঁর পোরশায় গৃহহীনদের জন্য দূর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি করে টাকার বিনিমিয়ে গৃহ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নিম্নমানের কাজে ইতিমধ্যে ঘরে দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা। দূর্যোগ সহনীয় ঘর এখন নিজেই ঝুঁকিপূর্ন হয়ে পড়েছে। এমনকি টাকা দিতে না পারায় অনেক হতদরিদ্রদের ভাগ্যে জোটেনি সরকার থেকে বরাদ্দকৃত গৃহটি। এমন অভিযোগ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বিরুদ্ধে। হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত এসব গৃহ নির্মাণে ভবিৎষতে আর যেন অনিয়ম না হয় এজন্য সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন সচেতনরা।
জানা গেছে, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে গৃহহীনদের জন্য ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে টিআর-কাবিটা কর্মসূচির আওতায় গৃহহীনদের জন্য ৬৩টি দূর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে এক কোটি ৭০ লক্ষ ৩৯ হাজার ৯৪০ টাকায় বরাদ্দ দেয়া হয়। এরমধ্যে হতদরিদ্র গৃহহীন পরিবারের জন্য রান্নাঘর ও টয়লেটসহ ৫৩টি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুই কক্ষ বিশিষ্ট ১০টি সেমিপাকা ঘর। অভিযোগ রয়েছে- নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ কাজ করায় ইতিমধ্যেই দেওয়ালে ফাঁটল দেখা দিয়েছে।
প্লাস্টারের বালি খুলে পড়ছে, দরজা ও জানালার কাঠ বেঁকে যাচ্ছে। ছাউনিতে রুয়ার (মোটা কাঠ) পরিবর্তনে ব্যবহার করা হয়েছে বাটাম (পাতলা কাঠ)। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী একটি ঘরের দেওয়াল প্লাস্টার করা হয়নি। দূর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ যেন এখন নিজেই দূর্যোগ কবলিত। বরাদ্দকৃত এসব গৃহের তালিকায় তৈরীতে হয়েছে স্বজনপ্রীতি। এমনকি চাহিদা মত টাকা দিতে না পারায় অনেক হতদরিদ্রদের ভাগ্যে জোটেনি সরকার থেকে বরাদ্দকৃত এ গৃহটি।
উপজেলার মশিদপুর ইউনিয়নে শিশা আদিবাসিপাড়ার বিধবা মিনি বলেন, তার বাড়ির সামনেই পুকুর। তার যথেষ্ট জায়গা থাকা সত্বেও এক পাশে বাড়িটি চাপিয়ে তৈরী করা হয়েছে। এছাড়া বাড়ির একপাশের দেয়ালে প্লাষ্টার করা হয়নি। বাড়ির অনেক জায়গায় প্লাস্টার ফেটে গেছে। যদি এখনি এমন ঝুঁকিপূর্ন হয় তবে আরো বছরতো পড়েই আছে।
গাঙ্গুরিয়া ইউনিয়নের কাতিপুর গ্রামের রাজু রায়হানের স্ত্রী মারজিনা খাতুন বলেন, ছাউনির কাজে রুয়ার পরিবর্তনে বাটাম (পাতলা কাঠ) ব্যবহার করা হয়েছে। যে প্লাস্টার করা হয়েছে এখনই বালু ঝরে পড়ছে। মিস্ত্রিরা ৫বস্তা সিমেন্টের কথা বলেছিল। সিমেন্ট দিলে আরো ভাল কাজ হবে। আমরা গরীব মানুষ দিন আনা দিন খাওয়া সিমেন্ট কিনার টাকা কোথায় পাবো। এছাড়া জানালা দরজার কাঠ ভালো না। শুকিয়ে ফাঁকা হয়ে বেঁকে গেছে।
সরাইগাছী গ্রামের মাসুদ বিল্লা সিদ্দিকী বলেন, স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানকে ঘরের তালিকায় আমার নাম রাখার অনুরোধ করেছিলাম। মেম্বার একদিন চুপি চুপি ডেকে আমার কাছে পাঁচ হাজার টাকাই চাইলেন। আমি টাকা দিতে না পারায় বাড়ির তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। গাঙ্গুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক ঘর বরাদ্দে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কালিনগর গ্রামে শফিউদ্দিন নামে যাকে ঘর দেয়া হয়েছে তারা নিত্তান্ত গরীব।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দোস্তদার হোসেন বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বাড়ির একটি দেয়ালে প্লাস্টার করা সম্ভব হয়নি। কারণ মিস্ত্রি চিপার মধ্যে ঢুকে প্লাস্টার করা সম্ভব না। তবে বাড়ি নির্মাণে উপজেলার কোথাও নিম্নমানের এবং কোন ধরনের অনিয়ম করা হয়নি। পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: নাজমুল হামিদ রেজা বলেন, বিষয়টি যাচাই করে দেখবো। যদি কোন ধরনের ত্রুটি পাওয়া যায় তদন্তে সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াসহ ত্রুটি সংশোধনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগটি সঠিক না।