রবিবার

১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
মেয়েদের জন্য ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষা ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা যেন লোক দেখানো না হয় : জামায়াত আমির রাজশাহী কোর্ট কলেজে বরণ-বিদায় ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কাজী নজরুল ইসলাম সম্মাননা পেলেন কবি শামীমা নাইস ছোট্ট জান্নাতের মৃত্যু যেনো নাড়িয়ে দিলো প্রতিটি হৃদয় পবার ৬৬৯ পরিবার পেলো ফ্যামিলি কার্ড হাজার কোটি টাকার টার্গেট নিয়ে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু রাজশাহীতে অটোরিক্সা চালক হত্যায় চার জন গ্রেপ্তার, অটোরিক্সা উদ্ধার রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ‘চাঁদাবাজ’ হিসাবে অপপ্রচারের অভিযোগ নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার মূল হোতাসহ ১৫ জন গ্রেফতার

মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিতা সোহাগী এখন ভিক্ষা করেন দ্বারে দ্বারে!

Paris
Update : মঙ্গলবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার, লালপুর : একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সেনাদের অবর্ণনীয় নির্যাতনের স্বীকার হন নাটোরের লালপুরের সোহাগী বেগম। একজন নারী হিসেবে অমূল্য ত্যাগ স্বীকার করেন তিনি। কিন্তু আজও একাত্তরের নির্যাতিতা নারী হিসেবে এখনো মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি তিনি। ৬২ বছর বয়সে জীবন চালান দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করেন। সরকারের সামান্য সুহানুভূতি পাল্টে দিতে পারে তাঁর আসন্ন বাধ্যকের জীবন। এই বয়সে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতে গিয়ে একাত্তরের নির্যাতিতা নারী সোহাগী বেগমের চোখের জলে তাঁর আকুতিই বলে দেয় জীবনযুদ্ধে বড়ই ক্লান্ত তিনি।

১৯৭১ সালে ১৮ মার্চ নাটোরের লালপুর উপজেলার মধুবাড়ী গ্রামে অর্তিকত হানা দেয় পাকিস্তানের সেনা ও তাদের দোসর রাজাকাররা। তখন ১৩ বছর বয়সী সোহাগী বেগম নরপিশাচদের নির্যাতনের স্বীকার হন। সেই দুর্বিসহ স্মৃতি আজও তাড়া করে তাকে। তবে এখনো মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি মেলেনি তাঁর। বেঁচে থাকার তাগিদে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করেন সোহাগী বেগম। এতে খুবই কষ্টে দিন যাপন করতে হয় তাকে।

একাত্তরে নির্যাতিতা নারীদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সরকারী ভাবে যোষণার পর সামান্য স্বস্তির মর্যাদাপূর্ণ জীবনের স্বপ্ন দেখেছেন তিনি। এ বিষয়ে উপজেলা র্নিবাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেন তিনি। তবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি মেলেনি সোহাগী বেগম। স্থানীয় সংসদ সদস্য সম্প্রতি একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দিলেও সোহাগী বেগমের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলাটা দূর্ভোগ মনে করেন তিনি। একাত্তরের লাখো নির্যাতিতা নারী তাদের ‘অমূল্য সম্পদ’ ত্যাগ স্বীকার করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য।স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের আগেই নির্যাতিতা সোহাগী বেগম মুক্তিযোদ্ধো হিসেবে স্বীকৃতি চান তাঁর শুভাকাঙকীরা।

এ বিষয়ে সোহাগী বেগম তাঁর কথা বলতে গিয়ে শুধু চোখের জল ঝরতে দেখা যায় তাঁর। কোন কথায় বলতে পারেনি তিনি। এবিষয়ে সোহাগী বেগমের ছোট ছেলে সাজদার রহমান পানি ঝরা চোখে জানান, তাঁর বয়স তখন এক থেকে দুই বছর হবে। তিনি তাঁর বাবা ও বড় ভাইসহ এলাকার মানুষের মুখে ১৯৭১ সালের আনুমানিক ১৮ মার্চ পাকিস্তানের সেনাদের হাতে তাঁর মা নির্যাতনের শিকার হয়েছে এ কথা শুনেছেন বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে গবেষণামূলক বিভিন্ন লেখায় তাঁর মা সোহাগী বেগমের নির্যাতনের কথা উঠে এসেছে। তবুও মুক্তিযোদ্ধো হিসেবে স্বীকৃতি মেলেনি তাঁর মা সোহাগী বেগমের।

এ বিষয়ে নাটোর-১ লালপুর-বাগাতিপাড়া আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, ইতিমধ্যে তাকে একটি বাড়ী তৈরী করে দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধো হিসেবে তাঁর নামের যেন তালিকা হয় এজন্য সংসদ সদস্য হিসেবে আমার যা করার তা আমি করবো। আশাকরি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে রাষ্ট্রীয় সকল সুবিধা পাবেন তিনি এটাই প্রত্যাশা করি।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris