চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পৌর মেয়র তারিক আহমেদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নবনির্মিত ভবনে এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পৌরসভা। মাসখানেক আগে পুরাতন, জরাজীর্ণ, ছোট্ট পরিসর হতে এখন পৌরসভার সকল কার্যক্রম চলছে নবনির্মিত দ্বিতীয় ভবনে। এতে একদিকে যেমন বেড়েছে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের গতি, অন্যদিকে পৌরবাসী পেয়েছে আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন পৌর ভবন। এর আগেও বহুবার আগের কয়েকজন মেয়র উদ্যোগ নিলেও জমিজমার ঝামেলা ও আর্থিকভাবে সংকুলান করতে না পারায় ব্যর্থ হয়েছেন পৌরসভার জন্য একটি ভবন তৈরিতে। তবে এবার সফল হয়েছেন বর্তমান মেয়র তারিক আহমেদ।
নানা প্রতিবন্ধকতা দূর করে পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে রহনপুর পৌর ভবন। জেলার অন্যান্য পৌরসভা যেখানে সংশ্লিষ্ট পৌর কর্মচারীদের বেতন, বৈদ্যুতিক বিল পরিশোধ করতে ব্যর্থ, সেখানে নিজস্ব অর্থায়নে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করে অন্যন্য উদাহরণ সৃষ্টি করছেন পৌর মেয়র তারিক আহমেদ। নবনির্মিত দ্বিতল ভবনে রয়েছে পৌর মেয়র, সচিব, প্রকৌশলী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কাউন্সিলরসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক কক্ষ।
এছাড়াও স্বাস্থ্য বিভাগ, ট্যাক্স, লাইসেন্স শাখাও পেয়েছে পৃথক কক্ষ। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, নবনির্মিত দ্বিতল ভবনের ফলে আগের তুলনায় কাজের গতি কয়েকগুন বেড়েছে। পৌরসভার একজন কর্মকর্তা বলেন, পূর্বে যেখানে পৌরসভার কার্যক্রম হতো, সেখানে একটি পৌরসভার কোন পরিবেশ ছিলো না। বাইরে থেকে দেখে কেউ বলতে পারতো না, এটি একটি পৌরসভা। পৌর মেয়রের ঐকান্তিক চেষ্টার ফলে বড় জায়গা নিয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে ও বর্তমানে পৌরসভার সকল কার্যক্রন সাচ্ছন্দে এখানে হচ্ছে।
রহনপুর পৌরসভার একজন কর্মচারী জানান, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রাখার জায়গা পর্যন্ত থাকতো না৷ এখন আর সেই সমস্যা থাকছে না। অনেক জায়গা, অনেক সুবিধা সম্পন্ন আধুনিক ভবন। আমাদের পৌর কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। পৌরসভার একজন সেবাগ্রহীতা জুলকার নাঈম বলেন, আগের যেখানে পৌরসভার সকল কার্যক্রম হতো, সেটিকে পৌরসভা বললেও ভুল হবে। গলির অনেক ভেতরে, ছোট্ট একটি জায়গায় কিভাবে একটি পৌরসভার কার্যক্রম চলে, তা ভাবতেই অবাক লাগে।
অনেক সাধনা ও প্রচেষ্টার ফলে পূর্ণভবা নদীর তীরে রাস্তার ধারে নতুন ভবন পেয়ে জনসাধারণ অত্যান্ত খুশি ও কৃতজ্ঞ। পৌর মেয়র তারিক আহমেদ বলেন, নানা জটিলতা পেরিয়ে দৃঢ় মানসিকতায় আজকের এই এই নতুন ভবন। পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে নবনির্মিত দ্বিতল ভবনে রয়েছে সকল আধুনিক সুবিধা। পৌরবাসীর কাছে আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পেরে আমিও আনন্দিত ও মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। আগামীতে পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হতে পারলে এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলেও জানান তিনি।