স্টাফ রিপোর্টার : বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয় যে, “বৃহস্পতিবার উপজেলা চরধরমপুর বিন্দুপাড়া এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে আসেন ইউএনও সমর কুমার পাল। এ সময় ইউএনও নির্মাণাধীন একটি বাড়ীর রান্নাঘরে একটি ক্রটি দেখতে পান। এর জেরে নির্মাণ শ্রমিকদের মারধরের জন্য তিনি সঙ্গে থাকা আনসার সদস্যকে নির্দেশ দেন এবং কয়েকজন শ্রমিককে মারধর করা হয়। মারধরের সময় অন্য শ্রমিকেরা পালিয়ে যান। মারধরের প্রতিবাদে পরের দিন শুক্রবার কাজে যোগ দেননি ৪০ শ্রমিক।”
প্রকৃত ঘটনা এই যে, ভোলাহাট উপজেলার চরধরমপুর নামক স্থানে ৩ একর ১১ শতক সরকারি খাস জমি (ভিটা) পরিত্যক্ত অবস্থায় দীর্ঘদিন যাবত স্থানীয় দখলদার বাহিনী ভোগ দখল করে আসছিল। মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত “বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না” শীর্ষক আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রশাসন, ভোলাহাট চরধরমপুর অঞ্চলের ১০০টি গৃহহীন পরিবারকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার ১০০টি গৃহ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
কিন্তু দখলদার বাহিনী এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ১০০টি গৃহ নির্মানের জন্য জায়গাটি পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় দখলদার বাহিনী তাদেরকে আক্রমণ করে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এসময় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ইউএনও ও সহকারি কমিশনার (ভূমি), জনাব শেখ মেহেদী ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জনাব মো: কাউসার আলম সরকারসহ অন্যান্য আরও ৫-৬ জন কর্মকর্তা কর্মচারী এবং এ্যাডভোকেট কমিশনার ও সভাপতি, বার কাউন্সিল,
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জনাব এ্যাড. আব্দুস সামাদ ও বিজ্ঞ জিপি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জনাব এ্যাড. মোঃ রজবুল হক দখলদার বাহিনীর দ্বারা লাঞ্ছিত হন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সরকারি গাড়ির উপর লাঠিসোটা দিয়ে আক্রমণ করা হয়। পরবর্তীতে এই ঘটনায় স্থানীয় ভোলাহাট থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং ৫ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে সকল আসামি জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
উলেখ্য যে, নিম্নস্বাক্ষরকারী বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার গত ০৭/০৬/২০২১ খ্রি. তারিখে ভোলাহাট উপজেলায় দ্বায়িত্ব গ্রহণের ২ দিন পরই অর্থাৎ ১০/০৬/২০২১ খ্রি. তারিখে জেলা প্রশাসক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহোদয়ের মৌখিক নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ যেমন সহকারী কমিশনার (ভুমি), অফিসার ইনচার্জ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য,
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেত্ববৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মীসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদেরকে নিয়ে অকুস্থল পরিদর্শন করেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে ১০০টি গৃহ নির্মানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আবেগাপ্লুত হয়ে এই শত বাড়ীকে মৌখিকভাবে “মুজিব পল্লী” নামকরণ করেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তাদের এই আবেগের নামকরণকে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানোর অনুরোধ করেন।
গত ১০/০৭/২০২১ তারিখে পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুঠোফানে জেলা প্রশাসক চাঁপাইনবাবগঞ্জ জনাব মোঃ মুঞ্জুরুল হাফিজ মহোদয়কে পরিদর্শনের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে অকুস্থলে ১০০টি ঘর নির্মাণের জন্য ভোলাহাট উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন এবং এ ঘর নির্মাণের সম্মতি চান।
জেলা প্রশাসক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহোদয়ের সদয় সম্মতির প্রেক্ষিতে পরের দিন অর্থাৎ ১১/০৬/২০২১ খ্রি. তারিখ থেকেই স্থানটি ১০০টি গৃহ নির্মাণের উপযুক্ত করে গড়ে তোলার কাজ শুরু করা হয় এবং গত ০২/০৭/২০২১ খ্রি. তারিখে ভোলাহাট উপজেলা পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব মোঃ রাব্বুল হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জনাব গরিবুল্লা দবির, সহকারী কমিশনার (ভুমি) জনাব শেখ মেহেদী ইসলাম, এ্যাডভোকেট কমিশনার ও সভাপতি, বার কাউন্সিল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জনাব এ্যাড. আব্দুস সামাদ, বিজ্ঞ জিপি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, এ্যাড. মোঃ রজবুল হক,
উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, স্থানীয় ইউ,পি চেয়ারম্যান ও ইউ,পি সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ১০০টি গৃহ নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। এরপর থেকেই স্থানীয় দখলদার বাহিনীকে সাথে নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের কতিপয় সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তিবর্গ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ মহতী উদ্যোগকে বিতর্কিত করার জন্য উঠেপড়ে লাগে এবং তারা এ মহতী কাজকে কলঙ্কিত করার সুযোগ খুঁজতে থাকে।
উল্লেখ্য যে, গত ২৯/০৭/২০২১ খ্রি. তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫.৩০ টায় উপজেলা বন বিভাগ কর্তৃক সরবরাহকৃত বিভিন্ন প্রজাতির ৩০০টি গাছের চারা লাগানোর জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহকারী কমিশনার (ভূমি), প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা বন কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারিদের নিয়ে উল্লিখিত চরধরমপুর ১০০টি গৃহ নির্মাণ প্রাঙ্গণে গমন করেন এবং গাছ রোপন কার্যক্রমের উদ্ধোধন করেন।
অতপর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ১০০ বাড়ী নির্মাণের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন এবং দেখতে পান নির্মাণ শ্রমিকদের গাফিলতি ও অবহেলার কারণে ১০০ বাড়ীর প্রায় প্রতিটিরই কোন না কোন অংশে ঘরের পিলারের সাথে ঘরের চালাকে আটকিয়ে রাখার জন্য যে রড দেয়ার কথা ছিল তা না দিয়ে পিলারের সকল ইট গেঁথে ফেলেছেন। ফলে সে অংশগুলি ভেঙ্গে পুর্ণনিমাণ করতে হবে। উল্লেখ্য যে, এ বিষয়ে তাদেরকে পূর্বেই বারবার কাগজে ছবি এঁকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল এবং এ কাজে যেন কোন অবস্থাতেই ভুল না হয় সে বিষয়ে সতর্ক করে দেয়া হয়েছিল।
এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্রমিকদের পাঁচটি দলের দলনেতাকে ডেকে এনে কঠোরভাবে সতর্ক করেন এবং জানতে চান বাড়ী নির্মাণে কেন তারা গাফিলতি করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ মহতী কাজকে বিতর্কিত করতে চান? এতে কিছু শ্রমিক ভয় পেয়ে অকুস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় দখলদার বাহিনী এ ঘটনার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ১০০টি গৃহ নির্মানকে বিতর্কিত করার স্বার্থে বিএনপি-জামায়াতের কতিপয় সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে নির্মাণ শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ আনেন এবং পত্রিকায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারমূলক খবর প্রকাশ করান।
যাতে করে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তার কাজের উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলেন এবং দখলদার বাহিনীর হীন উদ্দেশ্য সফল হয়। উল্লেখ থাকে যে, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি ও জুম্মার নামাজের কারণে স্বাভাবিকভাবেই নির্মাণ শ্রমিকরা কাজ করেন না। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই ঘটনার পরের দিন শুক্রবার হওয়ার কারণে নির্মাণ শ্রমিকদের কাজ বন্ধ ছিল। ৩১/০৭/২০২১ তারিখ শনিবার সকাল থেকেই সকল নির্মাণ শ্রমিক স্বাভাবিক গতিতে ঘরের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
অধিকন্তু, নির্মাণ শ্রমিকগণ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্পের ঘর নির্মাণে আর কোন অবহেলা বা গাফিলতি করবেন না মর্মে মৌখিকভাবে অঙ্গিকারবদ্ধ হয়েছেন। এমতপ্রেক্ষিতে, ৩১/০৭/২০২১ খ্রি. তারিখে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ইউএনও কর্তৃক শ্রমিকদের মারধরের ঘটনা শীর্ষক সংবাদটি স্থানীয় দখলদার বাহিনী এবং বিএনপি-জামায়াতের কতিপয় সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তিবর্গ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ মহতী উদ্যোগকে বিতর্কিত করার চেষ্টার প্রতিফলন বলে মনে করেন ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমর কুমার পাল।