এফএনএস : ইউরো কাপের মঞ্চে গত রোববার ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হেরে গেছে ইংল্যান্ড। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ১-১ ড্র তাকায় পেনাল্টি শ্যুট আউটে যেতে হয়। টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে জিতে ৫৩ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা তুলে ধরে ইতালি। এই পরাজয়ে ক্ষেপে গিয়ে ইংলিশ সমর্থকেরা রাস্তাঘাটে তাণ্ডব চালিয়েছে। ফুটবলারদের ওপর বর্ণবাদী আক্রমণও করেছে। অন্যদিকে ভদ্র মানুষের দেশ হিসেবে পরিচিত নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররাও হ্যারি কেনদের বিদ্রুপ করতে ছাড়ছেন না। যেমন ধরুন নিউজিল্যান্ডের তারকা অল-রাউন্ডার জিমি নিশাম।
ইংল্যান্ডের হারের পর তিনি টুইটারে লিখেছেন, ‘পেনাল্টি শ্যুটআউটের কী দরকার ছিল? কেন সর্বাধিক পাসের বিবেচনায় বিজয়ী নির্ধারণ করা হলো না?’ সঙ্গে একটা হাসির ইমোজিও দিয়েছেন নিশাম। উল্লেখ্য, ইউরোর ফাইনালে ইতালি পাস দিয়েছে ৮২০টি। আর ইংল্যান্ড দিয়েছে ৪২৬ টি। সাবেক কিউই ক্রিকেটার স্কট স্টাইরিস আবার লিখেছেন, ‘আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না যে, ইংল্যান্ডের তো সর্বাধিক কর্নার ছিলৃ তাহলে তাদেরই তো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা!’
উল্লেখ্য, ম্যাচে ইতালি কর্নার নিয়েছে ৩টি আর ইংল্যান্ড নিয়েছে ৫টি। ক্রীড়ামোদী পাঠকদের কাছে নিশাম আর স্টাইরিসের টুইটের মানে না বোঝার কোনো কারণ নেই। হ্যাঁ, এর কারণ হলো ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেই বিতর্কিত ফাইনাল! যে ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে না হারিয়েও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইংল্যান্ড! নির্ধারিত ওভার এবং সুপার ওভার শেষেও দুই দলের স্কোর সমান ছিল। পরে বাউন্ডারি বেশি মারার অদ্ভুত কারণ দেখিয়ে ইংল্যান্ডকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে আইসিসি!
কোনো সিনক্রিয়েট না করে নীরবে সেদিন কেন উইলিয়ামসনেরা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন। ক্রিকেট বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন, কিউইরা আসলেই কতটা ভদ্র। কিন্তু ক্রিকেটবিশ্ব এই আইন মানতে পারেনি। এটা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে বিতর্কিত এই আইন বাতিলও হয়েছে। কিন্তু কিউইরা কি ভুলতে পারেন না হেরেও রানার্সআপ হওয়ার সেই স্মৃতি! তাই এবার ইংল্যান্ডকে যখন বাগে পাওয়া গেছে, খোঁচা না মারার কোনো কারণ নেই।