রবিবার

১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
মেয়েদের জন্য ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষা ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা যেন লোক দেখানো না হয় : জামায়াত আমির রাজশাহী কোর্ট কলেজে বরণ-বিদায় ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কাজী নজরুল ইসলাম সম্মাননা পেলেন কবি শামীমা নাইস ছোট্ট জান্নাতের মৃত্যু যেনো নাড়িয়ে দিলো প্রতিটি হৃদয় পবার ৬৬৯ পরিবার পেলো ফ্যামিলি কার্ড হাজার কোটি টাকার টার্গেট নিয়ে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু রাজশাহীতে অটোরিক্সা চালক হত্যায় চার জন গ্রেপ্তার, অটোরিক্সা উদ্ধার রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ‘চাঁদাবাজ’ হিসাবে অপপ্রচারের অভিযোগ নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার মূল হোতাসহ ১৫ জন গ্রেফতার

রাজশাহী নগরীর অবৈধ জলাশয় ভরাটে বালুবাহি ট্রাকে ধ্বংস করা হচ্ছে রাস্তা

Paris
Update : সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগরীর উত্তরে দিনদিন সম্প্রসারিত হচ্ছে নগরায়ন। সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের আওতায় তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন রাস্তা, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য অবকাঠামো। সাধারণ মানুষের নাগরিকসেবা বৃদ্ধি কল্পে সরকারের নানামুখি উন্নয়নমূলক কাজকে ঢাল করে সংঘবদ্ধ কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি নিজেদের সমন্বয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করে নগরীর সর্ব উত্তরের প্রবেশদ্বার বলে বিবেচিত ১৭নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন জলাশয়, পুুকুর ও মাটিয়াল নামমাত্র মূল্যে ক্রয় করে সেগুলো অবৈধভাবে বালু দিয়ে ভরাট করে পরবর্তীতে উচ্চমূল্যে বিক্রি করছে নিজেদের পকেট ভারি করছে।

বিগত একবছরে উক্ত ওয়ার্ডের একাধিক পুকুর, জলাশয় ও মাটিয়াল ভরাটের প্রেক্ষিতে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশের। উক্ত জলাশয়গুলো ভরাটে ব্যবহৃত বালুবাহী বড় বড় ট্রাকের সার্বক্ষণিক আসা-যাওয়ায় ঐসকল এলাকার রাস্তাঘাট প্রায় ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসির। চলাচলের জন্য একমাত্র পথগুলো এখন পুরোটাই ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা হিসেবে।

এমনই একটি রাস্তা হলো ১৭নং ওয়ার্ডের ফুলতলা থেকে চকপাড়া, নতুন চকপাড়া হয়ে বড়বনগ্রাম পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাটি। মাসখানেক ধরে ঐ এলাকার একটি সিন্ডিকেট প্রায় তিন বিঘার একটি মাটিয়াল ভরাটকল্পে ঐ এলাকার চলাচলের একমাত্র সম্বল ভঙ্গুর আর কাঁচা রাস্তাটি দিয়ে রাতদিন সার্বক্ষণিক বালুবাহি ট্রাকের আনাগোনায় রাস্তাটি শুধু যে চলাচলের উপযোগিতায় হারিয়েছে তা কিন্তু নয়; ভঙ্গুর পাঁকা অংশটি হয়েছে বিধ্বস্ত; আর মাটির রাস্তাটি পরিণত হয়েছে পুরোটাই চলাচলের অযোগ্য।

উল্লেখ্য যে, প্রায় বছরখানেক আগে, নগরীর তালাইমারি বিজিবি ক্যাম্পের সামনে থেকে ইজারাদার ট্রাকদিয়ে বালু উত্তোলনের জন্য উক্ত রাস্তাটি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যার কারণে ঐ এলাকার বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে ট্রাক চলাচলে বাধাদান করেন। পরবর্তীতে চলাচলের ঐ রাস্তাটি নষ্ট হওয়া ছাড়াও আরো বেশকিছু কারণে জেলা প্রশাসন ঐ উক্ত রাস্তাদিয়ে বালুবাহী ট্রাকের আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে বিধি নিষেধ আরোপ করেন।

এলাকাবাসির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বালুবাহি অসংখ্য ট্রাকের নিয়মিত আসা যাওযার কারণে বাইপাস সংলগ্ন ফুলতলার সংযোগ সড়ক থেকে প্রায় মাইল খানেক অর্ধ ভাঙ্গা পাকা রাস্তাটি পুরোটাই ভেঙ্গে চৌচির। আর অবশিষ্ট এক কিলোমিটার মাটির রাস্তাটি বৃষ্টি মৌসুমে বালুবাহি ট্রাকের নিয়মিত চলাচলে পায়ে হাটেতো দূরের কথা হালকা বাহনের জন্যও চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। কোনভাবেই যেনো উক্ত রাস্তাটি দিয়ে চলাচল সম্ভব হচ্ছে না পথচারি আর স্থানীয়দের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন বয়ষ্ক পুরুষ ও মহিলা পত্রিকার প্রতিনিধিকে জানান, ‘আমরা এই রাস্তা দিয়ে বালুবাহী ট্রাক যেনো যাতায়াত না করে সেজন্য ভরাটকারী ব্যক্তিদের বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের কথায় কোন প্রকার কর্ণপাত না করে উল্টো আমাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শণ করেন।’

মাটিয়াল ভরাট করা সিন্ডিকেটের এক সদস্যকে রাস্তা নষ্ট হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগির বিষয়টি বলাতে তিনি প্রতুত্তরে বলেন, এটা আমার কাজ না। রাস্তা মেরামতের দায়ভার কাউন্সিল সাহেবের। ঐ এলাকার সচেতন নাগরিকরা এবিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, নিজের স্বার্থ হাসিল করার নিমিত্তে অন্যের ক্ষতিসাধন করাটা অবৈধ ও নিয়মনীতি ভঙ্গের সামিল। আন্যদিকে, যেহেতু রাস্তাটি সরকারি রাস্তা তাই নিজের স্বার্থ হাসিল করার জন্য উক্ত সরকারি সম্পদটি বিনষ্ট করার বিষয়টি দেশের সম্পদ ইচ্ছাকিতভাবেই ধ্বংস করার সামিল বলেই মনে করেন তারা।

স্থানীয়রা কেউ কেউ বলেন, তারা (মাটিয়াল বা জলাশয় ভরাটকারীরা) এমনই। রাজনীতির ক্ষমতাকে তারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এই ওয়ার্ডের অনেক পুকুর জলাশয় আর মাটিয়াল তারা পেশী শক্তির প্রয়োগ ঘটিয়ে ভরাট করে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটাচ্ছে। অন্যদিকে, নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য নষ্ট করছে পথচারি আর যানবাহন চলাচলের একমাত্র অবলম্বন রাস্তাগুলো। নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য নষ্ট হয়ে যাওয়া রাস্তাগুলোর দায়ভার কে নেবে বলে ভুক্তভোগী এলাকাবাসি প্রশ্ন ছুড়ে দেন সংশ্লিষ্টদের কাছে।

উল্লেখ্য যে, পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন,২০১০ অনুযায়ী শহরের কোন পুকুর, জলাশয় কিংবা ডোবা ও বছরের পর বছর ধরে যেখানে জলমগ্ন থাকে উক্ত স্থানগুলো ভরাট করার কোন বৈধতা নেই। এদিকে, এলাকাবাসীর দাবী পুকুরটি ভরাট হলে ঐ এলাকার শত শত বাড়ি ঘর পানিতে নিমজ্জিত হওয়াসহ নানা দুর্ভোগ পোহাতে হবে। বৃষ্টি মৌসুমে পানিতে প্রতিটি রাস্তাঘাট ও বাড়ীতে জমাট হয়ে থাকবে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris