রবিবার

১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
মেয়েদের জন্য ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষা ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা যেন লোক দেখানো না হয় : জামায়াত আমির রাজশাহী কোর্ট কলেজে বরণ-বিদায় ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কাজী নজরুল ইসলাম সম্মাননা পেলেন কবি শামীমা নাইস ছোট্ট জান্নাতের মৃত্যু যেনো নাড়িয়ে দিলো প্রতিটি হৃদয় পবার ৬৬৯ পরিবার পেলো ফ্যামিলি কার্ড হাজার কোটি টাকার টার্গেট নিয়ে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু রাজশাহীতে অটোরিক্সা চালক হত্যায় চার জন গ্রেপ্তার, অটোরিক্সা উদ্ধার রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ‘চাঁদাবাজ’ হিসাবে অপপ্রচারের অভিযোগ নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার মূল হোতাসহ ১৫ জন গ্রেফতার

ঢাকা ও চট্টগ্রামে বস্তি এলাকার মানুষের অ্যান্টিবডির হার বেশি

Paris
Update : বুধবার, ২৩ জুন, ২০২১

এফএনএস : রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বস্তি ও বস্তি সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী নারী ও পুরুষের মধ্যে সেরোপজিটিভিটির (অ্যান্টিবডি) হার বেশি। ঢাকায় ৭১ শতাংশ ও চট্টগ্রামে ৫৫ শতাংশ নারী ও পুরুষের মধ্যে অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। বয়স্ক ও তরুণদের অ্যান্টিবডির হার প্রায় সমান। নারীদের মধ্যে অ্যান্টিবডির হার ৭০ দশমিক ছয় শতাংশ এবং পুরুষদের ৬৬ শতাংশ। আইসিডিডিআরবির সম্প্রতি সার্চ-কভ-২ সংক্রমণের বিস্তার নির্ণয়ের জন্য এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

তিন হাজার ২২০ জনের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, চট্টগ্রামের তুলনায় ঢাকায় অ্যান্টিবডির হার বেশি। যেসব অংশগ্রহণকারীর (মোট দুই হাজার ২০৯ জন) মাঝে অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে, তাদের মধ্যে শুধু ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশের ক্ষেত্রে মৃদু উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। জানা গেছে, আইসিডিডিআরবি সম্প্রতি সার্চ-কভ-২ সংক্রমণের বিস্তার নির্ণয়ের জন্য একটি গবেষণা পরিচালনা করে। গবেষণাটি ঢাকা ও চট্টগ্রামের বস্তি এবং বস্তি সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী সার্চ-কভ-২ এর উপসর্গযুক্ত ও উপসর্গহীন ব্যক্তিদের ওপরে করা হয়েছে।

এই সমীক্ষার মাধ্যমে সেরোপজিটিভিটি (রক্তে সার্চ-কভ-২ এর উপস্থিতি) সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়। এ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে ফরেইন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) ও ইউনাইডেট নেশনস পপুলেশন ফান্ড (ইউএনএফপিএ)। বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ এই গবেষণায় অ্যাডভোকেসি পার্টনার হিসেবে কাজ করেছে।

এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল বস্তি ও বস্তির বাইরে বসবাসকারীদের রক্তে কোভিড-১৯ এর উপস্থিতি এবং তার সম্ভাব্য কারণ নির্ণয় করা। যেসব সম্ভাব্য কারণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে সেগুলো হলো- শরীরে অন্যকোনো শ্বাসকষ্টজনিত ভাইরাসের উপস্থিতি, পুষ্টিগত অবস্থা (যেমন: ভিটামিন ডি, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম) এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা। এই সমীক্ষাটি ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি সময়ের মধ্যে পরিচালিত হয়।

গবেষণা থেকে প্রাপ্ত মূল তথ্যের মধ্যে রয়েছে- ১. স্বল্পশিক্ষিত, অধিক ওজন, উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রয়েছে যাদের, তাদের মাঝে অধিকমাত্রায় সেরোপ্রিভেলেন্স (রক্তে কোভিড উপস্থিতির হার) দেখা গেছে। ২. বারবার হাতধোয়ার প্রবণতা, নাক-মুখ স্পর্শ করা, বিসিজি টিকাগ্রহণ এবং মাঝারি ধরনের শারীরিক পরিশ্রম করা ব্যক্তিদের মাঝে কমমাত্রার সেরোপ্রিভেলেন্স দেখা গেছে। ৩. সেরোনেগটিভ ব্যক্তিদের তুলনায় সেরোপজিটিভ ব্যক্তিদের মাঝে সেরাম জিংকের মাত্রা বেশি দেখা গেছে।

৪. গবেষণায় ভিটামিন ডি-এর অপর্যাপ্ততার সাথে সেরোপজিটিভিটির কোনো প্রভাব দেখা যায়নি বরং গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ভিটামিন ডি-এর উচ্চমাত্রার ঘাটতি দেখা গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বস্তির বাইরে বস্তিসংলগ্ন এলাকার নিম্ন-মধ্য আয়ের মানুষের তুলনায় সার্স-কোভ-২ অ্যান্টিবডি সেরোপ্রিভেলেন্স বস্তিতে বেশি।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মধ্যে ঘনঘন হাতধোয়া, সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রভাব ফেলেছে। সেরোপজিটিভিটির সাথে যুক্ত অন্য প্রভাবক কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ। মাঝারি কায়িক শ্রম যারা করে তাদের মাঝে সেরোপজিটিভিটির সম্ভাবনা কম দেখা গেছে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris