স্টাফ রিপোর্টার : সর্বাত্মক লকডাউনের তৃতীয় দিনে করোনাভাইরাসের ‘হটস্পট’ রাজশাহীতে কমেছে সংক্রমণ। গতকাল রোববার দুইটি ল্যাবে রাজশাহী জেলার ৩৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ১৫৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। রোববার রাতে প্রকাশিত দুইটি পিসিআর ল্যাবের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, আগের দিনের চেয়ে ১২.৪৯ শতাংশ কমে করোনা শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৪১.১৮ শতাংশে। যা আগের দিন শনিবার ছিলো ৫৩.৬৭ শতাংশ।
ল্যাব সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাজশাহীর দুইটি ল্যাবে চার জেলার মোট ৬৫২ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এরমধ্যে করোনা পজেটিভ এসেছে ২৪৩ জনের। জানা যায়, রাজশাহী জেলার ৩৭৪ নমুনা পরীক্ষ করে ১৫৪ জনের করোনা পজেটিভ আসে। এছাড়াও নাটোরের ১১১ নমুনা পরীক্ষায় ২৬, নওগাঁর ১৬৫ নমুনার মধ্যে ৬৩ জনের করোনা পাওয়া গেছে। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুইটি নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে।
এদিকে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে রাজশাহীতে সাতদিনের ‘সর্বাত্মক লকডাউনের’ তৃতীয় দিন অতিবাহিত হয়ে আজ সোমবার চতুর্থ দিন। শুক্রবার বিকেল থেকে এই লকডাউন শুরু হয়। চলবে আগামী ১৭ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত। লকডাউনের তৃতীয় দিনে সকাল থেকেই রাজশাহী নগরীর রাস্তাঘাট ফাঁকা ছিলো। দোকান-পাটও বন্ধ রয়েছে। তবে কিছু মানুষকে পায়ে হেঁটে যেতে দেখা গেছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, মহানগরীতে জরুরি সেবা পরিবহন ও ওষুধের দোকানপাট খোলা ছাড়া সব বন্ধ রয়েছে। নগরীর সবকয়টি প্রবেশমুখে চেকপোস্ট বসিয়ে শক্তভাবে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। বিনা কারণে কাউকেই শহরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়াও নগরজুড়ে রয়েছে পুলিশী টহল। তারা লকডাউন বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অপরদিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৬ জন করোনা পজেটিভ ছিলেন। বাকি ৭ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। মৃতদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ ও ১ জন মহিলা। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, গত শনিবার সকাল ৬টা থেকে গতকাল রোববার সকাল ৬টার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তারা মারা যান।
এদের মধ্যে রাজশাহীর ২ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ জন, নওগাঁর ৩ জন, নাটোরের ১ জন ও কুষ্টিয়ার ১ জন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ২৮৯ জন। পরের দিন গতকাল রোববার রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৪ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৪২ জন। ছুটি নিয়েছেন ৩৫ জন। নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে রাজশাহীর ২৭ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৭ জন, নাটোরের ৩ জন ও নওগাঁর ৫ জন। মোট ভর্তি হওয়া ২৯৪ জন রোগীর মধ্যে রাজশাহীর ১৩০ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০৮ জন, নাটোরের ১৪ জন, নওগাঁর ২৮ জন, পাবনার ৪ জন ও কুষ্টিয়ার ১ জন।