স্টাফ রিপোর্টার : দেশে সংক্রমণের ৮০ শতাংশই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে (ধরন) বলে সরকারের একটি গবেষণায় পাওয়া গেছে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এর শনাক্তার হার ৯৩.৭৫ শতাংশ। ভারতীয় ধরন হিসেবে পরিচিত ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের প্রমাণও পাওয়া গেছে ওই গবেষণায়। পাশাপাশি দেশে অজানা একটি ভ্যারিয়েন্টও শনাক্ত হয়েছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপিং সায়েন্স অ্যান্ড হেলথ ইনিশিয়েটিভস (আইডিএসএইচআই) করোনভাইরাসের ৫০টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করেছে।
সেখান থেকে এই তথ্য জানা গেছে। দেশে গত ৮ মে প্রথম ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। পরীক্ষায় ৫০টি নমুনার ৪০টি (৮০ শতাংশ) ভারতীয় ধরণ। ৮টি (১৬ শতাংশ) বিটা ভ্যারিয়েন্ট বা সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট, একটি সার্কুলেটিং ও ১টি আন-আইডিন্টিফাউড (অজানা) ভ্যারিয়েন্ট। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত রোগীদের মধ্যে ১৪ জন বিদেশে যাননি এবং বিদেশ থেকে আগত রোগীর সংষ্পর্শে আসার কোনো তথ্যও পাওয়া যায়না। এ কারণে গবেষণায় বলা হচ্ছে বাংলাদেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কমিউনিটি সংক্রমণ বিদ্যমান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করা ১৬টি নমুনার মধ্যে ১৫টি ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট এবং গোপালগঞ্জ থেকে সাতটি নমুনার সবগুলোর মধ্যেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। খুলনা থেকে সংগ্রহ করা তিনটি নমুনাই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট এবং ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা চারটি নমুনার মধ্যে দুটি ছিল ডেল্টা ভেরিয়েন্ট। এ ছাড়া দিনাজপুর, গাইবান্ধা, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ ও পিরোজপুর থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টটি পাওয়া গেছে। গত বছরের অক্টোবরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টটি প্রথম শনাক্ত করা হয়। এটি করোনাভাইরাসের আগের স্ট্রেইনের চেয়ে অনেক বেশি সংক্রামক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভেরিয়েন্টটিকে ‘উদ্বেগের ভ্যারিয়েন্ট’ বলে অভিহিত করেছে।
দেশে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ এবং রাজধানী ঢাকাতেও ভারতীয় ভেরিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) পরিচালিত জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ৮০ শতাংশই ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। গত বৃহস্পতিবার আইইডিসিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত দেশে করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কমিউনিটি সংক্রমণ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, আইইডিসিআর নিয়মিত করোনার উচ্চ সংক্রমিত এলাকাসমূহে আক্রান্ত রোগীদের তথ্য অনুসন্ধান, কন্টাক্ট ট্রেসিং এবং সন্দেহজনক রোগীদের নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করছে।
গত ১৬ মে বাংলাদেশে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিতের পর থেকে আইইডিসিআর ও আই দেশি এ পর্যন্ত ৫০টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন করেছে। এসব নমুনার মধ্যে ৪০টি (৮০ শতাংশ) নমুনায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট, আটটি (১৬ শতাংশ) নমুনায় বিটা ভ্যারিয়েন্ট (সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট) শনাক্ত হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে সংগৃহীত ১৭টি নমুনার ১৫টিতে এবং গোপালগঞ্জ জেলা থেকে সংগৃহীত সাতটি নমুনার সবগুলোতে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। খুলনা শহর থেকে সংগৃহীত তিনটি নমুনার সবগুলোতে এবং ঢাকা শহরের চারটি নমুনার দুইটিতে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় সাতজনের নমুনায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। এছাড়া ভারত থেকে আগত ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আক্রান্ত বিভিন্ন জেলার অপর তিন অধিবাসী চুয়াডাঙ্গা ও খুলনায় চিকিৎসাধীন আছেন।
শনাক্ত হওয়া করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট রোগীদের মধ্যে তিনজনের (৭ শতাংশের) বয়স অনূর্ধ্ব ১০ বছর, সাতজনের (১৮ শতাংশের) বয়স ১০-২০ বছর , ১০ জনের ( ২৫ শতাংশের ) বয়স ২১-৩০ বছর, আটজনের (২০ শতাংশের ) বয়স ৩১-৪০ বছর, আটজনের (২০ শতাংশের ) বয়স ৪১-৫০ বছর এবং চারজনের (১০ শতাংশের) বয়স ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে। তাদের মধ্যে ২৪ জন (৬০ শতাংশ ) রোগী পুরুষ।
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আক্রান্তদের মধ্যে আটজনের ভারতে ভ্রমণের ইতিহাস আছে এবং ১৮ জনের বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার ইতিহাস আছে। অপর ১৪ জন (৩৫ শতাংশ) রোগীর বাংলাদেশে ভ্রমণের অথবা বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার কোনো ইতিহাস পাওয়া যায়নি।
আইইডিসিআর আরও বলছে, বাংলাদেশে করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কমিউনিটি সংক্রমণ বিদ্যমান। বাংলাদেশে ভাইরাসটির সংক্রমণের হার দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাসহ অন্যান্য জেলায় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সংক্রমণের হার রোধ করার লক্ষ্যে দেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টসহ অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার রোধে আইইডিসিআর সবাইকে সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি (যেমন- বিনা প্রয়োজনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকা, জনসমাগম এলাকা এড়িয়ে চলা, অন্যদের থেকে সারির দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করা ও নিয়মিত সাবান পানি দিয়ে হাত ধৌত করা ইত্যাদি) মেনে চলার জন্য অনুরোধ করেছে।