এফএনএস : নাবিল সামাদের বল স্লগ সুইপে ড্রেসিং রুমের দুয়ারে আছড়ে ফেললেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দেখালেন নিজের হাতের জোর। খানিকপর সাব্বির রহমানের বল উড়িয়ে প্রায় কাছাকাছিই ফেললেন জহুরুল ইসলাম। ওই দুটি শটে মিশে থাকল দুজনের দাপটের ছাপ। বাকি সময়টাও দারুণ ব্যাটিংয়ে লিগে খেলাঘরকে প্রথম জয় এনে দিলেন এই দুজন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টির ম্যাচে নামের ধারে-ভারে অনেক এগিয়ে থাকা লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে ৭ উইকেটে হারিয়ে দিল খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার আল আমিনের ফিফটিতে রূপগঞ্জ ২০ ওভারে করে ১৩৮ রান।
মিরাজ ও জহুরুলের ফিফটিতে খেলাঘর জেতে ৩ বল বাকি রেখে। লিগে আগের দুই ম্যাচে পাঁচে নেমে সুবিধা করতে না পারা মিরাজ এবার তিনে নেমে খেলেন ৪৫ বলে ৫৪ রানের ইনিংস। ওই দুই ম্যাচের ব্যর্থতা ঝেরে অধিনায়ক জহুরুল অপরাজিত ৫৩ রানে ফেরেন দলের জয় সঙ্গে নিয়ে। ১৩ ওভারে দুজনের ৯৭ রানের জুটি খেলাঘরকে এগিয়ে নেয় জয়ের পথে। খেলাঘরের রান তাড়ার শুরুটা যদিও ভালো হয়নি। তৃতীয় ওভারেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে সানজামুল ইসলামকে উড়িয়ে মেরে লং অনে ধরা পড়েন সাদিকুর রহমান।
খানিক পর আলগা শটে মোহাম্মদ শহিদের বল স্টাম্পে টেনে আনেন ইমতিয়াজ হোসেন। দুজনের রান ৯। জহুরুল উইকেটে গিয়েই স্কুপ করে চার মারেন শহিদকে। পরের ওভারে সানজামুলকে ছক্কা মারেন মাথার ওপর দিয়ে। সানজামুলকেই সুইপ করে চার মারেন মিরাজ। উড়ে যায় সব চাপ, ছুটতে থাকে দুজনের জুটি। শুরুতে জহুরুল আগ্রাসী হলেও পরে মিরাজ দ্রুত বাড়াতে থাকেন রান। জহুরুল তখন মন দেন উইকেট ধরে রাখায়। তাতে জুটি হয়ে যায় জমাট। মিরাজ টি-টোয়েন্টিতে তার চতুর্থ ফিফটি স্পর্শ করে ৩৯ বলে। এই জুটিই গড়ে দেয় ম্যাচের ভাগ্য।
তিন ওভারে যখন প্রয়োজন ১৭ রান, মুক্তার আলির স্লোয়ারে ছক্কার চেষ্টায় লং অনে সানজামুলের দারুণ ক্যাচে বিদায় নেন মিরাজ। শেষ হয় তার ৬ চার ও ১ ছক্কার ইনিংস। সালমান হোসেনকে নিয়ে বাকি পথটুকু পাড়ি দেন জহুরুল। শেষদিকে যদিও একটি কঠিন হয়ে পড়ে সমীকরণ। দুই ওভারে যখন প্রয়োজন ১৩ রান, ১৯তম ওভারে শহিদ একটি বাউন্ডারি হজম করার পরও ওভারে দেন ৫ রান। শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৮ রান। কিন্তু জহুরুল চাপে নুয়ে পড়েননি। সোহাগ গাজীর করার শেষ ওভারের প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন সালমান।
পরের দুই বলে দুটি বাউন্ডারিতে নিজের ফিফটির পাশাপাশি জহুরুল দলকেও পৌঁছে দেন জয়ের ঠিকানায়। ৪৪ বলে তার ৫৩ রানের ইনিংসে চার-ছক্কা তিনটি করে। ম্যাচের প্রথম ভাগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা রূপগঞ্জের শুরুটাও হয় বাজে। দুই ওপেনার ৫ ওভারে করতে পারেন কেবল ২৬ রান। তাতে মূল দায় সাদমাস ইসলামের, টাইমিংই করতে পারছিলেন না তিনি। ষষ্ঠ ওভারে মিডিয়াম পেসার মাসুম খানে ‘ব্যাক অব দা হ্যান্ড’ স্লোয়ারে স্লগ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে শেষ হয় সাদমানের ভোগান্তি।
৮ রান করতে বল খেলেন তিনি ২২টি! মন্থর শুরুর বলি হন তিনে নামা অধিনায়ক নাঈম ইসলাম। মাসুমের ঠিক একই ধরনের স্লোয়ারে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় আউট হন তিনি শূন্য রানে। ওপেনার আজমির আহমেদ অবশ্য দারুণ কিছু শটে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন। তাকে থামতে হয় দুর্দান্ত এক ক্যাচে। লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনকে স্লগ সুইপে উড়িয়ে মারেন তিনি, মিড উইকেটে ডানদিকে অনেকটা ছুটে নিচু হয়ে বল হাতে জমান মাসুম খান। ২১ বলে ২৮ থামে তার সম্ভাবনাময় ইনিংস।
চতুর্থ উইকেটে ৫৫ রানের জুটিতে রূপঞ্জকে এগিয়ে নেন আল আমিন ও সাব্বির রহমান। শেষ দিকে যখন ঝড় তোলার পালা, সাব্বির তখনই মিরাজের বলে সীমানায় ধরা পড়েন ২১ বলে ২৩ রান করে। জাতীয় দলে জায়গা হারানো সাব্বির লিগের দুই ইনিংসেই আউট হলেন ২৩ রান করে। আল আমিন শেষদিকে তুলতে পারেননি প্রত্যাশিত ঝড়। শেষ ওভারে আউট হন ৪২ বলে ৫১ রান করে। ৪৩ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তার প্রথম ফিফটি এটি।
জাকের আলির ১২ বলে ১৯ রানের ইনিংসে একটু বাড়ে দলের রান। এই লিগের ধারা অনুযায়ী ১৩৮ রানের পুঁজি লড়ার মতোই ছিল। কিন্তু মিরাজ ও জহুরুলের ব্যাটিংয়ে খুব একটা জমেনি লড়াই। ফিফটির সঙ্গে একটি উইকেটও আছে মিরাজের, তবে ম্যাচ জিতিয়ে ফেরায় ম্যান অব দা ম্যাচ জহুরুল। লিগে রূপগঞ্জের এটি টানা দ্বিতীয় হার, তিন ম্যাচ খেলে খেলাঘরের প্রথম জয়।