চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রতিনিধি : সরকারি সীধান্তে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ দিয়ে গত রবিবার পর্যন্ত ৫ দিনে ৬৫ জন ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। ফেরত আসাদের ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারান্টাইনের ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে জেলা পরিষদের শিবগঞ্জ উপজেলা ডাকবাংলো, জেলা শহরের হোটেল আল নাহিদ, রোজ আবাসিক হোটেলে এই ৬৫ জনকে কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভারত ফেরত ৬৫ জনের মধ্যে ১ জনের দেহে করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে।
এছাড়াও ভারতীয় ধরন পরীক্ষা জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ফলাফল পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদকের সাথে মুঠোফোনে কথা হয় ভারত থেকে ফিরে বাধ্যতামূলক কোয়ারান্টাইনে থাকা কয়েকজনের সাথে। তারা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে নাগরিকদের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা এনওসি পেতে নানা হয়রানীর মধ্যে পড়তে হচেছ। অন্যদিকে, দেশে ফিরে কোয়ারান্টাইন সেন্টারে গিয়ে মিলছে না পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ খাবার পানি।
রাজশাহী কোর্ট স্টেশন এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম চিকিৎসা করতে গিয়েছিলেন ভারতে।
দেশে লকডাউন ঘোষণা করলে ও সীমান্ত বন্ধ হয়ে গেলে আটকে পড়েছিলেন নজরুল। তিনি জানান, গত ২০ মে সোনামসজিদ দিয়ে দেশে ফিরেছি। এরপরই প্রশাসন হোটেল আল নাহিদে নিয়ে আসে। এখানে জেলা প্রশাসন থেকে তিন বেলা খাবার দিয়ে যায়। কিন্তু এখানে সবসময় খাবার পানি সরবরাহ পাওয়া যায় না। এমনকি রুম পরিষ্কার-পরিছন্নতার ক্ষেত্রেও হোটেল কর্তৃপক্ষের তেমন কোন তৎপরতা নেই। এখানে অত্যান্ত মানবেতর জীবনযাপন করছি আমরা। পানি স্বল্পতার কথা জানান, শিবগঞ্জ উপজেলা ডাকবাংলো কোয়ারান্টাইন সেন্টারে থাকা আরেক ভারত ফেরত নাগরিক।
ভারত ফেরত ব্যবসায়ী মমিনুল ইসলাম বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এনওসি পেতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। বিশেষ করে, যাদের ব্যবসায় ফিসা রয়েছে তাদেরকে কোনভাবেই নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা এনওসি দিচ্ছে না। এছাড়াও যাদের ভিসার মেয়াদ রয়েছে, তাদেরকেও বিভিন্ন হয়রানি ও ফিরিয়ে দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা হাইকমিশন। তিনি আরো বলেন, সেখানে থাকতে থাকতে টাকা-পয়সা শেষ হয়ে গিয়ে আরও বেশি বিপদে পড়তে হয়েছে অনেককেই। টাকা শেষ হয়ে নানারকম হয়রানির শিকার হয়েছি। দেশের হাইকমিশন আমাদের তেমন সহযোগিতা করেনি। সুয়ে, ঘুমিয়ে, টিভি দেখে ও পরিবারের লোকজনের সাথে ফোনে কথা দিন কাটছে উল্লেখ করে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত ফেরত এক ২৪ বছর বয়সী ক্যান্সার রোগী জানান, চেন্নাই গিয়েছিলাম চিকিৎসার জন্য।
গত ১৭ তারিখে কলকাতা হাইকমিশনে গিয়ে দেশে ফেরার জন্য যোগাযোগ করলে তারা এনওসি দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। অনেক ঘুরে ঘুরে এনওসি নিয়ে গত ২০ মে দেশে ফিরেছি। তিনি আরো জানান, কোয়ারান্টাইনে সেন্টারের খাবারের মান মোটামুটি ভালো। কিন্তু পানির অপর্যাপ্ততা রয়েছে ব্যাপক, মোটাচালের ভাত দেয়া হচ্ছে। সঠিকমতো পানি পাওয়া যায় না। এমনকি থাকার ভাড়া ৫০ শতাংশ কমানোর কথা বলা হয়েছে। আমরা কৃষক, খেটে-খাওয়া সাধারণ মানুষ। তাছাড়া আমরা যেহেতু নানা হয়রানীর পরে দেশে ফিরেছি, তাই আমাদের দাবি রুমের ভাড়া মওকুফ করা হোক। ভারতে আরও প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশি আটকে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের সকল নির্দেশনা মেনে ভারত ফেরতদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করতে কাজ করছে জেলা সিভিল সার্জন অফিস ও জেলা প্রশাসন। ১২ দিনের মাথায় সকলের পরীক্ষা করে নেগেটিভ পেলেই ছাড়পত্র মিলবে। অন্যদিকে পজেটিভ হলে আবারো আরো ১৪ দিনের কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রতিদিন সকলের তথ্য সংগ্রহ করা হচেছ। উল্লেখ্য, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেনাপোল বন্দরের পাশাপাশি দর্শনা, হিলি ও সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা আসছেম। গত রবিবার সকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে নাগরিকদের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা এনওসি দেয়া শুরু হয়েছে।