এফএনএস : রাজশাহীর পুঠিয়ায় চলতি অর্থ বছরে কৃষকের নামে আমদানি করা গম কেনা শুরু করেছে উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ। খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার সহযোগিতায় কৃষকদের নিকট হতে গম না নিয়ে। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের নিদের্শ অনুযায়ী কৃষকদে নামের তালিকা ধরে আমদানীকৃত গম খাদ্যগুদামে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসিলিটি) গোলাম মোস্তফা বলেন, এ বছর উপজেলায় ৫১৮ মে.টন গম কৃষকদের নিকট থেকে কেনা হবে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি মণ গমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, এক হাজার ১২০ টাকা দরে। এ পর্যন্ত গত কয়েক দিনে ৫০ মে.টন গম কেনা হয়েছে। বাকি গম আগামী ৩০শে জুনের মধ্যে কেনা হবে। ব্যবসায়ীদের আমদানীকৃত গম কেনো কিনছেন, এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, আমরা কৃষিকার্ড দেখে গম কিনছি, ব্যবসায়ী দেখে না।
গুদামে যে বস্তা বা গম আসছে তা আমদানীকৃত এমন কোথাও লেখা নেই। গমের মান ভালো তাই আমরা গম কিনছি। প্রত্যক্ষদশীরা বলেন, গত দুইদিন থেকে সন্ধ্যার পর্যন্ত ট্রাক বোঝাই গম ঢুকছে তাহেরপুর রোডের গোডাউনে। কোনো কোনো ট্রাকের ভেতর ভারতীয় সীলযুক্ত গমের বস্তা দেখা যাচ্ছে। গমগুলো গোডাউনের সামনে দেশীয় বস্তার ভেতরে ডোকানো হচ্ছে। রুবেল হোসেন নামে গম সরবরাহকারী ট্রাকের ষ্টাফ বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সোনা মসজিদ বন্দর থেকে এই গমগুলি এসেছে।
এগুলো ভারতীয় আমদানীকৃত গম। ট্রাকের ভেতরে থাকা গম আমাদের দেশের নয়। ভারতীয় সীল লাগানো বস্তায় খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ গম নিবেন না। এইজন্য, গোডাউনের বাহিরে ট্রাক নিয়ে বসে আছি। গুদামের সামনে বস্তা বদল করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, গোডাউনে বর্তমানে কৃষকরা ধান-গম বিক্রি করতে পারে না। কৃষকদের নিকট হতে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা কিছু টাকা দিয়ে কৃষিকার্ড কিনে গোডাউনে গম সরবরাহ করছে।
উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং রাজনৈতিক নেতারা মিলে ব্যবসায়ীরা গোডাউনে গম সরবরাহ করছে। আর কৃষকরা গম নিয়ে গুদামে গেলে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অযুহাতে তা ফেরৎ পাঠায়ে দেন। এর মধ্যে দুই একজন দিতে পাড়লেও গুদাম কর্মচারীদের বকস্সি দিতে হয়। যার কারণে কৃষকরা খাদ্যগুদামে গম বিক্রি করতে আগ্রহ হয় না।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, গত কয়েকদিন আগে আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি মৌসুমের গম কেনা শুরু হয়েছে। আমরা কৃষিকার্ড দেখে প্রকৃত কৃষকদের নিকট থেকে গম কিনছি। কৃষকদের হয়রানী করা হয় এবং ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে আমদানীকৃত গম কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর রকম কোনো সুযোগ এখানে নেই। যদি কৃষকরা গম নিয়ে আসেন, তবে অবশ্যই আমরা তা কিনে নিব।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য কেনা কমিটির সভাপতি নরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ বলেন, প্রকৃত কৃষকদের নিকট হতে খাদ্য কিনতে গুদাম কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে গম কেনার কোনো সুযোগ নেই। এখনো ট্রাক বোঝাই আমদানীকৃত গম গুদামের মধ্যে রয়েছে বিষয়টি কথা বললেতিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।