স্টাফ রিপোর্টার : এক পশলা বৃষ্টিতে তীব্র রৌদ্রর প্রখরতায় কেটে শান্ত হয় বিকেল। তাই নির্মল বিনোদনের খোঁজে পদ্মাপাড়েই নেমে আসে জনস্রোত। কারো মুখে মাস্ক আছে কারো নেই। কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন আবার কেউ মানছেন না। কিন্তু সবাই পদ্মার চরে নেমে মরা পদ্মার নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন এই করোনাকালে। কারণ এ পদ্মা নদীকে ঘিরেই রাজশাহীর মানুষের বিনোদন আর ভালোবাসার টান। যেন বিনোদনের সব সুর মিলেছে পদ্মা নদীর মোহনাতেই। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি পদ্মা নদীর কূলে থাকছে বিনোদন পিপাসুদের ভিড়।
বর্ষায় উজান থেকে আসা ঢল ও ভারী বর্ষণে এবারের টইটম্বুর হয়ে ওঠে এই পদ্মা। নদীর উত্তাল স্রোত আছড়ে পড়ে পদ্মার পাড়ে। মাঝনদীর জলরাশিতে খেলতে থাকে ঢেউ। কিন্তু এখন এসবের কিছুই নেই। তারপরও থেমে নেই মানুষ। ঈদের ছুটিতে তাই সকাল-বিকেল প্রকৃতির টানে সবাই ছুটে যাচ্ছেন পদ্মারপাড়েই। মুখের মাস্ক খুলে নির্মল বাতাসে প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন। ভরা পদ্মার প্রতি মানুষের যেমন টান থাকে, তেমনই আছে এখন। করোনার ভয়ে এতটুকুও হেরফের হয়নি। ঈদের দ্বিতীয় দুপুরের বৃষ্টির পর বিকেল গড়াতেই জনসমাগমে ভরে উঠেছে পদ্মা নদীর পাড়।
ঈদের পরদিন গতকাল শনিবার বিকালে গিয়ে দেখা যায়, কচিকাচা থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষের কোলাহলে মুখরিত হয়ে ছিল পদ্মা তীরবর্তী গোটা শহর রক্ষা বাঁধ এলাকা। শহরের পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত শহররক্ষা বাঁধ ছুঁয়ে থাকা পদ্মারপাড়ই সবার জন্য হয়ে উঠে বিনোদনের সেরা ঠিকানা। এর ওপর এখন যোগ হয়েছে ঈদের বাড়তি আনন্দ। ঈদের ছুটি শেষ হচ্ছে আজ।
তাই জনসমাগম ছিল পদ্মাপাড়ে। ঘরবন্দি মানুষগুলো অখণ্ড অবসর উদযাপনে যায় পদ্মাপাড়ে। মাঝ নদীতে পানি আছে। আছে স্রোতও। সেই স্রোতের বয়ে চলার মাঝেই আটপৌরে জীবনের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলছেন রোগশোক আর ক্লান্তিতে থাকা মানুষজন। মৃত প্রায় নদীর স্রোতের শব্দে খুঁজছেন মানসিক প্রশান্তি।
মহানগরীর পঞ্চবটি আই বাঁধ থেকে শ্রীরামপুর টি-বাঁধ পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে সব জায়গাতেই এখন মানুষের জটলা। রাজশাহীতে হাতেগোনা কয়েকটি বিনোদন স্পট থাকায় মানুষের পছন্দের তালিকায় এখনও সবার ওপরেই রয়েছে পদ্মাপাড়। ছোট-বড় সব বয়সের মানুষের কাছেই সমান পছন্দ পদ্মা। তাই করোনা আতঙ্কের মধ্যেও বিনোদন পিপাসুরা ভিড় করছিল সেখানে। এতে পদ্মাপাড়ে বাদাম, চটপটি থেকে শুরু করে ফুটপাতের সব দোকানগুলোর ব্যবসাও চলছে। কর্মস্থল শুরু হলেও বিকেলে ছুটির আমেজ বিরাজ করে সেখানে।