স্টাফ রিপোর্টার : সারাদেশের অংশ হিসাবে রাজশাহী জেলা ও নগরে চলেছে লকডাউন। তবে রাজশাহীতে লকডাউনের অবস্থা অনেকটা ঢিলেঢালা ছিলো। গতকাল সোমবার প্রথম দিন জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব বন্ধ থাকলেও কঠোরভাবে লকডাউন মেনে চলাতে মাঠে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে মার্কেট খোলার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ব্যবসায়ী-কর্মচারিরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার আরডিএ মার্কেটের সামনে জড়ো হয়ে ব্যবসায়ী ও কর্মচারিরা বিক্ষোভ শুরু করের। তারা সড়ক অবরোধ করে এবং দোকান খুলে দেয়ার দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেন। পরে পুলিশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। তারা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেন।
রাজশাহী কাপড় পট্টি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামিম সাংবাদিকদের জানান, ‘গতবছর লকডাউনের কারণে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে ঠিকমতো ঈদ করতে পারের নি। লকডাউন চলছে চলুক, আমাদের একটা সময় বেঁধে দিলে ভালো হবে। সেই সময়ের মধ্যে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা করতে চাই’। তিনি আরো বলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু আসলাম ও পুলিশের কর্মকর্তারা এসেছিলেন। তারা আমাদের সাথে কথা বলেছেন।
তারা জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে আমাদের জানাবেন। বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ নিবারণ চন্দ্রবর্মন জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু আসলাম এসে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেছেন। ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো শুনেছেন। তিনি ব্যবসায়ীদের কথাগুলো সরকারের উপর মহলে জানাবেন এমন আশ্বাস দেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আগামীকাল মঙ্গলবার জানানো হবে। এরকম অলোচনার পর রাস্তা থেকে ব্যবসায়ীরা চলে গেছেন।
অপরদিকে গতকাল শহরের সড়কে ভারী যানবাহন না চললেও রিকশা অটোরিকশা ও সিএনজি চলেছে। তবে এইসব পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীদের উঠতে ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে নির্দেশনা দিচ্ছে ট্রাফিক বিভাগসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কোথাও হালকা যানবাহনে দুই-তিনজনের অধিক যাত্রী দেখলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছে এবং বোঝানোর চেষ্টা করছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, রোববার রাত থেকেই মার্কেট ও গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। প্রথম দিনে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাহিরে যেন বের না হয়। তবে দ্বিতীয় দিন থেকে আরো কড়াকড়ি করা হবে বলে তিনি আভাস দেন।