মেহেদী হাসান সাগর : করোনা ভাইরাসের কারণে গত বছরের ১৮ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। বর্তমানে ক্লাস চলছে অনলাইনে। অনলাইন নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থায় স্মার্টফোন ও কম্পিউটারের স্বল্পতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসেও ফিরতে পারছেনা। এ নিয়ে কিছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে যখন হতাশা বিরাজ করছে; ঠিক সেই সময়ে কিছু শিক্ষার্থী এগিয়ে চলেছেন উদ্যোক্তা হওয়ার দৌড়ে। করোনাকালীন সময়ে ঘরে বসে নিজেদের সৃজনশীলতা দেখিয়ে আয়ের পথ সৃষ্টি করছেন। নিজে আত্ননির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি পরিবারকেও সাহায্য করতে পারছেন। বর্তমান সরকারও তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ঠ গুরুত্ব¡ আরোপ করছে।
সারাদেশের মত রাজশাহীর কিছু মেধাবী শিক্ষার্থী করোনাকালীন অবসর সময়ে শুরু করেছেন অনলাইনে ব্যবসা। এগিয়ে চলেছেন নতুন স্বপ্নের পথে। রাজশাহীর বারিন্দ মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করেন মেধাবী শিক্ষার্থী রাইসা। করোনাকালীন সময়ে তিনি শুরু করেছিলেন অনলাইন কাপড়ের ব্যবসা। বর্তমানে সেই ব্যবসা বেশ ভালো চলছে। অনলাইন ব্যবসা প্রসঙ্গে রাইসা আমাদের রাজশাহীকে বলেন, যেহেতু আমার মেডিকেলে সরাসরি ক্লাস বন্ধ, তাই চিন্তা করলাম নতুন কিছু করে নিজেকে সময় দিব। সেই ভাবনা থেকেই এই অনলাইন বিজনেস।
শুরুতে ভয় পাচ্ছিলাম। কিছু মানুষ নিষেধও করছিল। তবুও বাবা-মায়ের সমর্থনে আমি অনলাইনে বিজনেস শুরু করি। রাজশাহীতে অনলাইনে জনপ্রিয় আরেকজন তরুণ উদ্যোক্তা হলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ঐশী। তার প্রতিষ্ঠিত ফেসবুকে জনপ্রিয় পেজ “খাঁচা”। কারোনাকলে অনলাইন ব্যবসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের সমাজে একজন মেয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করা কিছুটা কষ্টকর। তবে বর্তমানে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন। নিজের পাশাপাশি পরিবারকে দেখাশোনা করতে পারছি। আর করোনাকালে সময়টাকেও কাজে লাগাচ্ছি।
রাজশাহীতে অনলাইনে কাপড়ের পাশাপাশি হাতে তৈরী খাবারও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ফারজানা’স কিচেনের স্বত্তাধিকারী নগরীর মালোপাড়া এলাকার ফারজানা বলেন, মানুষজন রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি বাসায় তৈরী খাবারও অনেক পছন্দ করছেন। খাবারের মান সঠিক রেখে ব্যবসা করতে পারলে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে এই সেক্টরে।
এদিকে করোনাকালীন সময়ে ঘরে বসেই কেনাকাটা করে খুশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী কানিজ ফাতেমা। তিনি বলেন, দোকানে কেনাকাটা করা বর্তমানে রিস্ক। তাই অনলাইনই আমার জন্য বেস্ট। তবে অনলাইনে কেনাকাটা করে বাজে অভিজ্ঞার কথা জানাচ্ছিলেন রাজশাহী সিটি কলেজের আব্দুল্লাহ আল বাতেন। তিনি বলেন, একরকম শার্টেও ছবি দেখিয়ে আরেকরকম দিয়েছিল। তারপর থেকে অনলাইনে কেনাকাটায় আরেকটু সাবধান হয়েছি।
রাজশাহী ইউমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি রোজিটি নাজনীন করোনাকালীন অনলাইনে বিজনেজ নিয়ে বলেন, আমরা বর্তমানে কঠিন একটি সময় অতিক্রম করছি। যারা অনলাইনে বিজনেজ করছেন তাদের প্রতি শুভকামনা রইল। তবে যেকোন ব্যবসায় বিশ্বাসই আসল। এক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই সচেতন হতে হবে।