সর্বশেষ সংবাদ
সাপাহারে প্রণোদনার কৃষি উপকরণ বিতরণ উদ্বোধন বর্ষায় দেখা নেই বৃষ্টির, হচ্ছে না জমি চাষ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সুশাসন দাবিতে রাজশাহীতে ১১ দলের বিক্ষোভ মিছিল আওয়ামী লীগ আর বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত জুলাই শহীদের স্বজনেরা আরো শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো, সতর্কতা জাতিসংঘ’র জুলাই-আগস্টে দেশে বন্যার শঙ্কা পদ্মা নদী রক্ষায় রাজশাহীতে ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে সরকার : এমপি মিলন

দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৭ জন নিহত মিয়ানমারে বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যবহৃত হচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্রের অস্ত্র : অ্যামনেস্টি

Paris
Update : শুক্রবার, ১২ মার্চ, ২০২১

এফএনএস : সেনাবিরোধী বিক্ষোভ ঠেকাতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ‘যুদ্ধক্ষেত্রের অস্ত্র’ ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহিংসতার ভিডিও ও ছবি পর্যালোচনা করে গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি। অ্যামনেস্টি জানায়, মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীদের ওপর যে ‘কৌশলগত ও পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ চালানো হচ্ছে, তার ভিজ্যুয়াল প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ রয়েছে।

এ ছাড়া এই সহিংসতা ঠেকাতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। অ্যামনেস্টির ক্রাইসিস এভিডেন্স ল্যাব মিয়ানমারে চলমান বিক্ষোভের ৫০টিরও বেশি ভিডিও যাচাই করে বলছে, দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিক্ষোভ ঠেকাতে ‘পরিকল্পনামাফিক ও পদ্ধতিগত কৌশল’ব্যবহার করছে। অ্যামনেস্টির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট যে মিলিটারিরা যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য উপযুক্ত অস্ত্র দিয়ে সজ্জিত রয়েছে।

এদিকে, গত সোমবার রাতভর তুমুল উত্তেজনা-উৎকণ্ঠার পর গত মঙ্গলবারও মিয়ানমারের একাধিক শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে অভ্যুত্থানবিরোধীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী আন্দোলনকারীদের দমনের পাশাপাশি এবার গণমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিল করা শুরু করেছে। এদিকে, চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী পরিচালিত ব্যবসায়ের ওপর আরও বৃহৎ পরিসরে নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, মিয়ানমারে বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৫৬ জনের বেশি। তবে, অন্যান্য প্রতিবেদনে এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। চলমান বিক্ষোভের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন ছিল গত ৩ মার্চ। মিয়ানমারের বিভিন্ন নগর ও শহরে সেদিন ৩৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন।

এতিকে মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সাত জন নিহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা ও গণমাধ্যম জানিয়েছে। বুধবার মধ্যাঞ্চলীয় শহর মায়াং ও বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভ চলাকালে এ প্রতিবাদকারীরা নিহত হন বলে জানিয়েছে তারা। মায়াং শহরে বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়, এতে ছয় প্রতিবাদকারী নিহত হন বলে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ও গুলিবিদ্ধদের হাসপাতালে নিতে সহায়তা করা এক ব্যক্তি টেলিফোনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

শহরটির একজন স্বাস্থ্য কর্মীও ছয় জন নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। ৩১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছিলাম। আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না তারা এটা করেছে।” ইয়াঙ্গনের নর্থ দাগন এলাকায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। ফেইসবুকে পোস্ট করা ছবিতে এক ব্যক্তিকে আধোমুখে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে, তার মাথায় লাগা আঘাত থেকে রক্ত ঝরছিল।

ফেইসবুকে করা পোস্ট অনুযায়ী, এদিন দেশটির আরও প্রায় ছয়টি শহরে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে বৃহস্পতিবারের আগ পর্যন্ত মিয়ানমারে ৬০ জনেরও বেশি জান্তাবিরোধী প্রতিবাদকারী নিহত হয়েছেন এবং প্রায় দুই হাজার জন প্রতিবাদকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দেশটির আইনজীবীদের একটি গোষ্ঠী জানিয়েছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করছে এবং দেশটিতে অনেক বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠী অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

এসব বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে জান্তার মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি কিন্তু জানান, রাজধানী নেপিডোতে গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় একটি সংবাদ সম্মেলন করবে সামরিক কাউন্সিল। দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমনে প্রতিদিনই আরও বেশি শক্তি নিয়ে মাঠে নামছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। এতে দেশটিজুড়ে বিরাজমান টালমাটাল পরিস্থিতি দিন দিন আরও অশান্ত হয়ে উঠছে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris