৬ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

মাঠ থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৭ মে ২০২৬, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: lead
মাঠ থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিজ্ঞাপন

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য সেনাবাহিনীকে মাঠে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে না। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে মাঠ থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং পুলিশ বাহিনীকে আবারও সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের আস্থা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৭ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সিলেট বিভাগের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় পাথর আহরণ নিয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সেনাবাহিনী নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিক কোনো প্রেস ব্রিফিং করেনি। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সরকার পর্যায়ে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, অনির্দিষ্টকালের জন্য সেনাবাহিনীকে মাঠে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে না। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি পুলিশ বাহিনীকে একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। জনগণের মনেও সেই বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। তাই পর্যায়ক্রমে সেনাবাহিনীকে মাঠ থেকে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে কীভাবে এই প্রত্যাহার কার্যক্রম পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা একসঙ্গে বসে পরিকল্পনা নির্ধারণ করবে বলেও জানান তিনি। চলমান বিশেষ অভিযান প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, জুয়াড়ি ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সময় শেষ হয়ে যায়নি। অপেক্ষা করুন, দেখতে পাবেন অভিযান চলছে। প্রতিদিনই দাগী আসামি গ্রেপ্তার হচ্ছে। মাদক, সন্ত্রাসবাদ, জুয়া ও অস্ত্র- সংক্রান্ত অপরাধীদের আটক করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও যৌথ অভিযানও পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এককভাবেও অভিযান পরিচালনা করছে। ‘বড় গডফাদারদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আমরা সঠিকভাবে তালিকা প্রণয়ন করে অভিযানে নেমেছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, সরকারের চলমান অভিযানের ফলে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে, সিলেট ও সুনামগঞ্জের পাথর এবং বালুমিশ্রিত পাথর কোয়ারিগুলো পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করে সীমিত আকারে ইজারা দেওয়ার বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় পর্যায়ক্রমে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন থেকে সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার পাথর কোয়ারির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, খনিজ সম্পদ আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করে এবং পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষিত স্থানগুলো বাদ দিয়ে কোথায় সীমিত আকারে পাথর উত্তোলন করা যায়, তা নির্ধারণে একটি সমন্বিত জরিপ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জাফলংয়ের মতো ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া ঘোষিত স্থানগুলো বাদ দিয়ে অন্যান্য এলাকায় কীভাবে সীমিত আকারে পাথর কোয়ারি ইজারা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ লক্ষ্যে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কমিটিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদফতর, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি এবং খনিজ সম্পদ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কমিটি সরজমিনে বিভিন্ন স্পট পরিদর্শন করবে। সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে কোথায় পাথর ও বালি জমে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, কোথায় নদীভাঙনে সীমান্তের পরিবর্তনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, সেগুলো খতিয়ে দেখা হবে। একইসঙ্গে কত গভীরতা পর্যন্ত পাথর উত্তোলন করলে পরিবেশের ক্ষতি কম হবে, সে বিষয়ে সুপারিশ দেবে কমিটি। তিনি আরও বলেন, বিছানাকান্দি, ভোলাগঞ্জ, সাদা পাথরসহ যেসব এলাকায় পর্যটন স্পট রয়েছে, সেগুলোকেও বিবেচনায় নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার অনির্দিষ্টকালের জন্য সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কাজে মাঠে রাখতে চায় না। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি পুলিশ বাহিনীকে আবারও সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। জনমনেও পুলিশের প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে। সে কারণে পর্যায়ক্রমে মাঠ থেকে সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে কী প্রক্রিয়ায় সেনা প্রত্যাহার হবে, তা পুলিশ, সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি। চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী চলমান বিশেষ অভিযানে রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া ও অস্ত্র সংশ্লিষ্ট দাগি আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও যৌথ অভিযানও চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সময় শেষ হয়ে যায়নি। আমরা তালিকা প্রণয়ন করে সঠিকভাবেই অভিযান পরিচালনা করছি।-এফএনএস

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন