ফারুক আহমেদ : রাজশাহীর বাগমারা, মোহনপুর, তানোর, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে দীর্ঘ ৫১ কিলোমিটার বারানয় নদী। এই নদী এখন জলাবদ্ধতায় পরিণত হয়েছে। বারানয় নদী এখন জলাবদ্ধতায় পরিণত হওয়ায় নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। নদীর পানি বিষাক্ত হওয়ায় জলজ উদ্ভিদ ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে গিয়ে ভেসে উঠছে। নদীর পানি বিষাক্ত হওয়ায় নদীর পানি এখন কালো মস মশে পানি। নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ায় নদী তীরবর্তী মানুষ কৃষিকাজসহ নদী তীরবর্তী মানুষজন নদীর পানি ব্যবহার করতে পারছেন না। সেই সাথে কচুরিপানায় ভরে গেছে সমস্ত নদী। নদী তীরবর্তী কৃষকরা জানান, এই বারানোয় নদীর পাশে আমরা জমিতে কৃষি কাজ করে থাকি।প্রয়োজন মোতাবেক বারানয় নদী থেকে পানি উত্তোলন করে ফসলের জমিতে ব্যবহার করা হয়। নদীর পানি ফসলের জন্য খুবই উপকারী হয়ে থাকে। নদী পাড়ের মানুষ পান বরজে পানি সেচ দিয়ে থাকেন। তাছাড়া, পেঁয়াজ আলু ভুট্টা সহ অন্যান্য ফসলের জমিতে কৃষকরা নদীর পানি সেচ দিয়ে থাকেন। কিন্তু নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ায় কৃষকরা জমিতে পানি সেচ দিতে পারছেন না। নদীর কালো বিষাক্ত পানি ছুলেই শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চুলকাচ্ছে এবং চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে। নদী তীরবর্তী বসবাসকারী জনসাধারণরা নদীতে গোসল করতে পারছেন না পারছেন না অন্যান্য কাজ সম্পাদন করতে নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ায়। নদীর পানি এতটাই বিষাক্ত হয়ে পড়েছে যে পানি স্পর্শ করলেই শরীর চুলকাচ্ছে। তাই কৃষকরা আর নদীর পানি ব্যবহার করছেন না। নদী থেকে পানি সেচ দিচ্ছেন না কৃষকরা তাদের ফসলের ক্ষেত খামারে। নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ায় কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয় মৎস্য শিকারী বিমল, স্বপন, সুনীল, জয়দেব, মন্টু জানান, আমরা পেশায় বাপ -দাদার আমল থেকে নদীতে বিভিন্ন ধরনের মাছ শিকার করে আসছি। কিন্তু এই বারানয় নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ায় আমরা হলদার সম্প্রদায় আর নদীতে মাছ শিকার করতে পারছিনা। জাল দড়ি নিয়ে নদীতে নামলেই নদীর পানি স্পর্শ করলেই সমস্ত শরীর চুলকাচ্ছে চুলকানি চর্ম রোগ দেখা দিচ্ছে। শরীর চুলকানোর ভয়ে নদীতে আর নামছি না মাছ ও ধরছি না। এই নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বোয়াল, টেংরা, কই, কানচ, মাগুর, জিওল,কাকলে, সর্পুটি,ছোট বড় গুচি,চিংড়ি ও শোল, জাল মাছ সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিষাক্ত পানি হওয়ার কারণে নদীতে মাছগুলো মরে গিয়ে ভেসে উঠছে। নদী তীরবর্তী মানুষেরা সব বাধা উপেক্ষা করে বড় বড় বোয়াল মাছ শিকার করছেন।এক একটি বোয়াল মাছ কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ কেজি ওজনের। তাছাড়া অন্যান্য মােচছ বিষাক্ত পানিতে মরে গিয়ে ভেসে উঠছে। মাছগুলোর পেটে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডিম রয়েছে। বিষাক্ত পানির কারণে মাছগুলো মরে যাওয়ায় মাছের ডিম গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই বারানয় নদী থেকে মাছগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে। নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ায় নদী তীরবর্তী বসবাসকারী ও কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। একদিকে নদীতে বিষাক্ত পানি অপরদিকে জমাট বেঁধেছে কচুরিপানা আর নদীটি জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হওয়ায় ছোট-বড় নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে এই বারানয় নদীতে পানির স্রোত ধারা বলতে কিছু নেই নদীর পানির কোন পানি প্রবাহ নেই। ফলে দীর্ঘ এই ৫১ কিলোমিটার বারানয় নদী এখন জলাবদ্ধতায় পরিণত হয়েছে। তাই নদীর দিকে বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।নদীটির মূল স্রোতধারা ও বিশুদ্ধ পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে দাবি জানিয়েছেন এলাকার হাজার হাজার কৃষক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চিন্তা- ভাবনা করে দেখবেন কি বলে মনে করছেন কৃষক ও নদী তীরবর্তী বসবাসকারী জনসাধারণ।