শফিকুল আলম সমাপ্ত : সিটি করপোরেশনের নাগরিক সেবা শতভাগ করতে হলে শুধু কর বাড়ানো সমাধান নয়, নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। সেবা সহজ হলে মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দিতে আগ্রহী হয়। আমার মতে প্রশাসনের কেন্দ্র হওয়া উচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়। প্রতিটি ওয়ার্ড কার্যালয়কে ছোট কিন্তু কার্যকর প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কারণ আজকাল প্রতিটি মহল্লায় যেভাবে বড় বড় ভবন নির্মাণ হচ্ছে, সেখানে সঠিক নকশা ও গুণগত মান নিশ্চিত না হলে বড় ঝুঁকি তৈরি হবে। ভবিষ্যতে কোনো ভূমিকম্প হলে ভবন ধস, মৃত্যু বৃদ্ধি এবং উদ্ধার কার্যক্রম ভয়াবহ সংকটে পড়তে পারে। তখন সিটি করপোরেশনও দায় এড়াতে পারবে না। তাই ভবন নির্মাণের শুরু থেকেই তদারকি জরুরি। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে প্রতিটি ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে থাকতে পারে একজন প্রকৌশলী, যিনি রাস্তা, ড্রেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, ভবনের নকশা যাচাই এবং নির্মাণে গুণগত মান নিশ্চিত করবেন।
একজন রাজস্ব আদায়কারী : হোল্ডিং ট্যাক্সসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশন রাজস্ব নিয়মিত সংগ্রহ করবেন এবং বকেয়া হালনাগাদ রাখবেন।
একজন আইন সহায়ক : সরকারি ভূমি রক্ষা, দখল বিরোধ, লাইসেন্স বা নাগরিক অভিযোগ সংক্রান্ত আইনি সহায়তা দেবেন।
একজন সার্ভেয়ার : হোল্ডিং নির্ধারণ, জমির তথ্য হালনাগাদ, নতুন ভবনের পরিমাপ ও নথিভুক্তির কাজ করবেন।
একজন স্বাস্থ্যসেবক : টিকাদান, জনস্বাস্থ্য সচেতনতা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণসহ স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
পাশাপাশি ওয়ার্ডভিত্তিক কিছু দায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে, যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত রাখা। বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ, পরিকল্পিত ও নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। জলাবদ্ধতা নিরসন ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা। মশা ও মাদক নির্মূল পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সামাজিক প্রতিরোধ ও সচেতনতা।
ধর্মীয় ও খেলাধুলা চর্চায় উৎসাহ মসজিদ, মন্দির ও খেলাধুলার পরিবেশকে ইতিবাচকভাবে শক্ত করা। ওয়ার্ড কার্যালয়কে প্রশাসনিক কেন্দ্র করলে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। শহরের শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য বাড়বে। একই সাথে ভালো কাজের জন্য পুরস্কার ও স্বীকৃতির ব্যবস্থা থাকলে দায়িত্বশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হবে। শহর তখন দূরের কোনো অফিস থেকে নয়, মানুষের নিজের ওয়ার্ড থেকেই কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে। লেখক পরিচিতি : রাজনীতিবীদ, সমাজসেবক, রাজশাহী।