শনিবার

৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বে প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি হল ভ্যাকসিন, মানবদেহে সফল পরীক্ষা বাগমারার তাহেরপুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ পাবনায় নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে : শিল্পমন্ত্রী নওগাঁ সীমান্তে বিএসএফ’র পুশইনের অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিলো বিজিবি তানোরে যেভাবে প্রাণ গেলো ৭টি গরুর তানোরে খাল পুনঃখনন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ি সীমানে ২৮ জনকে পুশইনের আপচেষ্টা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা-প্রশিক্ষণে অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তির সাহায্যে ভুল-অপতথ্যের প্রচার মোকাবিলা এখন বড় চ্যালেঞ্জ : তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের মিতসুই কোম্পানির প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

তানোরে ব্যানার সাটানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে উত্তেজনা

Paris
Update : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬
oplus_131072

আব্দুস সবুর, তানোর : রাজশাহীর তানোরে জামায়াতের নবনির্বাচিত এমপির ব্যানার ও ফেস্টুন জোরপূর্বক ছিড়ে সড়ানোকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এঘটনায় সোমবার ২ মার্চ তানোর পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা মকছেদ আলী বাদী হয়ে তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে থানা ও ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এনিয়ে জামায়াত নেতাকর্মী ও সমর্থকের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযোগ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে নবনির্বাচিত এমপি ও জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন ধরণের ব্যানার ও ফেস্টুন তানোর থানার সিমানা প্রাচীরে সাটানো ছিল। এঅবস্থায় গত ১ মার্চ দিবাগত রাত ৯ ঘটিকার সময় বিএনপি নেতা ও তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজানের নেতৃত্বে এমপি মুজিবুরের সব ব্যানার ও ফেস্টুন ছিড়ে সড়িয়ে ফেলা হয়।
পরে সেখানে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ২০-২২ টির মত ব্যানার লাগান মিজান। এসময় জামায়াতের নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ করতে এগিয়ে গেলে উভয়ের মধ্যে বাগবিতন্ডা ও কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাতেই বেশ কিছু স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ ও সাবেক মেয়র মিজানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীর মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে জামায়াতের লোকজন সরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
স্থানীয়রা জানান, ভোটের ব্যানার ফেস্টুন লাগানো ছিল। দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষের ব্যানার ফেস্টুন ছিল। সব সরিয়ে বিএনপি নেতা মিজান তার ছবি সংবলিত ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে অন্তত ২০/২২ টি ব্যানার লাগান। থানার গেটের দুপাশ থেকে শুরু করে গেটের উত্তর দিকের ওয়ালে লাগান ব্যানারগুলো। অবশ্য এর কয়েকদিন আগে রাজশাহী ২ আসনের এমপি ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সিএনজি স্ট্যাডের সংলগ্ন থানার দেয়ালে বড় আকারের ব্যানার লাগান মিজান। এছাড়াও ভ্যান রাখা জায়গায় প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় নিয়োগ পাওয়া গোদাগাড়ী উপজেলার কৃতি সন্তান প্রয়াত ড আসাদুজ্জামানের পুত্র রেহান আফিস আসাদ রাতুলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লাগান ব্যানার। তবে এদুই ব্যানার নিয়ে জামায়াত বা সাধারণের মাঝে তেমন প্রতিক্রিয়া ছিল না। কিন্তু হঠাৎ ১ লা মার্চ রবিবার রাতে মিজান দেয়ালের সব ব্যানার সরিয়ে ফেলে তার ব্যানার লাগানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা শুরু হয়।
স্থানীয়রা আরো জানান, সাবেক মেয়র মিজান জেলা বিএনপির নেতা। তাকে যদি ব্যানার নিয়ে রাজনীতি করতে হয় তাহলে জুনিয়ররা কি করবে। তিনি তো উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা তাকে যদি ব্যানার টানানো নিয়ে বিভেদ করতে হয় তাহলে রাজনীতি করার চেয়ে না করায় ভালো। তার বাড়ি সদরে এজন্য তিনি সব দখলে রাখতে চায়। তার দাম্ভিকতার রাজনীতির কারনেই ধানের শীষের প্রার্থী কে পরাজিত হতে হয়েছে। তারপরও দাম্ভিকতা কমছেনা। অথচ ভোটের পর থেকে এসব এলাকার মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে। আর মিজান অশান্তির কাজ করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, সে তো তানোর বিএনপির শীর্ষ নেতা। তিনি কেন ব্যানার ফেস্টুনের রাজনীতি করবেন । তিনি এসব সমাধান করবেন। তা না করে থানার দেয়াল দখল নিতে মরিয়া হয়ে পড়েছেন। এসব তো উঠতি বয়সের নেতারা করবে। ব্যানার দিলেই কি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যাবে। ভোটের আগেও তো উপজেলা জুড়ে গ্রাম গঞ্জে, হাট বাজারে, রাস্তা গাটে, পাড়া মহল্লার মোড়ে মোড়ে পোষ্টার লাগিয়েছিলেন। পোষ্টার লাগিয়ে কি ভোট বেড়েছে, না বাড়েনি, মানুষ বিরক্ত হয়েছে। তানোর বিএনপির রাজনীতিতে মিজান বিশাল মারসন। সুতরাং তাকে রাজনীতি করতে রাজনৈতিক ব্যক্তির মত। উড়তি বয়সের রাজনীতি তাকে মানাই না। আসলে তার চারপাশে যারা আছে তারা তাকে সঠিক কাজ করতে দিচ্ছে না বলে মনে হচ্ছে। আবার সে কোন স্থানীয় নির্বাচন করবেন না, তাহলে ব্যানার সাটানো নিয়ে কেন দ্বন্দ্ব করতে হবে। এটা রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অভাব ছাড়া কিছুই না।
এনিয়ে তানোর পৌর জামায়াতের আমীর মাও. মকছেদ আলী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তাদের এমপির ব্যানারগুলো সরিয়ে সেখানে বিএনপির দলীয় ব্যানার স্থাপন করেছেন সাবেক মেয়র মিজান। আইনগত প্রতিকারের জন্য তিনি বাদী হয়ে সোমবার দুপুরে মিজানের বিরুদ্ধে তানোর থানায় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে, এসংক্রান্ত ব্যাপারে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজানের মোবাইলে ফোন দেয়া হলেও রিসিভ হয়নি। তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মাদ শহীদুজ্জামান বলেন, এমন ঘটনা নিয়ে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে, অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাঈমা খান বলেন, এমন ঘটনার অভিযোগ জাতায়াতের নেতৃবৃন্দ তাঁর কাছে নিয়ে আসেন। এসময় তিনি প্রসেসিং অনুযারী অভিযোগ জমা দেবার জন্য বলেন। কিন্তু পরে তাঁর অফিসে অভিযোগ জমা হয়েছে কি না এখনো তিনি পাননি বলে জানান ইউএনও।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris