যশোরের বেনাপোল বাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। বুধবার (০৩ জুন) দুপুর সোয়া ১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় চার জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন- ছাত্রশক্তির নেতা খান মিফতাহুল মোস্তাফিজ অমিত, তাসকিন আহমেদ তাজিম ও যুবশক্তি নেতা রুপম আহসান অর্ণব। তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হকসহ দলের অন্যান্য নেতারা নিরাপদে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। হামলার ঘটনায় কারা জড়িত ছিল এবং হামলার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টার প্রতিবাদে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্ব গতকাল বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এনসিপির প্রতিনিধি দল। এ সময় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ছিলেন। সাদিপুরে পরিদর্শন শেষে গাড়িতে উঠার সময় ডিম নিক্ষেপ করে কিছু যুবক। পরে দুটি গাড়ি বেনাপোল বাজারে পৌঁছালে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা করেন। এতে গাড়িগুলোর কাচ ভেঙে যায়। এ সময় এনসিপির চার নেতা আহত হয়েছেন। পরে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলের নেতৃবৃন্দ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। এই গুপ্ত হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি আমরা। ঘটনার পর বহরের একটি গাড়ির জানালার কাচ ভাঙা ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, সীমান্তে আমাদের আগমনের খবর পাওয়ার পর গত রাতে যেসব পরিবারকে জোরপূর্বক পুশইন করা হয়েছিল, তাদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সেখান থেকে সরিয়ে নিয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। পরিস্থিতি সম্পর্কে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করেছি। ফেরার পথে আমাদের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলায় চার জন আহত হয়েছেন। তবে বাকিরা আল্লাহর রহমতে নিরাপদ আছি। সীমান্তে মানবিক মর্যাদা, নাগরিক অধিকার এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে আমাদের অবস্থান অবিচল থাকবে। তবে এ ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন বেনাপোল থানার ওসি আশরাফ হোসেন। তিনি বলেন, এনসিপির নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ মিথ্যা।-এফএনএস