শেখ আবু জাফর টুটু : রাজশাহীর রাজনীতিতে আস্থা, সাহস ও আপসহীন নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল নাম মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। রাজশাহী সিটি কলেজ ছাত্রদল থেকে তাঁর রাজনৈতিক পথচলার সূচনা। ধারাবাহিক সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে তিনি রাজশাহী মহানগর যুবদলের সভাপতি, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিকূলতা, দমন-পীড়ন ও বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশ সবকিছুর মাঝেও তিনি রাজশাহীবাসীর আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।
জনসমর্থনের জোয়ার : ২০০৮ সালে তিনি প্রথমবার রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। সে সময় তিনি যুবদলের সভাপতি ছিলেন। সাধারণ মানুষের জোরালো দাবির মুখেই প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামেন। তবে তখনকার রাজনৈতিক বাস্তবতা ছিল চরম প্রতিকূল—রাজশাহীর বিএনপির প্রথম সারির প্রায় সব নেতা-কর্মীই মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি ছিলেন। সেই নির্বাচনে তাঁকে জিততে দেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগ থাকলেও, দমন-পীড়নের মধ্যেই তিনি মানুষের হৃদয়ে “জনতার মেয়র” হিসেবে দৃঢ় অবস্থান তৈরি করেন।
২০১৩ সালে গণরায়ের নিরঙ্কুশ বিজয় : ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নগরজুড়ে নামে জনতার ঢল। প্রতীক ছিল আনারস। বহুদিন পর মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায় এবং নিজেদের পছন্দের মানুষকেই নির্বাচিত করে। ফলাফল—মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের নিরঙ্কুশ বিজয়। এই নির্বাচন রাজশাহীর গণতান্ত্রিক চেতনার এক ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
উন্নয়নের ধারাবাহিকতা : মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি আধুনিক রাজশাহীর রূপকার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু-এর সময়ে শুরু হওয়া অসমাপ্ত কাজগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেন। নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নাগরিক সেবায় একের পর এক সাহসী ও জনবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করেন—যা আজও রাজশাহীবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নির্যাতন : দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে পূর্ণ মেয়াদে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। ফলে বহু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অসমাপ্ত থেকে যায়। তাঁর বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ২ মার্চ ফ্যাসিবাদী দোসরদের সহায়তায় পুলিশ বাহিনী নিয়ে তাঁর বাসায় হামলা চালানো হয়। এতে তাঁর শাশুড়ি গুরুতর আহত হন এবং দুই নিরপরাধ ভাইকে আটক করা হয়।
২০১৮ : প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন : ২০১৮ সালের রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও দিনের ভোট রাতে সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই নির্বাচনেও তাঁকে জিততে দেওয়া হয়নি বলে জনমনে বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়। আজকের রাজশাহী, আগামীর প্রত্যাশা আজ রাজশাহীর সাধারণ মানুষের দৃঢ় বিশ্বাস—মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল আবার মেয়রের দায়িত্ব পেলে অসমাপ্ত কাজগুলো পূর্ণতা পাবে এবং রাজশাহী নগরী ফিরে পাবে তার হারানো গতি ও মর্যাদা। নগরবাসীর অনেকের মত, তাঁকে সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে অন্তত ন্যায্য ও কার্যকর নাগরিক সেবার স্বস্তি মিলত। লেখক : উপশহর রাজশাহী