মঙ্গলবার

১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
১০ বছরের মধ্যে চাঁদে শহর গড়ে তুলতে চান ইলন মাস্ক আগামী দিনে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ : তারেক রহমান দায়িত্ব পেলে প্রথম দিন ফজর পড়েই কাজ শুরুর ঘোষণা জামায়াত আমিরের রাজশাহীতে ধানের শীষের পক্ষে সড়ক পরিবহন গ্রুপ ও ইজিবাইক, রিক্সাভ্যান শ্রমিক সংগঠনের গণসংযোগ ধানের শীষ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রতীক : মোহনপুরে মিলন সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে নেমেছে বিভিন্ন বাহিনীর ১০ লাখ সদস্য জামায়াতের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় আব্দুর রাকিবের রাজশাহীতে ধানের শীষের পক্ষে সড়ক পরিবহন গ্রুপ ও শ্রমিক সংগঠনের গণসংযোগ ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক সংলাপ চালু রাখার ইঙ্গিত দিলো ইরান জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করলেন তারেক রহমান

দেশের ভবিষ্যতের জন্য আমাদেরকে এক মোহনায় মিলিত হতে হবে : আলী রিয়াজ

Paris
Update : সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার : গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডাঃ কাইছার রহমান চৌধুরী অডিটরিয়ামে বিভাগীয় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রিয়াজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার (সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা), রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক, বিভাগের আটটি জেলার জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও সুধিজন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ডক্টর. আ.ন.ম বজলুর রশীদ। অডিটরিয়ামের বাইরে বিভাগীয় পর্যায়ে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। উক্ত প্রদর্শনীতে আটটি জেলার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উদ্যোগে নিজস্ব স্টল ছাড়াও সর্বমোট বারোটি স্টলে একযোগে চলছিল গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রদর্শনী ও ততসংশ্লিষ্ট নানা তথ্য উপাত্ত সরবরাহ ও অবহিতকরণ কর্মকান্ড।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক আলী রিয়াজ তাঁর নিজ বক্তব্যে বলেন, আমি পেশায় একজন শিক্ষক। আমি রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়াই। আমি আমার শিক্ষার্থীদের দুটো জিনিস পড়াই। রাষ্ট্র কি ও সরকার কি? আপনারা বিসিএস ও অন্যান্য পরীক্ষা দিয়ে দেশের জনগণকে সেবা প্রদানের জন্য এই চাকরি নিয়েছেন। প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা নিশ্চয় চাননা, কেউ আপনাদের দিয়ে জোড়পূর্বক অনৈতিক কাজ করাক। গত ৫৪ বছরে আমরা এক কদম এগুলো দু-কদম পিছিয়েছি। গত ১৬ বছর দেশের রাষ্ট্র কাঠামোকে একতান্ত্রিক করে পুরো কাঠামো নষ্ট করে দিয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকার। ৫ আগস্টের পর নাগরিক হিসেবে আমাদের উপর একটি দ্বায়িত্ব অপিত হয়েছে, আর সেটা হলো রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করার দায়িত্ব। গণভোট মানেই ‘হ্যাঁ’ আর ‘না’ পদ্ধতিতেই সম্পন্ন হয়। এটাই নিয়ম। ২০২৬ সালের গণভোট পূর্ববর্তী সময়গুলোর গণভোটের মতো নয়। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পন্থায় কিভাবে চলবে সেলক্ষ্যেই এই গণভোটের আয়োজন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খর্ব করে প্রমাণমন্ত্রীকে সকল ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল পূর্ববর্তী সময়গুলোতে। আগে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি ব্যতীরেকে রাষ্ট্রপতি কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারতোনা। সেই অপবলয় আমরা দূরীভূত করতে চাই এই গণভোটের সফলতার মধ্য দিয়ে। জুলাই জাতীয়সনদ এর মাধ্যমে দুর্নীতি কমার পাশাপাশি একসময় অবৈধপন্থার বিলুপ্তি ঘটবে। যদি লুন্ঠনের রাস্তা বন্ধ করা যায় তাহলে দেশের অর্থনৈতিক বিকাশ তরান্বিত হবে। রাষ্ট্রপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় প্রাধান্য বেশ ভয়াবহ পদ্ধতি। এতে করে বিরোধীদলের কোন যোগ্য প্রার্থী থাকলেও সেটি বাইপাস করা হতো সংখ্যা গোরিষ্ঠতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে। দেশের আমূল পরিবর্তনের জন্য মানুষ প্রস্তুত হয়ে আছে। ‘নদীর অনেক স্রোত থাকে, কিন্ত মোহনা এক জায়গায়, সেই মোহনার জায়গাটিই বাংলাদেশ। অনেকের মতাদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু দেশের ভাল ভবিষ্যতের জন্য আমাদেরকে এক মোহনায় মিলিত হতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার বলেন, এবারের গণভোট যদি কোন কারনে ব্যর্থ হয়; তাহলে আবারো আপনার-আমার সন্তানকে জীবন দিতে হতে পারে। মনে রাখতে হবে ফ্যাসিবাদ আমাদের পথ চিনে গেছে। তাই আসার পথ যদি বন্ধ করতে না পারি তাহলে সেটা আবারো অতিসহসায় ফিরে আসবে। এই রাষ্ট্রীয় সংস্কার তাই অতিপ্রয়োজন। তাই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে যাওয়াটাই সকলের নাগরিক দায়িত্ব বলেই মনে করি। গণতান্ত্রিক ও আধুনিক রাষ্ট্র গঠণ ও ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য দেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু সেটি ৫৪ বছর পরেও সম্ভব হয়নি। কিছু মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তো দেশ স্বাধীন হয়নি। দেশের অবকাঠামোগত অসংখ্য বিষয়ে ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে। রাষ্ট্র ক্ষমতার একটা ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। এটা অত্যাবশকীয়। দেশ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে রাজনৈতিক নতুন বিধি ব্যবস্থা করা দরকার। আমরা যদি নিরাপদ একটা দেশ রেখে যেতে না পারি তাহলে আমাদের সন্তান ও পরবর্তী প্রজন্ম ভাল থাকবেনা। তাই গণভোটের মাধ্যমে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। গণভোটে কোন রাজনৈতিক বিষয়াবলী নেই, এটা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য। ‘না’ ভোট ফ্যাসিবাদের পক্ষ, আর ‘হ্যাঁ’ ভোট গণতন্ত্রের জন্য। “দেশের জনগণের আর পরাজিত হবার সুযোগ নেই” বলে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ.ন.ম বজলুর রশীদ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, আমাদের এখন আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। আমরা আজ সরকারের দিক নির্দেশনা নেবো এবং সেগুলো প্রত্যেকের কাছ থেকে পৌঁছে দেবো। ব্যালট পেপার ও ব্যালট বক্স, ভোটদান পদ্ধতি, বিভাগীয় প্রশাসনের কার্যক্রম ও প্রচার-প্রচারণার সিডিউলসহ প্রাত্যহিক কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি সংক্ষিপ্তাকারে নিজ বক্তব্যে বিষয়গুলো সকলের সামনে উপস্থাপন করেন। জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য উপজেলা পর্যায়েও এই প্রদর্শনী মেলার আয়োজন করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন। বিগত একমাসে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রায় ১৩ হাজার প্রচার উপকরণের ব্যবহার হয়েছে রাজশাহী বিভাগে বলেও তিঁনি জানান।
মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. মোঃ জিল্লুর রহমান নিজ বক্তব্যে বলেন, দেশের চাবি আপনার (জনগণ) হাতে। এই অডিটরিয়ামের বাইরে যে মেলার আয়োজন করা হয়েছে সেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ আছে। বিগত সময়গুলোতে আপনাদের চাকরি হবে কি হবেনা কিংবা চাকরির প্রমোশনের ক্ষেত্রেও দলীয় সম্পৃক্ততাকে প্রাধান্য ও একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। পূর্ববর্তী স্বৈরাচারি আচরণ ও চিন্তাচেতনা থেকে বেড়িয়ে আসতে হলে গণভোটে হ্যাঁ কে বিজয়ি করার কোন বিকল্প নেই। পূববর্তী সময়ের এই অপ-নিয়মকে ও অপকৌশলকে চিরতরে কবর দিয়ে আপনার অধিকারকে সমুন্নত করবে এই হ্যাঁ ভোট। সিস্টেমেটিক পদ্ধতিতে দেশ না এগোলে আমরা কখনোই অগ্রসর হতে পারবোনা। দেশ ও মানুষের জন্য সিস্টেমেটিক ডেভেলপমেন্ট প্রয়োজন।
ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, যে জিনিস অসময়ে পাওয়া যায় সেটার প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেশি থাকে। ৫ আগস্টের পর সে সুযোগ আমাদের কাছে এসেছে। রাজনৈতাক দলগুলো যদি একমতে না আসে, তারা যদি চোরাবালিতে আটকে যায়, সেখান থেকে তাদেরকে উত্তোলনের জন্য প্রয়োজন এই গণভোটের বিজয়। পুলিশের মূলকাজটা হলো, আপনি যেনো বাঁধাহীন ভাবে পথ চলতে পারবেন সেদিকে লক্ষ্য রাখা। নির্বাচনকালীন সময়ে কেউ যদি কোন বিশৃঙ্খলা-হট্টগোল বা অপরাধ করার চেষ্টা করেন তাহলে মনে রেখেন, আপনি চাইলেও পুলিশের নজরের বাইরে যেতে পারবেন না। আগের মতো মাস্তানির কথা ভুলে জান, এখন এটা কোনক্রমেই সম্ভবনা। আপনি অপরাধ করে অস্ত্রের মহড়া ও ব্যবহার করে পার পেয়ে যাবেন সেটা বেমালুম ভুলে যান।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris