স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, ‘বস্ত্র ও কুটির শিল্প মেলার মতো উদ্যোগ আরো সম্প্রসারণ করা হবে। এ ধরনের মেলা শুধু নারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বাবলম্বী করে তুলছে না, বরং দেশীয় শিল্প ও স্থানীয় অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করছে’। রাজশাহী নগরীর কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার উত্তর পাশের মাঠে অনুষ্ঠিত ১৮তম বস্ত্র ও কুটির শিল্প মেলা পরিদর্শনে গিয়ে বিভাগীয় কমিশনার এসব কথা বলেন। মেলার আয়োজন করেছে উইমেন এন্টারপ্রিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওয়েব) রাজশাহী শাখা। মাস ব্যাপী চলমান এই মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকায় প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থী ও ক্রেতার উপস্থিতি। মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখার সময় নারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন বিভাগীয় কমিশনার। তিনি বলেন,“বস্ত্র ও কুটির শিল্প আমাদের দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের মেলা উদ্যোক্তাদের নিজেদের সক্ষমতা ও সৃজনশীলতা সরাসরি মানুষের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে। মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই উদ্যোক্তারা সরাসরি ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছাতে পারছেন, এতে তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। এটি নারী উদ্যোক্তাদের আত্মবিশ্বাস ও স্বাবলম্বীতার পথে এগিয়ে নিচ্ছে।” তিনি আরও জানান, শুধু রাজশাহী নয়, বিভাগের অন্যান্য জেলাতেও পর্যায়ক্রমে এ ধরনের বস্ত্র ও কুটির শিল্প মেলার আয়োজন করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। মেলায় প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে সারি সারি সাজানো স্টল আর ক্রেতাদের ব্যস্ততা। কোথাও রঙিন তাঁতশাড়ি ও থ্রি-পিস, কোথাও পাঞ্জাবি ও কুর্তি, আবার কোথাও বেত ও বাঁশের তৈরি নান্দনিক সামগ্রী। সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তাঁতবস্ত্র, গার্মেন্টস পণ্য, ক্রোকারিজ, গিফট আইটেম ও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রীসহ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের নানা পণ্য মেলায় স্থান পেয়েছে। দেশীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি আধুনিক নকশার পণ্যও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। পবা উপজেলা থেকে স্বপরিবারে মেলায় ঘুরতে আসা মুরাদ আলী বলেন,“পরিবার নিয়ে মেলায় এসে ভালোই সময় কাটছে। স্বল্প খরচে মানসম্মত পণ্য কেনা যাচ্ছে, যা আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বেশ সুবিধাজনক। বাজারের তুলনায় এখানে পণ্যের দাম কম হওয়ায় একসঙ্গে অনেক কিছু কেনা সম্ভব হচ্ছে।” সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ইশিতা বলেন,“বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় এসে বেশ মজা করছি। এক জায়গায় দেশীয় অনেক পণ্য দেখা ও কেনার সুযোগ আছে। রাজশাহী নগরীতে এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি হওয়া দরকার। এতে তরুণদের মধ্যে দেশীয় পণ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।” ওয়েব রাজশাহী শাখার সভাপতি মোসা. আঞ্জুমান আরা পারভীন লিপি জানান, ওয়েবের ২২তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতেই এই বস্ত্র ও কুটির শিল্প মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এবারের মেলায় নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে মোট ৪৫টি স্টল বসানো হয়েছে। তিনি বলেন, বেত ও বাঁশের তৈরি সামগ্রী, সিরাজগঞ্জের তাঁতবস্ত্র, গার্মেন্টস পণ্য, ক্রোকারিজ, খাদ্যসামগ্রী, গিফট আইটেম ও ভ্যারাইটিস পণ্যসহ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের নানা পণ্য মেলায় স্থান পেয়েছে। দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্যের পাশাপাশি আধুনিক নকশার পণ্যও বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। মেলায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তারাও বিক্রি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করছেন। মিনু বুটিকের স্বত্বাধিকারী তাহমিনা আক্তার মিনু বলেন,“প্রত্যেক বারের তুলনায় এবছর ব্যবসা অনেক ভালো চলছে। দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় বিক্রিও ভালো হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, এ ধরনের মেলা নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পণ্য প্রদর্শন ও নতুন ক্রেতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার বড় সুযোগ তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বস্ত্র ও কুটির শিল্প মেলা উদ্যোক্তাদের জন্য কার্যকর বিপণন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এতে তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশীয় পণ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। সব মিলিয়ে এই মেলা রাজশাহীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।