মঙ্গলবার

২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
সোনাদিঘি মসজিদের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে পরিদর্শনে রাসিক প্রশাসক রাজশাহী ওয়াসার পাম্পগুলোতে অটোমেশন সিস্টেমেও লাভ হচ্ছে না, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেও খরচ কোটি টাকা! মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক পর্যন্ত ফ্রি করা হবে : প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড ট্রাম্পের নৈশভোজে গুলি চালানো কে এই টমাস অ্যালেন সড়কের কাজ বর্ষার আগেই শেষ করার নির্দেশ রাসিক প্রশাসকের রাজশাহী টার্মিনালে সংঘর্ষের ঘটনায় বিস্ফোরক মামলা ঘিরে নজরদারি ভূমিমন্ত্রীর সাথে রেডা নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ রাসিক প্রশাসকের সাথে রাজশাহী চেম্বার’র নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ লালপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটর দীর্ঘদিন অকেজো, স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত কলেজছাত্রের বানানো রেসিং কার চালালেন প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহী ওয়াসার পাম্পগুলোতে অটোমেশন সিস্টেমেও লাভ হচ্ছে না, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেও খরচ কোটি টাকা!

Paris
Update : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী ওয়াসার (পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ) আধুনিকায়নের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না। পাম্পগুলোতে অটোমেশন সিস্টেম স্থাপিত হলেও পূর্বের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বছর পেরোলেই খরচের খাতায় কোটি টাকা! সেহিসেবে প্রতিবছরই পরোক্ষভাবে বাড়ছে লোকসানের পরিমাণ। প্রশ্ন উঠেছে ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়েও। সরকার বছরের পর বছর মোটা অংকের ভর্তুকি দিলেও নগরবাসির পানির চাহিদা পূরণ হচ্ছেনা শতভাগ।
রাজশাহী মহানগরীতে বর্তমানে পানির পাম্প রয়েছে মোট ১২১টি। এছাড়াও নগরীর শ্যামপুরে রয়েছে একটি ‘সার্ফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’। এ সব পাম্প পরিচালনার জন্য লোকবল নিয়োগ রয়েছে ১৫৩ জন, যাদের বেতন বাবদ প্রতি মাসে ওয়াসাকে গুনতে হচ্ছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা, অর্থাৎ বছরে প্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে যুগের সঙ্গে তালমিলিয়ে রাজশাহী ওয়াসা ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিটি পাম্পকে অটোমেশন সিস্টেমে রূপান্তর করেছে। এই সিস্টেমের মাধ্যমে ঘরে বসেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় পাওয়ার সুইচ অন/অফ, পানির লেভেল, পাম্পের ত্রুটি, এমনকি মনিটরিং রিপোর্ট পর্যন্ত।
রাজশাহী ওয়াসা সূত্র মতে, রাজশাহী মহানগরীতে দৈনিক পানির চাহিদা ১০ কোটি ৭৪ লাখ লিটার। এরমধ্যে ৮ কোটি ৬৫ লাখ লিটারই তোলা হয় ভূ-গর্ভস্থ হতে। আর মাত্র ৯০ লাখ লিটার ভূ-উপরিস্থ পানি শোধন করে নগরবাসীর মাঝে সরবরাহ করে ওয়াসা। রাজশাহীতে প্রতিদিন পানির চাহিদা রয়েছে ১৩ কোটি ৪৪ লাখ লিটার। সেহিসেবে প্রায় ৮৭.৫৮ শতাংশ চাহিদা পূরণ করতে পারছে ওয়াসা। মহানগরীতে গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৫৩ হাজারের মতো। পাইপ লাইন রয়েছে প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার। প্রতি কিলো লিটার (এক হাজার লিটার) পানির উৎপাদনে ওয়াসার খরচ পড়ে ৪ টাকা ৫৬ পয়সা পড়লেও ওয়াসা আবাসিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতি কিলো লিটারে নিচ্ছে মাত্র দু’টাকা ২৭ পয়সা ও বাণিজ্যিকে ৪ টাকা ৫৪ পয়সা (পানি সরবরাহের পাইপের সাইজ ও ভবনের আকার আকৃতি অনুযায়ী কম বেশির তারতম্য আছে)।
প্রশ্ন উঠছে যখন সবকিছু ঘরে বসে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, তখন শতাধিক লোকবল কেন? নগরীর বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ জায়গায় পাম্পচালকরা নিয়মিত দায়িত্বে থাকেন না। আশপাশের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অনেক চালক দিনে একবার এসে পাম্প চালু করে ফিরে যান। ফলে দিনের বেশির ভাগ সময় তালাবদ্ধ থাকে পাম্প ঘর।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো কিছু চালক একসঙ্গে দুই শিফটের দায়িত্ব পালন করছেন, অথচ দুইজনের বেতন নিচ্ছেন। তার ওপর রয়েছে ওভারটাইম ভাতা, যা যোগ হয়ে বছরে বিপুল অঙ্কের অর্থ অপচয় হচ্ছে। এদিকে প্রশ্ন উঠেছে অটোমেশন প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়েও। দেশের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে কাজটি দেয়া হয়েছিল গোপালগঞ্জের একটি কোম্পানিকে। প্রতিষ্ঠানটি ছিল সাবেক ক্ষমতাসীনদের প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বজনপ্রীতি ও অস্বচ্ছতার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও অটোমেশনের পরও অতিরিক্ত লোকবল ধরে রাখার কারণে রাজশাহী ওয়াসা এখন কোটি কোটি টাকার লোকসানে পড়েছে। অথচ দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল মনিটরিং কার্যকরভাবে চালু করা গেলে এ অর্থ সাশ্রয় সম্ভব ছিল। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন—ওয়াসার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। নইলে আধুনিকতার নামে অপচয় চলতেই থাকবে, আর ভুক্তভোগী হবে নগরবাসী।
অটোমেশনের পদ্ধতির আওতায় ওয়াসার পাম্পগুলো আসার কারনে পাম্পের দক্ষতা বাড়াতে এবং পরিচালন ব্যয় কমাতে বড়রকম ভূমিকা রাখছে। এছাড়াও এই ডিজিটাল সেবার ছোয়া লাগার কারনে অতিরিক্ত জনবল কমানোর সুযোগ তৈরির পাশাপাশি ব্যয় হ্রাসেরও একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে পানি সরবরাহে ডিজিটালাইজশনের সৃযোগ সৃষ্টি হলেও ম্যানুয়াল পদ্ধতির লোকবলের পেছনে সরকারের যাচ্ছে কোটি টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াসার ডিএমডি (উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক) তৌহিদুর রহমান বলেন, প্রতিটি পাম্পে তো আর সিকিউরিটি গার্ড রাখা সম্ভব না। তাছাড়াও পাম্পগুলোতে ছোটখাটো মেশিনপত্র, অন্যান্য টুলস ও রক্ষণাবেক্ষণসহ সরেজমিনে কাজ করার জন্য লোকবল কমানো যাচ্ছেনা। তাছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় ওয়াসে লোকবল বেশ কম। এছাড়াও রয়েছে লজিস্টিক সার্পোটে বেশ ঘাটতি। জনভোগান্তি কমাতে তাৎক্ষণিক সেবা দেবার বিষয়টি। স্টক সার্পোটের উপরই বেশি নির্ভর করে। এছাড়াও রয়েছে দূর্বল আইটি ও প্রকৌশলী শাখা। স্বায়ত্বশাসিত একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজশাহী ওয়াসা দেশের সর্বকনিষ্ট সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হবার কারণে বেশকিছু শাখায় রয়েছে কিছুটা কমদক্ষতা সম্পন্ন লোকবল। সময়ের সাথে এগুলো ওভারকাম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে, ওয়াসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অটোমেশনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক, পাইপলাইন ম্যানেজমেন্ট এবং পাম্পের রিজেনারেশনসহ পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন হচ্ছে। অপ্রয়োনীয় লোকবল কমিয়ে সেই অর্থ দিয়ে সেবারমানোন্নয়ন ঘটানো সম্ভব।
জানতে চাইলে ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পানি উত্তেলন ও সরবরাহে কিছুটা ব্যঘাত ঘটছে। অটোমেশনের বিষয়টি যেহেতু রাজশাহী ওয়াসার সাথে নতুন সংযোজিত হয়েছে; তাই লোকবল কমানোর বিষয়টি কিছুটা সময়সাপেক্ষ। তবে ডিজিটাল এই সেবার কারণে হয়তো একসময় অপ্রয়োজনীয় লোকবল কমতেও পারে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শ্যামপুর ‘সার্ফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ ও অন্যান্য পাম্পগুলোর মাধ্যমে প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণ পানি উত্তোলন ও সরবরাহ হচ্ছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে।
রাজশাহী ওয়াসা সূত্র মতে, প্রতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা আদায় করতে ব্যর্থ হয় ওয়াসা। এর অন্যতম কারণ হিসেবে সূত্র বলছে অদক্ষ ব্যবস্থাপনা আর হাজার হাজার অবৈধ গ্রাহক। যদিওবা মাঝেমধ্যেই ওয়াসা কর্তৃপক্ষ অবৈধ গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন করার কাজটি করে থাকেন। বৈধ সংযোগ গ্রহীতা তথা নগরবাসীকে পানি সরবরাহের জন্য প্রতি বছর গড়ে বিদ্যুৎ বিলখাতেই ওয়াসার খরচ হচ্ছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। নাগরিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে সরকার গত চার-পাঁচ বছরে এই খাতে ভর্তুকি দিয়েছে প্রায় ১০০ কোটির উর্দ্ধে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris