শনিবার

৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বে প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি হল ভ্যাকসিন, মানবদেহে সফল পরীক্ষা বাগমারার তাহেরপুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ পাবনায় নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে : শিল্পমন্ত্রী নওগাঁ সীমান্তে বিএসএফ’র পুশইনের অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিলো বিজিবি তানোরে যেভাবে প্রাণ গেলো ৭টি গরুর তানোরে খাল পুনঃখনন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ি সীমানে ২৮ জনকে পুশইনের আপচেষ্টা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা-প্রশিক্ষণে অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তির সাহায্যে ভুল-অপতথ্যের প্রচার মোকাবিলা এখন বড় চ্যালেঞ্জ : তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের মিতসুই কোম্পানির প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

রাজশাহীতে গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট, অসাধু চক্রের কারসাজি

Paris
Update : সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে হঠাৎ করেই তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডারে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বাড়তি দাম দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ডিলারদের কাছ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় সংকট দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে।
বিক্রেতাদের দাবি, সীমিত পরিমাণে এলপিজি গ্যাস পাওয়া গেলেও আগের তুলনায় অনেক বেশি দামে তা কিনতে হচ্ছে। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ভোক্তারা জানান, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও যে গ্যাস সিলিন্ডার ১ হাজার ২৫০ টাকায় পাওয়া যেত, সেটিই এখন কিনতে হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৬৫০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত সাড়ে ৪০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের সংসারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
জমিস উদ্দীন নামের এক ভোক্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা হলেও তিনি কিনেছেন ১ হাজার ৫০০ টাকায়। অন্য অনেক জায়গায় এর চেয়েও বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। শাহীন মোল্লা নামের এক ভোক্তা মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, সংকটকে ঢাল করে অসাধু চক্রের কারসাজিতে রাজশাহীর খুচরা ব্যবসায়ীদের দোকানে গ্যাসের সিলিন্ডারের স্বল্লতা এখন নিয়মিত বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ওমেরা ও ফ্রেশ গ্যাস ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডার প্রায় পাওয়া যাচ্ছে না। বিকল্প ব্র্যান্ডের অভাবে ক্রেতারা বাধ্য হচ্ছেন অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনতে।
এদিকে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও চা দোকান মালিকরা জানান, এলপিজি গ্যাসের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে লোকসান গুনেও ব্যবসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। অন্যদিকে এ বিষয়ে এলপিজি গ্যাসের ডিলাররা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সংকটের সুযোগ নিয়ে একটি চক্র অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক ইব্রাহীম হোসেন বলেন, “ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজি গ্যাসের কিছুটা সংকট রয়েছে এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিষয়টি আমরা জেনেছি। গত শনিবার আমরা কয়েকটি স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছি। সম্প্রতি নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ায় এই সমস্যা আবার দেখা দিয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।” তিনি আরও বলেন, “কোন দোকানে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে—এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারব।” ভোক্তারা দ্রুত এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris