রবিউল ইসলাম, পত্নীতলা : নওগাঁর পত্নীতলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আগাছা নাশক বিষ স্প্রে করে কৃষকের জমির আমন ধান পুড়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ বিষয়ে আব্দুল কাদের বাদী হয়ে আমাইড় ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের মেহেদী হাসান ও কামরুজ্জামান (লিটন) এর বিরুদ্ধে গত শনিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার আমাইড় ইউনিয়নের শিমুলিয়া বাজার এলাকায় মাঠে জমির ধান পাকা অবস্থায় জমিতে কিছু খাড়া অবস্থায় ও কিছু ধান শুয়ানো অবস্থায় রয়েছে। মাঠের কোন জমিতে ধান নেই। ওই জমির চারিপাশে অন্যান্য মৌসুমী ফসল আবাদের কাজ চলছে পুরোদমে। জমিতে ধান কিছু খাড়া ও শুয়ানো অবস্থাতে থাকলেও কাটচে রং ও চিটা হয়ে পড়েছে পুরো জমির ধান গুলো। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক, আজিজুল হকের ছেলে আব্দুল কাদের জানান, আমি কৃষি কাজ করি। বিবাদীদ্বয়ের বাড়ী এবং আমার বাড়ী একই গ্রামে পাশাপাশি অবস্থিত। বিবাদীদ্বয়ের সাথে আমার পূর্ব হইতে জমিজমার বিষয়ে বিরোধ চলিয়া আসিতেছে। এই সম্পত্তি আমার পৈত্রিক সম্পত্তি। আমি পৈত্রিক সূত্রে পেয়ে জমিতে বিভিন্ন শস্য রোপন করে শান্তিপূর্ন ভাবে ভোগদখল করিতেছিলাম। হঠাৎ মেহেদী ও কামরুজ্জামান আমার পৈত্রিক জমি তাহাদের নিজেদের বলিয়া দাবী করে ও জোর পূর্বক জবর দখলের পায়তারা করিতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার স্থানীয় ভাবে আপোষ মিমাংশার চেষ্টা করা হয়। তারা কোন আপোষ মিমাংসা মানে না। পরবর্তীতে আমার আধা পাকা ধানের জমিতে ঘাস মারা বিষ দিয়ে তারা আমার ধান নষ্ট করে ফেলেছে। আমি কিছু বললেই বিবাদীদ্বয় আমাকে বিভিন্ন গালিগালাজ সহ হুমকী ধামকী দেয়। আজ আমি নিরুপায় আমি এর সঠিক বিচার কোথায় পাবো। ভুক্তভোগী আরেক জমির মালিক আজিজুল হক বলেন, আমি বৃদ্ধ মানুষ তেমন জমিজমা আমার নেই। মাঠের এই ৫ শতাংশ জমিতে চাষাবাদ করি। হঠাৎ একদিন কামরুজ্জামান, মেহেদী, বাচ্চু এসে আমাকে জমিতে চাষাবাদ করতে নিষেধ করে যায়। সবাই সবার জমিতে ফসল চাষ করছে শুধু আমার ৫ শতাংশ জমিটাই তারা চাষ করতে দিচ্ছে না। এই বৃদ্ধ বয়সে কোথায় যাবো বিচারের জন্য। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মেহেদী হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। তার সাথে যোগাযোগ করতে তার গ্রামে গেলেও তাঁকে পাওয়া যায় নি। এ বিষয়ে পত্নীতলা থানার ওসি (তদন্ত) আবু তালেব বলেন, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।