স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী সিটি করপোরেশনে আউট সোর্সিং পদ্ধতির মাধ্যমে লোকবল নিয়োগ নিয়ে কর্মরতদের মাঝে চলছে নানাকথন। কেউবা তুলছেন একাধিক অভিযোগ। দুইবছর মেয়াদে আটটি পদের বিপরীতে সর্বমোট ২৬ জনকে নিয়োগ দেবার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। রাজশাহী শহরে ‘সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ২৪ মাসের জন্য ‘নির্মাণ তত্ত্বাবধান এবং অন্যান্য সম্পর্কিত’ কাজের জন্য এই জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। থার্ড পার্টি বা ফার্ম/কোম্পানির মাধ্যমে আউট সোর্সিং পদ্ধতিতে কর্মী সহায়তা প্রদানের জন্য কোম্পানি নির্বাচন সাপেক্ষে দ্বিতীয় দফায় পত্রিকায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। প্রথমবার গত ৬/৭ অক্টোবর (ক্রমান্বয়ে অফিসিয়াল ও পত্রিকায় প্রকাশ) তারিখে। আর দ্বিতীয়বার পুণঃদরপত্র হিসেবে ১৬/১৮ নভেম্বর’২০২৫ তারিখে (ক্রমান্বয়ে অফিসিয়াল ও পত্রিকায় প্রকাশ)। মধ্যখানে, গত ২৩-১০-২০২৫ তারিখে কর্তৃপক্ষ অনিবার্য কারণ উল্লেখপূর্বক প্রকাশিত প্রথম দরপত্রটি বাতিল ঘোষণা করে। রাসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মাহামুদুর রহমান স্বাক্ষরিত দরপত্র বিজ্ঞপ্তি-বাতিল ও পুণঃ দরপত্রটি নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা আর আলোচনা-সমালোচনা। দরপত্র প্রকাশ নিয়ে তেমন কোন সমালোচনা ও গুরুত্বর অভিযোগ না থাকলেও আছে লোকবল যাছাইবাছাই ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার বিষয় নিয়ে। লোকবল সরবরাহের কাজটি দরপত্রের মধ্য দিয়ে কার্যাদেশ পাওয়া সাপেক্ষে কোন ফার্ম বা কোম্পানির দায়িত্ব থাকলেও লোকবল যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সুপারিশ করার এখতিয়ার থাকে কর্তৃপক্ষের বলে জানায় রাসিক সূত্র। আউট সোর্সিং পদ্ধতির নীতিমালানুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রজেক্টের পিডি (প্রকল্প পরিচালক) নিয়মানুযায়ী কর্তৃপক্ষ বলে বিবেচিত হবেন। উক্ত প্রকল্পে আগামী ২৪ মাসের জন্য ৫ জন সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ১ জন সহকারী স্থপতি, ১০ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ১ জন সার্ভেয়ার, ১৪ জন কর্ম সহকারী, ১ জন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, ২ জন ড্রাইভার (ভারী যানবাহন) ও ২ জন অফিস সহায়ক। ৮ টি পদের বিপরীতে সর্বমোট ৩৬ জন লোক নিয়োগ দেয়া হবে।
রাসিকে কর্মরতদের অনেকেই বলেন, লোকবল যাচাই বাছাই ও নিয়োগের বিষয়টির উপর প্রকল্প পরিচালকের আধিপত্য দাপ্তরিকভাবেই থাকে। সুপারিশের মাধ্যমে চাইলে তিনি যে কোন ব্যক্তিকে এই প্রকল্পে নিয়োগ দেয়া সম্ভব বলেও জানান কর্মরতরা। আর এই সম্ভাব্য সুপারিশ নিয়েই রাসিকজুড়ে চলছে নানাকথন। সুপারিশ তালিকায় অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে বিগত সময়ে রাসিকের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করা ব্যক্তিদের। যাদেরমধ্যে রয়েছে স্বৈরাচার আমলের সাবেক রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের লোকজনকে বলেও জানান কর্মরতরা। বিষয়টি ্অতিগোপনে করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ কর্মরতদের। সুপারিশের সেই তালিকা আপনাদের হাতে আছে কিনা জানতে চাইলে নাম-পদবী প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তা-কর্মচারিরা বলেন, এই ধরনের তালিকা কখনোই একটেবিল থেকে অন্য টেবিলে যায়না; এগুলোকে অলৌকিক তালিকা বলতে পারেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হবার পর সেগুলো প্রকাশ পায়। সাবেক ও পলাতন মেয়রের সময় যেসকল ব্যক্তিরা রাসিকের বিভিন্ন প্রকল্পে বছরের পর বছর কাজ করেছেন তাদেরকে নতুন এই প্রকল্পে পুণরায় নিয়োগ দেয়ার একটা অপচেষ্টা চলছে।’ তাদের মধ্যে আওয়ামী দোসর ও ৫ আগস্টের হত্যা মামলার তালিকাভুক্ত আসামীও আছেন বলেও জানান কর্মরতরা। কে বা কাহারা এইধরণের ধৃষ্টতা ও স্বজনপ্রীতির অপচেষ্টা করছে? জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক বিষয়টি বলতে পারবেন বলে পাশ কাটিয়ে যান কর্মরতরা। প্রথমবার দরপত্র আহ্বান করে সেটি ১৫-১৬ দিন বাতিল করে পুণরায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়টিও এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার বিষয়টিকে বেশ প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলেও মন্তব্য কর্মরতদের। উক্ত প্রকল্পে জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া ও রাসিকজুড়ে নানাকথনের সত্যতা সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক ও রাসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান বলেন, প্রথমবার দরপত্রটি ছিল অফলাইনে। তাই সেখানে স্বজনপ্রীতির সুযোগ ছিল। সেটি বাতিল করে পরবর্তীতে অনলাইনে দেয়া হয়েছে। তাই এখানে স্বজনপ্রীতির কোন সুযোগ নেই। জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে সুপারিশের কোন সুযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কার্যাধেশ পাবার পর সংশ্লিষ্ট ফার্ম বা কোম্পানী রাসিকের কাছ থেকে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের তালিকা চাওয়ার এখতিয়ার রাখে। কিংবা তারা নিজেরাও অভিজ্ঞ লোকবল নিয়োগ দিতে পারে। বিষয়টি তাদের বিষয়।