ওয়ার্ল্ড এক্সপোতে দর্শনার্থীদের বিস্মিত করার পর এবার জাপানে বিক্রির জন্য বাজারে এসেছে ‘মানব ওয়াশিং মেশিন’। নির্মাতা কম্পানির এক মুখপাত্র শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছেন। ব্যবহারকারীরা একটি পডের ভেতর শুয়ে ঢাকনা বন্ধ করেন, আর তারপর কাপড় ধোয়ার মেশিনের মতোই সংগীতের তালে তালে শরীর পরিষ্কার হয়ে যায়। ‘ফিউচার হিউম্যান ওয়াশিং মেশিন’ নামে পরিচিত এই যন্ত্রটির একটি প্রোটোটাইপ অক্টোবর মাসে ওসাকায় অনুষ্ঠিত ছয় মাসব্যাপী এক্সপোতে ব্যাপক দর্শক আকর্ষণ করেছিল। ওই এক্সপোতে দুই কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিল। জাপানি প্রতিষ্ঠান ‘সায়েন্স’ নির্মিত এই যন্ত্রটি আসলে ১৯৭০ সালে ওসাকায় শেষবার এক্সপো অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় প্রদর্শিত একটি পণ্যের আধুনিক সংস্করণ। এএফপিকে সায়েন্সের মুখপাত্র সাচিকো মাইকুরা বলেন, ‘তখন আমাদের (কম্পানির) প্রেসিডেন্ট বয়সে মাত্র ১০ বছরের একটি ছেলে ছিলেন, সেই সময় সেই যন্ত্রটি দেখেই তিনি অনুপ্রাণিত হন।’ তিনি যোগ করেন, এই মেশিনটি ‘শুধু শরীরই নয়, আত্মাকেও পরিষ্কার করে’, পাশাপাশি এটি ব্যবহারকারীর হৃদস্পন্দন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচকও পর্যবেক্ষণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি রিসোর্ট কম্পানি প্রোটোটাইপটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা যাবে কি না—সে বিষয়ে যোগাযোগ করার পর সায়েন্স প্রতিষ্ঠানটি এটি বাস্তব উৎপাদনে নামার সিদ্ধান্ত নেয়। মুখপাত্র জানান, ওসাকার একটি হোটেল প্রথম যন্ত্রটি কিনেছে এবং তারা হোটেল অতিথিদের জন্য এই সেবা চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, জাপানের বড় ভোক্তা ইলেকট্রনিকস খুচরা বিক্রেতা চেইন ইয়ামাদা ডেনকিও এই যন্ত্রটির ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে, যারা মনে করছে এই মেশিন তাদের শোরুমে মানুষ টানতে সহায়তা করবে। মাইকুরা বলেন, ‘এই মেশিনের আকর্ষণের একটি বড় অংশ হলো এর বিরলতা, সে কারণে আমরা মাত্র প্রায় ৫০টি ইউনিট উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছি। ’স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এর খুচরা মূল্য হবে ছয় কোটি ইয়েন (তিন লাখ ৮৫ হাজার ডলার)।-এফএনএস