স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর পবা উপজেলার আশরাফের মোড়ে বিএনপির দুই মহিলা কর্মীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামী নেতা নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সংঘটিত এই ঘটনায় নিলুফা ইয়াসমিনকে স্যান্ডেল দিয়ে মারধর করা হয় এবং তার বোন নূরবানুর পেটে লাথি মারা হয়েছে। ভুক্তভোগী নূরবানু রাতেই কাটাখালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে শহরের একটি রেস্তোরাঁয় হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের বিএনপি প্রার্থী শফিকুল হক মিলন, কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদা হাবিবা, নগর বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট ও অন্যান্য নেতা। পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রফেসর আব্দুল রাজ্জাক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নির্বাচনী প্রচারণা থেকে ফেরার পথে নুরুল ইসলাম তাদের জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। রাজি না হওয়ায় তিনি তাদের গালাগাল ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। নিলুফা ইয়াসমিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “নুরুল প্রথমে স্যান্ডেল খুলে আমাকে মারতে শুরু করেন, এরপর আমার বোনকে ঘাড়ে আঘাত করেন। শেষপর্যায়ে তিনি আমার বোনের পেটে লাথি মারেন।” তারা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছেন। বিএনপি প্রার্থী শফিকুল হক মিলন বলেন, “রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে নাগরিকদের মৌলিক নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে। কাউকে জোর করে অন্য দলের হয়ে ভোট চাওয়ানো চলবে না। এই বিষয়ে প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে হবে।” অভিযোগের বিষয়ে নুরুল ইসলাম দাবি করেন, “নিলুফা আগে আওয়ামী লীগের ভোট করেছে। এখন বিএনপির ভোটে অংশ নিচ্ছে। এ নিয়ে তর্ক হচ্ছিল। আমি শুধু তাদের একবার ধাক্কা দিয়েছিলাম। ঘটনার মাত্র এটুকুই।” কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মতিন জানান, “নূরবানু বেগমের জিডি আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের অনুমতি পেলে আমরা তদন্ত শুরু করব।”