রবিবার

৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত ডেঙ্গমুক্ত রাজশাহী নগরী গড়তে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে : রিটন রাজশাহীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা আনতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক কিশোর দেশের ৬৫ শতাংশ গ্রাহক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বাইরে থাকছেন : তথ্যমন্ত্রী বিশ্বে প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি হল ভ্যাকসিন, মানবদেহে সফল পরীক্ষা বাগমারার তাহেরপুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ পাবনায় নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে : শিল্পমন্ত্রী নওগাঁ সীমান্তে বিএসএফ’র পুশইনের অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিলো বিজিবি তানোরে যেভাবে প্রাণ গেলো ৭টি গরুর তানোরে খাল পুনঃখনন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

পোস্টারে রাগ-অভিমান নাকি আক্রোশ?

Paris
Update : মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার :বহু আকাঙ্খিত রাজশাহী মহানগর বিএনপির কমিটি নিয়ে বছরের পর বছর প্রহর গুনেছেন নেতাকর্মীরা। সেই প্রহর গণনার সমাপ্তি ঘটে গত ১লা নভেম্বর। তার একদিন পর ৩ নভেম্বর ঘোষণা আসে সদর আসনের এমপি প্রার্থীর নাম। দুই সুখবরের ঠিক মধ্যবর্তী দিনে ২ নভেম্বর রাত দশটা থেকেই আবারো শুরু হতে থাকে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সেই আগের উত্তাপ। বছরের পর বছর ধরে চলা রাজশাহী মহানগর বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকান্ড আর দলীয় সভা সমাবেশগুলোতে স্পষ্টই ফুটে উঠেছিল বিভক্তির বিষয়টি। আহ্বায়ক কমিটি নিয়েও ছিল নানা অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের ছড়াছড়ি। এখনো আছে একাধিক থানা কমিটির ঘোষণা নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা আর গ্রুপিংয়ের বিষয়টি। সেই ২০১৭ সাল থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় রাজশাহী মহানগর বিএনপির কমিটি ও আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দলটির ভেতর সৃষ্টি হয়েছিল দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আর বিভক্তি। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল ভেদাভেদ আর গ্রুপিং ভুলে মাঠ গোছানোর জন্য সদর আসনের এমপি ও মহানগর কমিটির আংশিক কমিটির নাম ঘোষণা করে কেন্দ্র; কিন্তু ঘোষণার মাত্র কয়েকঘন্টা পরেই পূর্বের চিত্রে ফিরে যাবার মতো কিছু ঘটনা অনাকাঙ্খিতভাবে ঘটে যাচ্ছে নাকি সেটি পরিকল্পিতভাবেই ঘটানো হচ্ছে সেটি নিয়ে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে শহরের রাজনীতিতে; যেটা কখনোই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন মহানগর বিএনপির তৃণমূলের সাথে রাজনীতি করা নেতাকর্মীদের অনেকেই।
২ নভেম্বর রাত দশটায় নগরীর প্রধান প্রধান সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে শোভা পায় ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশপূর্বক পোস্টার-ফেস্টুন। আর সেটি নিয়েই রাজশাহী মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে শুরু হয় সমালোচনা আর দ্বিধা-দ্বন্দ্ব। সেই আগের উত্তাপে যেনো একটু ঘি ঢেলে দেবার মতো ঘটনা ঘটে। আবার অনেকেই বলছেন, বিষয়টিতো ব্যক্তিগত। তাই এটাকে রাজনীতির পরিমন্ডলের বাইরে রাখাই ভাল। কিন্তু নেতাকর্মীদের সমালোচনা আর ফেসবুকে স্থান পাওয়া মন্তব্য, রাগ-অভিমান আর আক্রোশপূর্ণ হুঙ্কার দেখে বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে নারাজ অনেকেই। অনেকের ভয়; আবারো কি সেই পূর্বের সুপ্ত দ্বন্দ্ব আর অভিমানকে স্পষ্ট করে তোলা হচ্ছে নতুন কোন বন্ডিংয়ের এর মাধ্যমে। এমন অনেক প্রশ্ন ঘুড়ছে তৃণমূলে।
গত ২ নভেম্বর রাতে নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন ও সাংগঠণিক সম্পাদক রবিউল আলম মিলুর ছবি ব্যবহার করে মহানগর বিএনপির নামে দলটির কান্ডারি বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনপূর্বক শহরজুড়ে প্রচার করা পোস্টার-ফেস্টুন লাগানো হয়। যেখানে স্থান পায়নি সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন-এর নাম আর ছবি। আর এটি নিয়েই স্থানীয় রাজনীতির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে শুরু হয় সমালোচনা আর বিভ্রান্তি। পোস্টার আর ফেস্টুন সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলেন, পোস্টারগুলো মিলু না রিটনের লোকজন লাগিয়েছে সেটি অনেকেই অবগত নন। তবে যেই প্রচার করুক; ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে যেহেতু রাজশাহী মহানগর বিএনপির নামটি ব্যবহার করা হয়েছে সেহেতু সেখানে বাধ্যতামূলকভাবে সভাপতির ছবি দেয়াটা দায়িত্ববোধের মধ্যেই পড়ে। কারণ, রাজশাহী মহানগর বিএনপির এই কমিটি নিয়ে যেহেতু বিগত সময়গুলোতে দুভাগে বিভক্ত হয়ে দলীয় কর্মকান্ড চালিয়েছেন তারা, তাই একসুতোই গাথা নতুন এই কমিটির কোন কর্মকান্ড যেনো প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেদিকে সর্বোচ্চ নজর দেয়া উচিত ছিল। বিষয়টি মধ্যদিয়ে প্রত্যক্ষভাবেই কোন কোন নেতাকে বাইপাস করার একটা অপপ্রয়াস চালানোর চেষ্টা হয়তো চালানো হয়েছে বলেও মন্তব্য অনেকের।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইতোমধ্যেই বিষয়টি স্থান করে নিয়েছে। একব্যক্তি তার ফেসবুক পেইজে আক্ষেপ প্রকাশ করে ঠিক এভাবেই লিখেছেন, ‘গ্রুপিংটা কত নিষ্ঠুর হতে পারে! সেক্রেটারি ও সাংগঠণিক সম্পাদক আছে; সভাপতির দোষ কোথায়?’ এই শুভেচ্ছাবানী সম্বলিত পোস্টারগুলো নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করতে গিয়ে লিখা হয়েছে, “সামনে কিন্তু কঠিণ সময়। এখন যদি গ্রুপিং বন্ধ করা না যায় তাহলে বিএনপির কপালে দুঃখ আছে। শুধু বিএনপির কপালে নয়; যারা গ্রুপিং করছো তারা রাজশাহীতে ঠিক মতো চলাফেরা করতে পারবা না। …. চামড়া থাকবে না (ড্যাশ ড্যাশ এর স্থলে অসামাজিক ও নোংরা একটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে)। পিঠের চামড়াও থাকবেনা মনে রেখো।” পোস্টার আর ফেস্টুনগুলো নিয়ে এমন সমজাতীয় অভিযোগ আর অভিমান শহরজুড়েই বইছে গত রবিবার (২ নভেম্বর) রাত দশটার পর থেকেই।
বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য ও মূল্যায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও নতুন ঘোষিত কমিটির এক নং সদস্য এরশাদ আলী ঈশা বলেন, এ বিষয়ে কোন মন্তব্য আমি করবোনা। এটা তাদের বিষয়। কেনো তারা এমন করলো সেটা তারাই জানে। রাজনৈতিক দূরদর্শীতার অভাব কিংবা অগ্যতার সাথে বিষয়টি যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি আবারো বলেন, এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করবোনা। তবে তিনি শুধু এটুকু বলেন, সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান রিটন ও সাংগঠণিক সম্পাদক রবিউল আলম মিলু এরা দুজনেই মহানগর বিএনপিতে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন। জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর বিএনপি নতুন কমিটির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাইনা’। বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য জানার জন্য নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনকে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris