ইউসুফ চৌধুরী : “ওরে নিপীড়িত, ওরে ভয়ে ভীত, শিখে যা আয়রে আয়, দুঃখ জয়ের নবীন মন্ত্র- সমবায়, সমবায়” জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর একটি বিখ্যাত গান যা ‘সমবায় সংগীত’। এটি শুধু গানই নয়, বরং একটি বৈষম্যহীন সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতীক, যার বাস্তব রুপ দিতে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য পূরণে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও সমানভাবে কাজ করছেন। তাঁরা প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষতা অর্জন করে বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন। নিজে উদ্যোগ নিয়ে ব্যবসাসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে বিক্রয় করছেন। উদ্যোক্তা হয়ে গৃহীত প্রকল্পে সৃষ্ট্রি হয়েছে নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যেরও কর্মসংস্থান। প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারীদের এভাবেই আলোর মুখ দেখাচ্ছেন রাজশাহীর পবা উপজেলার ‘বড়গাছি মহিলা সমবায় সমিতি লি:’। আর সমিতির নারীদের এই উন্নয়নে সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছেন, মাধবপুর গ্রামের নারী উদ্যোক্তা ‘বড়গাছী মহিলা সমবায় সমিতি’র সভাপতি মোসা. মনিরা বেগম। তিনি দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি স্বাবলম্বী করতে এলাকার নারীদের সমিতির সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করছেন। তাঁরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শ্রম ও প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছেন সমবায় সমিতি, বদলেছেন নিজেরসহ অন্যের জীবন। সামাজিক সেবা নিয়ে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সদস্যদের পবিবারে লাগছে উন্নয়নের ছোঁয়া। তাঁর দক্ষ নের্তৃত্বে, পরামর্শে ও আর্থিক ঋণ সহযোগিতায় সদস্যদের পরিবারগুলো হয়েছে আত্মনির্ভরশীল, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। তিনি অসাধারণ এক সমবায়ী, এলাকার নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা। নারীর ক্ষমতায়ন কার্যক্রমের একটি উজ্জ্বল ও যোগ্য উদাহরণ, ইতিবাচক প্রভাবের বহিঃপ্রকাশ। আর সমিতির সদস্যদের এই উন্নয়নের নেপথ্যে রয়েছে, উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের তদারকি, হেইফার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের অর্থায়ন এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়ন। তাদের উদ্যোগ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সমিতির দাযিত্বরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ। উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাঁরা সবাই এই উন্নয়ন কর্মকান্ডের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। সমিতির অফিসসুত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসের ২০ তারিখে ২০ জন সদস্য একত্রিত হয়ে জেলা সমবায় কার্যালয় হতে ‘বড়গাছী মহিলা সমবায় সমিতি লিঃ’ নিবন্ধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। ছয় সদস্য বিশিষ্ট ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয়ে নারীদের নিয়ে কাজ করছেন সমিতিটি। বর্তমানে সমিতির নারী সদস্য প্রায় ১২’শ জন। ১৮ কাঠা জমির ওপর রয়েছে সমিতির নিজস্ব অফিস ভবন। শেয়ার আছে ১৮ লাখ টাকা এবং সঞ্চয় আছে ৩৬ লাখ টাকা। সমিতির মুলধন প্রায় কোটি টাকার অধিক। সমিতির সদস্যরা শুধুমাত্র একজন সদস্য না, তাদের প্রত্যেকটি সদস্যই একজন মালিক। সমিতির মাধ্যমে পরিচালিত ঋণ কার্যক্রম থেকে সদস্যরা ঋণ নিয়ে যে লাভ হয় এবং ব্যবসা পরিচালনা করে যে লাভ হয় সেই লাভের অংশ তাঁরা সবাই পায়। সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে নারীরা বিভিন্ন ছোট ব্যবসা, কৃষিকাজ, হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন করছেন। তাঁরা স্বাবলম্বী হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সফলতার মূখ দেখছেন। ধারাবাহিক সাফল্যের ফলস্বরুপ এই সমিতি জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে ‘সফল সমবায় সমিতি’ ও উদ্যোক্তা হিসেবে সভাপতি পেয়েছেন ‘সফল সমবায়ী’ পুরস্কার।
সমিতির সদস্য নাজমা বেগম বলেন, ‘২০১৬ সালে সমিতিতে ভর্তি হয়ে সদস্য হন। সমিতি থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ দিয়ে চারটি ছাগল কিনে দিয়েছিল। এখন ২৫টি ছাগল, ১০টি মা ছাগল এবং বাচ্চা ও খাসী ছাগলসহ ১৫টি ছাগল।’
সমিতির নির্বাহী সদস্য মোসা. রুমিয়া বেগম জানান, ‘আমি একজন সাধারণ গৃহিণী আগে বাড়ী থেকে বের হতে পারতাম না, সংসারের কাজ করতাম। সমিতির মাধ্যমে একতাবদ্ধ হয়ে সংসারের কাজ সামলিয়ে সামাজিক ব্যবসা করি এবং লাভবান হয়।’
সমিতির সদস্য মোসা. হাসিনা বেগম জানান, ‘তিনি নতুন তরুণী উদ্যোক্তা। একসময় তিনি ঝরে পড়ে গিয়েছিলেন। তার পাশে সে সময় বড়গাছী মহিলা সমবায় সমিতি দাড়িয়েছে এবং উঠে দাড়াতে সাহায্য করেছে। তাঁর মুরগীর খামারে ১২’শ মুরগী আছে। সব সমস্যা কাটিয়ে তিনি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা।’
সমিতির নির্বাহী সদস্য মোসা. রুবিনা বেগম জানান, ‘তিনি একজন কেঁচো (ভার্মি-কম্পোস্ট) খামারী। খুব ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। সমিতির মাধ্যমে কেঁচো সার তৈরির ট্রেনিং করি। পাঁচ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছিল, তা দিয়ে ১০টি চাড়ি স্থাপন করি। উৎপাদনকৃত সার বিক্রয় করে এখন ১০০টি চাড়ি স্থাপন করেছি। প্রতি মাসে গড়ে ১০ মন করে সার তৈরি হয়। এখন আমি ঋণমুক্ত।’ সমিতির সদস্য মোসা. রুবিনা বিবি বলেন, ‘সমিতি থেকে পুষ্টিবাগানের উপর ট্রেনিং নিয়ে বাড়ীর সামনে পতিত জায়গায় বাগান তৈরী করি। সেখানে শাক-সবজি লাগিয়েছি। দৈনন্দিন জীবনে যে পুষ্টির চাহিদা তা মেটাতে পারছি। আত্মীয়-স্বজনকে দিয়ে বাকীটা বিক্রয় করে সঞ্চয় করতে পারি।’
সমিতির সদস্য ও ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি মোসা. খাদিজা বেগম জানান, ‘আমরা সমিতি থেকে সামাজিক ব্যবসা প্রসারের জন্য মিল স্থাপন করেছি। এখানে ধান, গম, গো-খাদ্য, হলুদ, মরিচ, মসলা ও সরিষার তেল ভাঙ্গাতে পারবে। বিভিন্ন পন্য উৎপাদন করে ব্যবসাসহ এলাকাবাসী সুবিধাভোগ করবে।’
সমিতির সহ-সভাপতি মোসা. রেনুকা বেগম জানান, ‘আমি কেঁচো (ভার্মি-কম্পোস্ট) খামারী। সার উৎপাদন করতে গোবর লাগে। তখন আমার গরু ছিল না, বাহির থেকে গোবর কিনতে হতো। পরে সমিতির সভাপতি মনিরা বেগমের পরামর্শে পঞ্চাশ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে গরু কিনি। মাসে ১০/১২ হাজার টাকার সার বিক্রয় হয়। এখন পাঁচটি গরু আছে। যা আয় হয় সংসার ও ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার কাজে খরচসহ স্বামীকে সহযোগিতা করতে পারি।’
সমিতির ব্যবস্থাপক কমল কুমার জানান, ‘সমিতির সদস্যদের প্রতিদিন যে টাকা আদায় হয় তার হিসাব সংরক্ষণ রাখতে সফটওয়্যারে আপডেট দিয়ে থাকি এবং আদায়কৃত টাকা ব্যাংকে জমা করি। পাশাপাশি সামাজিক ব্যবসা পরিচালনা করা হয়। গরু-ছাগলের ভ্যাকসিন, সুদমুক্ত ঋণ প্রদান, সদস্যদের কৃষি যন্ত্রপাতির উপর ৬০ শতাংশ ভূর্তুকি দিয়ে সহযোগিতা করে থাকি। সদস্যদের উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক ব্যবসা পরিচালনায় কাজ করছি।’
সমিতির সভাপতি মোসা: মনিরা বেগম বলেন, ‘২০১৫ সালে ২০ জন হতদরিদ্র নারী সদস্য নিয়ে সমবায় সমিতি গঠন করি। সেখানে পরবর্তীতে হেইফার ইন্টারন্যাশনাল এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশন আমাদেরকে সহযোগিতা করে। তাদের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া নারীদের নিয়ে কাজ করছি। সদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে উৎপাদনমূখী ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত করে উদ্যোক্তা তৈরি করেছি। নারীরা কেবল শুধু গৃহিণী নয়। তাঁরা উদ্যোক্তা হয়ে সংসারের কাজের পাশাপাশি, স্বামীরা মাঠে কাজ করছে আর তারা বাড়ীতে বিভিন্ন পন্য উৎপাদন করছে। স্বপ্ন একটাই সমিতির সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামাজিক ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে সমাজ থেকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূর করা এবং আত্ম-স্বাবলম্বী হওয়া।’
ওয়েভ ফাউন্ডেশন রাজশাহীর প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. ওসমান গনি বলেন, ‘হেইফার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের অর্থায়নে ওয়েভ ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নে রাজশাহী জেলার চারটি উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে কাজ করছে। পবা, পুঠিয়া, মোহনপুর এবং গোদাগাড়ীতে ২০টি সমবায় সমিতি আছে যা জেলা সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত এবং সদস্য সংখ্যা ১৭ হাজার ১০৭জন। ২০টি সমিতিতে প্রায় ৬০জন লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। মহিলাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চারটি ওয়্যারহাউজ তৈরি ও এগ্রোমেশিনারিজ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, ট্রাক, চপার ও থ্রেসার মেশিন, ধান ভাঙানো রাইস মিল, তেল মিল, ইনকিউবেটর মেশিন, হলুদ, মরিচ গুড়ো করার মেশিন, গরু-ছাগল পালনের জন্য আর্থিক সহযোগিতা ও সমিতি পরিচালনার ধারণাসহ আধুনিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এগুলো ব্যবহার করে তারা যেন আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে। খামারী ও কৃষকরা যেসব উৎপাদন করছে ওয়্যারহাউজ থেকে সেগুলো তাঁরা ন্যায্যমূল্যে বাজারে বিক্রয় করতে পারে। সেজন্য কোম্পানিসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ এবং সমঝোতা করে দেওয়া হয়েছে যাতে কমিউনিটির সকল মানুষ অতিসহজে সেবাগুলো নিতে এব দিতে পারে। এভাবে নিজেরা সংগঠিত হয়েছে, সমিতিতে শেয়ার, সঞ্চয় জমা করছে এবং সমিতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাঁরা সবাই সমিতির মালিক। ভবিষ্যত পরিকল্পনা এই সমিতির মাধ্যমে অন-স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু হবে যেখানে মানুষ যেন সার্বক্ষণিক সেবা পায় এই প্রত্যাশা।’ হেইফার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ডা: মো: হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সহযোগী সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে রাজশাহী রিজিওনে ৩২টি সমিতিতে কাজ করে যাচ্ছেন। দল গঠনের মাধ্যমে সমিতিগুলোকে সমবায় অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গ্রাম পর্যায়ে মহিলাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে তাদের নের্তৃত্ব বিকাশের জন্য ক্যাপাসিটি বিল্ডিং, যাতে তারা পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারে। পরবর্তীতে তাদের উৎপাদিত পন্য শাকসবজি, হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগল বিক্রয় করে যাতে বাজার মূল্য সঠিকভাবে পায়। এই সমিতিগুলো দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই হয় প্রকল্প থেকে যে সাহায্য সহযোগিতা পেত সেইগুলো যেন ভবিষ্যতে এই সমিতি থেকে পায় সেই লক্ষ্যে কাজ করছেন।’
উপজেলা সমবায় অফিসার মো. সুলতানুল ইসলাম বলেন, ‘সমবায় অধিদপ্তরের সেবাসমুহ সমিতির সদস্যদের পোঁছে দিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছি। উপজেলায় মোট প্রাথমিক সমবায় সমিতির সংখ্যা ২০৩টি, কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সংখ্যা ০৩টি। প্রাথমিক সমবায় সমিতির সদস্য সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার চার’শ ৬৬জন। উপজেলার সমিতিগুলোর মধ্যে বড়গাছী মহিলা সমবায় সমিতি অন্যতম। সমিতিটি সদস্যদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিবছর লাভজনক কার্যক্রম পরিচালনা করে সদস্যদের মাঝে লভ্যাংশ বিতরণ করে থাকে। সমবায় অধিদপ্তরের মাধ্যমে আইজিএ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ২৫জন সদস্যর আত্মকর্মসংস্থান হয়েছে। সদস্যরা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। উপজেলার এই সমিতিটি মহিলা সমবায় সমিতির ক্ষেত্রে একটি অনন্য উদাহরণ।’
নিজেদের সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনে সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে একটি টেকসই প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। সমতা ও কার্যকরী অংশদারিত্বের ভিত্তিতে উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং সামাজিক পুজি গঠনের মাধ্যমে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। সে লক্ষ্যেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সদস্যদের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছেন তাঁরা। সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে স্বাছন্দে কাজ করতে পারবেন বলে তাঁরা আশাবাদী।