স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদের অপসারণের দাবিতে স্থানীয় ঠিকাদার ও ভুক্তভোগীরা কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টায় মানববন্ধন শেষে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে প্রকৌশলীর বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করে তার অপসারণের দাবিতে স্মারকলিপি দেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারিরা।
মানববন্ধনে তারা বলেন, প্রকৌশলী হারুন রাজশাহীতে যোগদান করার পর থেকে আজ অবদি পূর্বের ন্যায় ফ্যাসিস্ট সরকারের তালিকাভুক্ত ও নিজের পরিচিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে একের পর এক কাজ দিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন ধরণের টেন্ডার কাজের কার্যাদেশ দিতে তিনি লঙ্ঘণ করছেন সরকারি নিয়মনীতি। তিনি কখনোই সরকার নির্ধারিত সিডিউল সময়ে নিজ দপ্তরে আসেননা। নিজের মনমতো করেন অফিস। মাসের পর মাস ঠিকাদারদের বিল আটকে রাখার প্রবণতা আছে আগে থেকেই। তবে, আওয়ামী পন্থিদের বেলায় বিল ভাউচার কখনোই তিনি আটকিয়ে রাখেন না। নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে না এসে নিজ বাড়িতে বসে রাতের বেলায় তিনি দাপ্তরিক ফাইলপত্রে স্বাক্ষর করেন। যদিওবা অফিসে আসেন, তখন সঙ্গে করে নিয়ে আসেন নিজ বাড়িতে পোষা বিদেশী একটি কুকুর। রাতের বেলায় অফিসের কোন না কোন স্টাফ (পুরুষ-মহিলা) কে নিজ বাসভবনে ডেকে নিয়ে সারেন দাপ্তরিক কাজ। বছরের পর বছর ধরে এভাবেই চলছেন তিনি। আওয়ামী পন্থি ঠিকাদার ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে তিনি এখনো রেখেছেন সখ্যতা। সর্বশেষ তিনি ১৮ কোটি ও ২৬ কেটি টাকার দুটি কাজ দিয়েছেন গোপালগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মনির ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কন্সট্রাকশনকে। কাজের মান নিয়েও তার বিরুদ্ধে আছে অভিযোগ।
মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, নিজের বেল্টের পরিচিত ঠিকাদারকে তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অনেক কাজ দিয়েছেন। এখনও সেই প্রবণতাই চলমান রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১৮ কোটি টাকার একটি প্ল্যানটেশনের কাজের কার্যাদেশ তিনি দিয়েছিলেন মনির ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কন্সট্রাকশনকে। গোদাগাড়ি উপজেলায় সেই কাজ শুরু হয়েছে ২০২৫ সালে এসে। সরকারি নির্দেশনা ও প্রজ্ঞাপননুযায়ী বলা হয়েছে যে, কোন ঠিকাদার বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যদি পূর্ববর্তী প্রাপ্ত কাজের কার্যাদেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে না পারে তাহলে ঐসকল ঠিকাদার বা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নতুন কের কোন কাজ দেয়া যাবেনা। কিন্তু প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ সরকারি সেই নির্দেশনা ও প্রজ্ঞাপনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবারো ২৬ কোটি টাকার আরো একটি কাজ দিয়েছেন গোপালগঞ্জের সেই মনির ঠিকাদারকে। ঠিকাদার মনির গোদাগাড়ির চলমান কাজ শেষ করতে না পারলেও কিভাবে পেলো নতুন কাজ সেটি নিয়ে রাজশাহীর স্থানীয় ঠিকাদারকে মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। রাজশাহীর পবা-পুঠিয়া ও দুর্গাপুর উপজেলাতে চলমান নতুন প্ল্যানটেশন কাজে যেসকল প্লাস্টিকের পাইপ ব্যবহার করা হচ্ছে সেগুলোর মান ও থিকনেস নিয়েও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে উঠছে নানামূখী প্রশ্ন। মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, কার্যাদেশনুযায়ী আকিজ গ্রুপের পাইপ ব্যবহার করার কথা থাকলেও সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে নকল পাইপ। নকল পাইপের উপরে আকিজ গ্রুপের সীল মারা থাকলেও সেগুলোর মান দেখেই বোঝা যায় সেগুলো নকল। পাইপগুলো রুয়েটে পরীক্ষা করার দাবিও জানান তারা।
উক্ত মানববন্ধনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তানজিলা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকার রুবেল, সারা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকার সোহাগ, শফিক এন্টারপ্রাইজের ফরহাদ, ঠিকাদার রঞ্জু, মোহন ও ফয়সাল সহ অন্যান্যরা বক্তব্যে বলেন, নগরীর ভাটাপাড়া এলাকার আওয়ামী লীগের নেতা ইকতার হোসেনের ছেলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা জনি ও ডলার এই প্রকৌশলীর নিকটতম লোক। বিভিন্ন ঠিকাদারী কাজে এই দুইজনকে সুপারভাইজার হিসেবে নিয়মিত কাজ করার সুযোগ তিনি করে দেন। প্রকৌশলীর এক আত্মীয়ের রযেছে প্লাস্টিক কারখানা। যেখান থেকে তিনি নকল পাইপ তৈরি করে ঠিকাদারকে সরবরাহ করেন। প্রকৌশলী হারুন এর আগে যেখানে কর্মরত ছিলেন সেখানেও তার বিরুদ্ধে ছিল অনেক অভিযোগ। নিজের অপকর্ম আর স্বেচ্ছাচারিতার কারণে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিকবার হয়েছেন সংবাদের শিরোনামও। মন্ত্রণালয়ে নিকট আত্মীয় থাকার কারণে অসংখ্য অভিযোগের পরেও তিনি বছরের পর রয়েছেন বহাল তবিয়তে। এই ধরণের ফ্যাসিস্ট গোত্রভুক্ত কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে স্থানীয় ও ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা একত্রিত হয়ে দাবি জানিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর এখনো আওয়ামী সখ্যতার বিষয়টি নিয়ে নিজ দপ্তর ও স্থানীয়দের মাঝে চলছে সমালোচনার ঝড়। মনক্ষুন্ন ও ক্ষোপ বাড়ছে স্থানীয় ঠিকাদারদের মাঝে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে নির্বাহ প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদের দপ্তরে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পরিছিত কোন ব্যক্তি ব্যতীত অন্যকারো ফোন রিসিভ করেন না বলেও অভিযোগ আছে।