মাসুদ রানা : রাজশাহী নগরীর হেতেমখা বড় মসজিদ এলাকার রাস্তার পাশে ময়লা আবর্জনা আর উচ্ছৃষ্ট ফেলে পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। পাচতলা বিশিষ্ট একটি ছাত্রীনিবাসের প্রতিদিনের নষ্ট হওয়া খাবার-ময়লা আবর্জনা আর পচনশীল দ্রব্য ফেলার কারনে চারফিটের রাস্তাটি এখন দুর্গন্ধে সয়লাব। প্রতিদিন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীরা ভ্যান নিয়ে এলাকা থেকে ময়লা আর্বজনা নিয়মিত নিয়ে গেলেও মেস মালিক ভ্যানগাড়িতে ময়লা আবর্জনা না দিয়ে অন্যের বাড়ির জানালার সামনে রাস্তা ঘেষে ময়লা আর উচ্ছৃষ্ট ফেলে রাখেন বলে অভিযোগ আছে। এলাকার স্থানীয় বাসান্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মেসমালিক সেলিম ক্ষমতাধর হওয়াতে স্থানীয়দের অভিযোগ কর্ণপাত করেননা।
দুর্গন্ধে অতিষ্ট হয়ে এলাকাবাসি বাধ্য হয়ে প্রথমে সংশ্লিষ্ট থাকায় অভিযোগ দিলে থানা পুলিশ এসে পরিদর্শন করে মেস মালিক নাদিমকে রাস্তার পাশে ময়লার স্তুপ করতে নিষেধ করেন। কিন্তু তাতেও কোন কাজ না হওয়াতে অবশেষে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন শাখার কর্মকর্তাকে অভিযোগ দিলে সোমবার (১৮ আগস্ট) বেলা দুইটার দিকে সিটি করপোরেশন থেকে দুজন পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সরেজমিনে এসে স্থানটি পরিদর্শন করে বিভিন্ন এ্যাঙ্গেল থেকে ছবি তোলেন। স্থানীয়দের সামনে ঐ দুই কর্মকর্তা নাসীম মহলের মালিক নাদিমকে উক্তস্থানে ময়লা আবর্জনা ফেলতে নিষেধ করেন।
স্থানটি থেকে এতোটাই দুর্গন্ধ ছড়ায় যে, একমুহুর্ত সেখানে দাড়িয়ে থাকা দায়। ঘটনাস্থলে পত্রিকার প্রতিনিধি আর রাসিক থেকে আসা কর্মকর্তাকে দেখামাত্রই অভিযুক্ত নাদিম তার বোনকে বলতে থাকে এদের ভিডিও কর। ভিডিও শেষে বেশ কিছুক্ষণ চেচামেচির পর অভিযুক্তের আত্মীয় সড়ক পরিবহন গ্ৰুপের এক নেতাকে ফোন দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানান। ঐ নেতা কিছুক্ষন পরেই প্রতিবেদককে ফোন করে বিষয়টি মিটমাট করে নিতেন বলেন। অভিযুক্তদের দাম্ভক্তি দেখে ঘটনাস্থলে বেশিক্ষণ অবস্থান করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা বলেন, এই ময়লা নিয়ে বেশি কথা বলতে গেলে নাদিম পরিবহন নেতার ক্ষমতা দেখায়। ক্ষমতা দেখিয়ে হুমকি ধামকি আর দম্ভক্তি দেখানোর বিষয়টি বেশ বিব্রতকর বলে মন্তব্য ভুক্তভোগী স্থানীয়দের। অসহনীয় দুর্গন্ধে প্রতিনিয়তই নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। তাই এলাকাবাসি এই প্রাত্যহিক ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ পাবার আশায় রাসিক কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।