মোবারক হোসেন শিশির : রাজশাহী দুর্গাপুর পৌরসদর সিংগা বাজার থেকে চৌবাড়িয়া হয়ে হোজা গ্রাম পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়কটি সংস্কারের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় চরম দূর্ভোগের স্বীকার হয়ে পড়েছে ওই এলাকার ২০ হাজার সাধারণ জনগণ। এই তিনগ্রামী ও সড়কদিয়ে যাতায়াতকারী পথচারীরা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। সম্প্রতি সরেজমিনে ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, এর বেশির ভাগ অংশে পানি জমে আছে। পুরো সড়কজুড়ে খানাখন্দে। যান চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী। সড়কটির কয়েক হাত পর পর বড় বড় গর্ত ও সৃষ্টি হওয়া খানাখন্দকে জমে আছে বৃষ্টির পানি। অনেক জায়গায় পথচারীরা যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে পার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি পৌরসভার প্রধান সড়কগুলোর একটি। এই সড়ক দিয়ে পাশের পুঠিয়া উপজেলার লোকজনও যাতায়াত করেন। নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে আট বছর আগে এটি পাকা করা হয়। কিন্তু দুই-তিন বছর যেতে না যেতেই শুরু হয় ভাঙন।
এখন বেশিরভাগ অংশই খানাখন্দে ভরা। দীর্ঘদিন ধরে দুই উপজেলার মানুষ ভাঙাচোরা সড়ক দিয়েই যাতায়াত করছেন। তারা জানায়, সড়কটি কয়েকবার মাপজোখ করা হলেও করা হয়নি সংস্কার। এখন সংস্কার না করলে বর্ষায় এর কোনো অস্তিত্বই থাকবে না।
চৌবাড়ীয়া গ্রামের ব্যবসায়ী রায়হান ইকবাল বলেন, এই রাস্তাটি খুব দ্রুত সংস্কার করা অতীব জরুরী দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নিকট অনুরোধ জানাচ্ছি রাস্তাটি পরিদর্শন করে অতিদ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করুন। রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী কলেজ শিক্ষার্থী ফয়সাল মাহমুদ শোভন বলেন, ‘এই সড়ক দিয়ে আমরা কলেজ ও দুর্গাপুর বাজারে বিভিন্ন কাজে যাওয়া-আসা করি।
কিন্তু গত দুই বছর ধরে সড়কটি এত খারাপ হয়ে গেছে যে এটা দিয়ে যাতায়াত করার কোনো উপায় নেই। গাড়িতে চড়াতো দূরের কথা, হেঁটেও যাওয়া অত্যান্ত দূস্কর। বহরমপুর গ্রামের মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা উৎপাদিত বিভিন্ন ফসল বিক্রি করার জন্য ওই সড়ক ব্যবহার করে দুর্গাপুর বাজারে যেতাম। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি খারাপ হওয়ায় গত তিন বছর ধরে অন্য সড়ক দিয়ে হাটবাজারে যাওয়া-আসা করি।’ ভ্যানচালক ফরহাদ হোসেন বলেন, সাত বছর ধরে কষ্টে আছি। এই সড়কে চলতে গিয়ে প্রতিদিন ভ্যানগাড়ি নষ্ট হয়। সড়কটি ভাঙাচোরা হওয়ায় অনেক ভ্যানচালক এ সড়কে ভ্যানগাড়ি চালাতে চায় না।
বহরমপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এ সড়কটি আরো বেশি ভেঙে গেছে। সিংগা গ্রামে জহুরুল আলম, মোজাম্মলে হক, ইউনুস আলী, জামাল কারিগরের বাড়ির সামনের সড়কে সামান্য বৃষ্টিতে সবসময় পানি জমে থাকে। এর কারণ হলো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা। এতে ওই আশে পাশের কয়েক বাড়ির ব্যবহৃত পানি সড়কের ওপর ফেলে। বাড়ির পানি আর বৃষ্টির পানি জমে থাকায় সড়কটিতে বড়বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
চৌবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সোবাহান আলী বলেন, হাটবারের দিন আসলে আমাদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। কৃষকরা তাদের পণ্য বাজারে নিতে চরম দুর্ভোগে পড়েন। রাস্তা খারাপ হওয়ায় সময়মতো যানবাহন পাওয়া যায় না। সড়কটি এতই খারাপ যে গাড়িতে যাওয়া দূরের কথা, হেঁটেও চলা যায় না। এ বিষয়ে দুর্গাপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (চলতি চায়িত্ব) শাহাবুল হক বলেন, সিআরডিপি থ্রি প্রজেক্টড্রেন এর জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এ রাস্তাটি দুর্গাপুর পৌরসভার ভিতরে কিন্তু দুর্গাপুর পৌরসভার হতে রাস্তাটি কখনো টেন্ডার হয়নি, প্রশাসক মহোদয় ও উপজেলা প্রকৌশলী এর সাথে কথা হয়েছে সামনে বাজেটে রাস্তাটি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। উপজেলা প্রকৌশলী মাসুক-ই-মোহাম্মাদ বলেন, সম্প্রতি সড়কটি পরিদর্শন করা হয়েছে। বেশ খারাপ অবস্থা দেখেছি। এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরে জানানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত সড়কটি সংস্কার হবে।